অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানুষের কল্যাণ ভাবনাতেই নিবেদিত


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রায়হান আহমেদ তপাদার

গণতন্ত্রে মানুষই বড় কথা।অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই মানুষের কল্যাণ ভাবনাতেই নিবেদিত।এই মানুষের প্রতি দায়িত্ব বোধের দ্বারা,আবার সব মানুষের দ্বারা কর্তব্য কর্ম সুচারুরূপে সম্পাদনের মাধ্যমে সমাজ সমৃদ্ধি লাভ করে। আবার এই মানুষের দায়িত্বহীনতার কারণে সমাজের সমূহ ক্ষতি সাধিত হয়। সবার সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগে সমাজ নিরাপদ বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠে। এছাড়া অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা অর্জন ব্যতিরেকে স্বাধীনতা যে নির্মল নয় একুশ শতকের এই পর্যায়ে তা বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ কথা বহুল উচ্চারিত হয়ে আছে যে, একুশ শতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নই হবে তাবৎ রাষ্ট্র ও জাতির শ্রেষ্ঠত্বের ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অন্যতম নিয়ামক। আর সে কারণে অন্যান্য অনুষঙ্গের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রসঙ্গকে এগিয়ে আনা হচ্ছে উন্নয়ন কৌশলের সব পরিকল্পনা পত্রে। অর্থনৈতিক মুক্তিকে গণতন্ত্রায়নের অন্যতম উপলক্ষ ও উপায় হিসেবে বিবেচনার দাবি সোচ্চার হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এখনো নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।বিশ্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশ ঘটেছিল এশিয়ায়। সামরিক শক্তিমত্তার পাশাপাশি দর্শন ও বিজ্ঞান চর্চার অবদান সেখানে ছিল। পরবর্তী সময়ে ইউরোপে প্রসার ঘটে এশীয় সমৃদ্ধি ও জ্ঞানবিজ্ঞান অধ্যয়ন অনুধাবনে। একে অবলম্বন করেই ইউরোপে শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হয় এবং বিশ্ব নেতৃত্ব ইউরোপের হাতে চলে যায়। এরপর ইউরোপীয় শিল্পবিপ্লবের ঢেউ আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকার উপকূলে আছড়িয়ে পড়ে।

বিগত শতাব্দীতেই আমেরিকা শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক শক্তিতে উন্নীত হয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক তথা বিশ্ব রাজনৈতিক পরাশক্তির পরিচিতিতে পৌঁছে দেয়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান-উত্তর পরিবেশে এখন তার শক্তিশালী অবস্থান মূলত অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে। একটি কল্যাণ অর্থনীতিতে সব পক্ষকে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন এবং সব প্রয়াস প্রচেষ্টায় সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক উদ্দেশ্য অর্জনের অভিপ্রায়ে অয়োময় প্রত্যয়দীপ্ত হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। একজন কর্মচারীর পারিতোষিক তার সম্পাদিত কাজের পরিমাণ বা পারদর্শিতা অনুযায়ী না হয়ে কিংবা কাজের সফলতা-ব্যর্থতার দায়-দায়িত্ব বিবেচনায় না এনে যদি দিতে হয় অর্থাৎ কাজ না করেও সে যদি বেতন পেতে পারে কিংবা তাকে বেতন দেয়া হয় তাহলে দক্ষতা অর্জনের প্রত্যাশা আর দায়িত্ববোধের বিকাশ ভাবনা মাঠে মারা যাবেই। এ ধরনের ব্যর্থতার বজরা ভারী হতে থাকলেই যে কোনো উৎপাদন ব্যবস্থা কিংবা উন্নয়ন প্রয়াস ভর্তুকির পরাশ্রয়ে যেতে বাধ্য। দারিদ্র্য পীড়িত জনবহুল কোনো দেশে পাবলিক সেক্টর বেকার ও অকর্মন্যদের জন্য যদি অভয়ারণ্য কিংবা কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রতিভূ হিসেবে কাজ করে তাহলে সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। যদি বিপুল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করা না যায় উপযুক্ত কর্মক্ষমতা অর্জন ও প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাহলে উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় বড় বিনিয়োগও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। চাকরিকে সোনার হরিণ বানানোর কারণে সে চাকরি পাওয়া এবং রাখার জন্য অস্বাভাবিক দেনদরবার চলাই স্বাভাবিক।

যদি বিপুল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করা না যায় উপযুক্ত কর্মক্ষমতা অর্জন ও প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাহলে উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় বড় বিনিয়োগও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। জাপানসহ পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে বিগত চার দশকে অর্জিত অর্থনৈতিক সাফল্য ও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একুশ শতকে এশিয়া আবার ফিরে পেতে পারে তার গৌরব। ইনফরমেশন টেকনোলজির উৎকর্ষতাই হবে অর্থনৈতিক সাফল্যের সোপান, যা নিয়ন্ত্রণ করবে বিশ্ব রাজনীতিকে। তাছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে অধিকতর উদারীকরণের লক্ষ্যে দেশে দেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের যে কর্মসূচি গৃহীত হচ্ছে তার অভীষ্টই হচ্ছে রাষ্ট্রীয় তথা বৈশ্বিক সম্পদ ও সুযোগে সবার অবারিত অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। স্বচ্ছতা ও সুশাসনের তাগিদ এসব সংস্কার ব্যবস্থাপত্রে প্রকৃতপক্ষে আমজনতার ক্ষমতায়নের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত। বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কাক্সিক্ষত এ সংস্কার ক্রমান্বয়ে আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যান্য রীতি পদ্ধতির যেমন-ইমিগ্রেশন, ইনটেলেক- চুয়াল প্রপার্টি রাইট ইত্যাদি ওপর প্রভাব ফেলবে- এ কথা বলাই বাহুল্য। পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে কিছুকাল আগে থেকে পরিলক্ষিত অর্থনৈতিক বিপর্যয় এসব দেশের নেতৃত্বকে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে যেভাবে স্পর্শ করেছে তাতে এটা স্পষ্টতর হচ্ছে যে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত না হলে সেখানে গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি টেকসই হতে পারবে না।

এমনকি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভাবনাকে করপোরেট সংস্কৃতি সম্ভাবনার বলয়ে নিয়ে যাওয়ার যে চিন্তা-চেতনা তা মানুষের মধ্যে পরস্পর প্রযুক্ততার বোধ বুদ্ধি ও উপলদ্ধিরই বহিঃপ্রকাশ, তা তো সবাইকে এক ছাতার তলায় শামিলকরণের ধারণার ও প্রয়াসেরই প্রতিবিম্ব। ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনের উদ্দেশ্য তো তাই। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার অন্তর্ভুক্তির (ইনক্লুশন) প্রয়াস ভেলিকবাজি প্রতীয়মান হবে যদি রাজনৈতিক সামাজিকভাবে পক্ষপাতিত্বের, জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের লক্ষ্যে বিচ্যুতিকরণের (এক্সক্লুশন বা আইসোলেট) প্রথা ক্রিয়াশীল থাকে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন স্বার্থচিন্তা যদি বিদেশি স্বার্থের প্রতিভূ হয়ে দাঁড়ায় তা হলে জাতীয় উন্নয়ন প্রয়াসে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে না। বিদেশি শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা অর্থবহ হবে না যদি নিজের স্বনির্ভরতা বা স্বয়ম্ভরতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষার বেদিমূলে নিবেদিত হয়। একটি শুদ্ধ সঙ্গীত সৃষ্টিতে সুরকার, গায়ক, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রীর সমন্বিত প্রয়াস যেমন অপরিহার্য তেমনি দেশ বা সংসারের সামষ্টিক অর্থনীতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সব পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া সুচারুরূপে সম্পাদন সম্ভব নয়। আধুনিক শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার বেলাতেও এমনকি যে কোনো উৎপাদন ও উন্নয়ন উদ্যোগেও ভূমি, শ্রম ও পুঁজি ছাড়াও মালিক-শ্রমিক সব পক্ষের সমন্বিত ও পরিশীলিত প্রয়াস প্রচেষ্টাই সব সাফল্যের চাবিকাঠি বলে বিবেচিত হচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের দ্বারা দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়াও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়াসকে সুসমন্বয়ের আবশ্যকতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। স্থান-কাল-পাত্রের পর্যায় ও অবস্থান ভেদে উন্নয়ন ও উৎপাদনে সবাইকে একাত্মবোধের মূল্যবোধে উজ্জীবিত করাও সামগ্রিক সামষ্টিক ব্যবস্থাপনার একটা অন্যতম উপায়।

গণতন্ত্রের জন্য যা কোনো অবস্থাতেই পুষ্টিকর পরিস্থিতি নয়। একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে কারো কারো অতি ধনী হওয়ার সুযোগ সেই অর্থনীতিতে বৈষম্য বৃদ্ধির অশনি সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। দশটি কাজের সাতটি ভালো, তিনটি মন্দ হতে পারে। ভালোকে ভালো বলে স্বীকৃতি, মন্দকে মন্দ বলে তিরস্কারের নীতিগত অবস্থানে যে কোনো আপস আত্মঘাতের নামান্তর। মন্দকে লুকিয়ে শুধু ভালোর বন্দনা এবং ভালোকে ছাপিয়ে একতরফাভাবে মন্দকে সামনে আনা সুস্থতার লক্ষণ নয় কোনো পরিবেশেই। তিরস্কার পুরস্কারে পক্ষপাতিত্ব কিংবা অন্ধত্ব অবলম্বন অর্থনৈতিক উন্নয়নেও যেমন, সমাজ সুসংগঠনের বেলাতেও সমান দুঃসংবাদবাহী।সমাজ বিজ্ঞানীরা তাই মানুষের সার্বিক উন্নয়নকে দেশ জাতি রাষ্ট্রের সব উন্নয়নের পূর্বশর্ত সাব্যস্ত করে থাকেন। সমাজের উন্নতি, অগ্রগতি ও কল্যাণ সৃষ্টিতে মানুষের সার্বিক উন্নতি অপরিহার্য শর্ত। আগে সমাজ না আগে মানুষ, এ বিতর্ক সর্বজনীন। মানুষ ছাড়া মনুষ্য সমাজের প্রত্যাশা বাতুলতামাত্র। রাষ্ট্রে সব নাগরিকের সমান অধিকার এবং দায়িত্ব নির্ধারিত আছে। কিন্তু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা অধিকার আদায়ের সম্ভাবনা ও সুযোগকে নাকচ করে দেয়। পণ্য ও সেবা সৃষ্টি না হলে চাহিদা অনুযায়ী ভোগের জন্য সম্পদ সরবরাহে ঘাটতি পড়ে। মূল্যস্ফীতি ঘটে, সম্পদপ্রাপ্তিতে প্রতিযোগিতা বাড়ে। পণ্য ও সেবা সৃষ্টি করে যে মানুষ সেই মানুষই ভোক্তার চাহিদা সৃষ্টি করে। উৎপাদনে আত্মনিয়োগের খবর নেই- চাহিদার ক্ষেত্রে ষোলোআনা- টানাপড়েন তো সৃষ্টি হবেই। অবস্থা ও সাধ্যানুযায়ী উৎপাদনে একেকজনের দায়িত্ব ও চাহিদার সীমারেখা বেঁধে দেয়া আছে, কিন্তু এ সীমা অতিক্রম করলে বাজার ভারসাম্য বিনষ্ট হবেই।

আমরা সবাই জানি, ওভারটেক করার যে পরিণাম দ্রুতগামী বাহনের ক্ষেত্রে, সমাজে সম্পদ অর্জন ও ভোগের ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রমনে একই পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে থাকে। সমাজে নেতিবাচক মনোভাবের উপস্থিতি, অস্থিরতা ও উন্নয়ন অপারগতার যতগুলো কারণ এ পর্যন্ত চিহ্নিত বা শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে এই সম্পদ অবৈধ অর্জন রোধে অপারগতা, ন্যায্য অধিকার বঞ্চিতকরণে প্রগলভতা এবং আত্মত্যাগ স্বীকারে অস্বীকৃতি মুখ্য। গণতন্ত্রের বিকাশ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যা শুভ ও কল্যাণকর নয়। সর্বত্র যৌক্তিক উপলব্ধির অবয়ব, মুক্তবুদ্ধির বলয়ে বিকাশ ও বিস্তৃতি লাভের প্রত্যাশা একুশ শতকে নেতৃত্ব প্রত্যাশী সব দেশ ও জনগণের জন্য। এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে, অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা জীবন যাত্রার মানকে, মূল্যবোধকে এমন একটি প্রত্যয় প্রদান করে, যা অন্য সব অনুষঙ্গ অনুশাসনে বা সুনীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষেত্রে যে কথা সে কথা রাষ্ট্র বা দেশের ক্ষেত্রেও। সাম্প্রতিককালে বিশ্বে যতগুলো জাতীয় স্বাধীনতা বা মুক্তি সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর মূল প্রেরণায় ছিল অর্থনৈতিকভাকে স্বাবলম্বী হওয়ার আকাক্সক্ষা, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা তথা স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বলয় থেকে রাষ্ট্রীয় সৌভাগ্য ও সুযোগকে সবার আয়ত্তে বা অধিকারে আনা। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত অবকাঠামো এবং মানবাধিকারসহ সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রের কাছ থেকে শুধু দাবিই করা হচ্ছে না বরং এসবের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির সূচকই এখন সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের প্রতি জনসমর্থন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিচায়ক।লেখক ও কলামিস্ট

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.