বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে বিশ্ব


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রায়হান আহমেদ তপাদার

বৈশ্বিক মন্দার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এখনও আমরা বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কিছু চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি।কিন্তু অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। এই পুনরুদ্ধারের চিত্রগুলো আবার সব জায়গায় একই রকম নয়।কিছু উন্নত দেশে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চিত্র ভালো পরিলক্ষিত হলেও অন্য দেশগুলোর অবস্থা দূর্বল। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর তুলনা করলে দেখা যায় এশিয়ায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার খুব দ্রুত এবং শক্তিশালীভাবে হচ্ছে যেখানে চীন এবং ভারত নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাছাড়া একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে (উন্নত এবং উন্নয়নশীল) এই পুনরুদ্ধারের গতি দেশ ভেদে ভিন্ন হচ্ছে।মিডিয়ার কল্যাণে ‘আর্থিক সংকট’ শব্দগুচ্ছ এখন বহুল প্রচারিত এবং আমাদের কাছে অনেকাংশেই পরিচিত।২০০৮ এবং তার পরবর্তী কয়েক বছরের ভয়াবহ আর্থিক সংকট কাঁপিয়ে দিয়েছিল সারা দুনিয়ার আর্থিক ব্যবস্থাকে। উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা ততটা টের পাইনি এই সংকটের ভয়াবহতা।কিন্তু উন্নত দেশগুলো তখন পার করেছে স্মরণকালের ভয়াবহতম আর্থিক বিপর্যয়।ধ্বসে পড়েছিল ওদের ব্যাংকিং ব্যাবস্থা।দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল লেম্যান ব্রাদার্সের মতো ঐতিহ্যবাহী বিনিয়োগ ব্যাংক।দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বেকারত্ব। নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল অনেক পরিবার, যারা এমনকি হারিয়েছিল মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকু।এককথায়, ২০০৮ সালের এই আর্থিক সংকটকে শুধুমাত্র তুলনা করা যায় গত শতাব্দীর ৩০ দশকের মহামন্দার সাথে, যা ভেঙে দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড।এ ছাড়াও সভ্য পৃথিবী দেখেছে আরো অনেকগুলো ভয়াবহ আর্থিক সংকট।

এসব সংকটের পিছনে নানা ধরনের কারণ দায়ী থাকলেও প্রতিটি ঘটনার মূলে গেলে দেখা যাবে যে, মানুষের সীমাহীন লোভ ডেকে এনেছে এই অচিন্ত্যনীয় দুর্ভোগ। প্রশ্ন আসতেই পারে, আর্থিক সংকট আসলে কী? খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে, আর্থিক সংকট হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যার ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সম্পদ খুব দ্রুত তার মূল্য হারায়। উদাহরণস্বরুপ আমরা বলতে পারি পুঁজিবাজারের কথা। পুঁজিবাজারে যেসব শেয়ার লিস্টেড থাকে সেগুলো যদি কোনো কারণে দ্রুত মূল্য হারায় তাহলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই তখন চেষ্টা করে তার বিনিয়োগ করা অংশ বিক্রি করে দিয়ে যতটা কম সম্ভব ক্ষতি স্বীকার করে বাজার থেকে মূলধন তুলে আনার। ফলে বাজারে আরো বড় পরিসরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আরো দ্রুত এই বাজারে লিস্টকৃত শেয়ারগুলো মূল্য হারায়। মূলত, আর্থিক ব্যবস্থা একটি চমৎকারভাবে সাজানো বৃত্তাকার চক্র, কোনো কারণে এই চক্রের কোনো অংশের স্বাভাবিক পরিচালনায় গোলমাল হলে পুরো ব্যবস্থার উপরে এর প্রভাব পড়ে। এরকম দুটো আর্থিক সংকট, যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল সমসাময়িক আর্থিক ব্যবস্থা আর ডেকে এনেছিল সীমাহীন দুর্ভোগ, দারিদ্র এবং মানবিক বিপর্যয়। অন্যদিকে ওপেক হলো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট যার বেশিরভাগ সদস্যই আরব। ১৯৭৩ সালের চতুর্থ আরব-ইজরায়েল যুদ্ধের সময় ইজরায়েলকে উদার হাতে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ওপেকভূক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের তেল রপ্তানীতে অবরোধ আরোপ করে। এই অবরোধের ফলাফল ছিল ভয়াবহ।

প্রশ্ন জাগতে পারে, ঐ সময়ে তাহলে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে এত ঋণ কেন দেওয়া হয়েছিল।এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল।যেমন,সেই আমলে এটা ধরে নেওয়া হতো যে,একটি দেশ কখনো ঋণখেলাপী হতে পারে না।কারণ দেশের সরকার জনগণের ওপর করারোপ করতে পারে এবং সেই করের বা ট্যাক্সের টাকা দিয়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে এটা সত্য হলেও বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন।যেমন কিছুদিন আগেও (২০০৯/১০ সালের দিকে) গ্রিস তার জাতীয় ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, যার ফলশ্রুতিতে পুরো ইউরো অঞ্চলে ছড়িতে পড়েছিল আর্থিক সংকট যা ইউরোপ অঞ্চলের সার্বভৌম ঋণ সংকট নামে পরিচিত। ঐ সময়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা আর মেক্সিকোর মতো দেশগুলো উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো এবং এই দেশগুলোর বেগবান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে তাল মেলানোর জন্য দরকার ছিল বিপুল অবকাঠামোগত উন্নয়ন।এই বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়েছিল বৈদেশিক ঋণ দিয়ে। কিন্তু একটা সময় গিয়ে দেখা গিয়েছিল,অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঋণ পরিশোধ করার জন্য যথেষ্ট নয়।ওপেক তেল সংকটের সময় আরব দেশগুলো তেল বিক্রি করে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিল সেটাই আবার আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি করেছিল। ব্যাংকগুলো সেই অতিরিক্ত তারল্য বিনিয়োগ করেছিল তখনকার সময়ের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল বিনিয়োগ অঞ্চল লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে। তবে এভাবে উদার হাতে ঋণ দিয়ে কোনো দেশকে কোণঠাসা করে সেখানে নিজস্ব প্রভাব বলয় সৃষ্টি করাও অনেক পুরোনো একটি কৌশল এবং সেটাও এই সংকটের পেছনের একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এমনকি জাতিসংঘ বর্তমানে চরম অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। এমন পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়টি ১৯ ও ২০ অক্টোবর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে অর্থ সংকটের কারণে গেল সপ্তাহে সদর দপ্তরের ভেতরে থাকা এসি ও এসক্যালেটরসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। আর এবার পুরো সদর দপ্তরই দুদিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অর্থের ওপরই নির্ভরশীল জাতিসংঘ। রাষ্ট্রগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করার কারণেই তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে সংস্থাটি।জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, গত এক দশকে এমন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হয়নি জাতিসংঘকে। ৬০টি দেশের কাছ থেকে জাতিসংঘের প্রাপ্য অর্থ এখনো আদায় করা যায়নি। ফলে চলতি অর্থ বছরে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মেরভিন কিং বলেছেন,ধীরে ধীরে নতুন আর্থিক সংকটের দিকে বিশ্ব যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তা গণতান্ত্রিক বাজার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে পরিচালিত করবে।তিনি বলেন,রাজনৈতিক পরিবেশ সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কম সময়ই এতটা তিক্ত ছিল। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ,হংকংয়ে অব্যাহত আন্দোলন-ধর্মঘট, আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলোয় সংকট এবং ইউরোর ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়ে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক তিক্ততা এ সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে।

বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, তা দেশটির স্বদিচ্ছা প্রকাশের যে ইতিহাস রয়েছে তার বিপরীত। এ ছাড়া উৎপাদনের একটি বিকৃত ছাঁচের মাধ্যমে বিশ্ব আজ একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে প্রবেশ করেছে।শুধু প্রকৃতিই যে বিরূপ হয়ে উত্তপ্ত করেছে পৃথিবী, তা নয়।উত্তপ্ত রাজনীতি,অর্থনীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যবোধ।বিশ্বজুড়ে চলছে অস্ত্র উৎপাদন,বিপণন এবং সংগ্রহের প্রতিযোগিতা।বাড়ছে উদ্বাস্তুর সংখ্যা।চলছে অর্থনৈতিক অবরোধের এক মহাযজ্ঞ।দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা।এই ভারসাম্যহীনতা পুরো বিশ্বকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে,এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও এ কথা সত্য,এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাণিজ্যে যে একটা ধস নেমে আসবে,তা সহজেই অনুমেয়।মুষ্টিমেয় কয়েকটি ধনী দেশের অনৈতিক কর্মযজ্ঞের কারণে ভুগতে হবে বিশ্বকে। এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ আরেজকি বলেছেন,২০৫০ সাল নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (মিনা) অঞ্চলের জনসংখ্যা বর্তমানের দ্বিগুণ হবে।তার মতে,এ অঞ্চলের কোনো কোনো দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বয়স ৩১ বছরের কম। ২০৫০ সাল নাগাদ মিনা অঞ্চলের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে অতিরিক্ত ৩০ কোটি মানুষ।একই সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলের অধিকাংশ দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে। ঠিক এ রকম এক মুহূর্তে বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধিকে সঠিক পথে প্রবাহিত করতে সক্ষম হয়েছে। আর সে কারণেই বলতে হচ্ছে, এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে ঝুঁকতে হবে ব্যাপক শিল্পায়নের দিকে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ এ সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

সমস্যাটি শুধু বিশ্বের ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়বে।বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। বাংলাদেশকেও এর বাইরে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এ সমস্যা মোকাবিলার জন্য প্রবৃদ্ধির ওপর কড়া নজরদারির প্রয়োজন। প্রবৃদ্ধি যেন কোনোক্রমেই পড়ে না যায়,সে ব্যাপারে রাষ্ট্রকে অনেক বেশি যত্নশীল হতে হবে।একটি বাণিজ্য অবরোধের কারণে চীনের প্রবৃদ্ধিতে যে অবনমন ঘটেছে,তাতে চীনের অর্থনীতিও বেশ বিপাকের মধ্যে পড়েছে।পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর যে বাড়তি শুল্ক বসাতে যাচ্ছে,তাতে বিশ্ব বাজার ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে।এ ছাড়া রয়েছে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের খড়্গ।একই সঙ্গে রয়েছে আরো অনেক দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার আগাম হুশিয়ারি এবং চারপাশে শোনা যাচ্ছে যুদ্ধের দামামা বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতির দেশগুলো কোনভাবেই দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি বা বড় অর্থনীতর দেশগুলোর নেতিবাচক নীতি থেকে মুক্ত নয়, যার ফলস্বরূপ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি বড় অংশকে এরা প্রভাবিত করে। আর তাই জি-২০ এর মতো সম্মেলনে স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য এই ছোট দেশগুলোকে একসাথে খুব জোরালো ভাবে যুক্তি তুলে ধরতে হবে এবং ঐ সমস্ত নীতি (শিথিল নীতি যা অবাধ তারল্য বৃদ্ধি করে বুদবুদের অনুকুল পরিবেশ তৈরি করে) বর্জন করতে হবে যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ধ্বংসের কারণ (যেমন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শিথিলতা এবং অপর্যাপ্ত নিয়মকানুন ও রক্ষণাবেক্ষণ)।বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্য এবং স্থিতিশীলতার নিরাপদ পথ খুব সহজ হবে যদি বৈশ্বিক তারল্য বৃদ্ধিটাকে বৈশ্বিক জিডিপি’র সাথে যে কোনভাবে একটা সংযোগ স্থাপন করা যায় বা বৈশ্বিক জিডিপি বৃদ্ধি বা হ্রাসের সাথে সাথে বিপরীত চক্র অনুসরণ করে তারল্যের অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাহার নিয়ন্ত্রণ করবে।লেখক ও কলামিস্ট

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.