লন্ডনে এটিএন বাংলার উদ্যোগে শতকন্ঠে এগিয়ে যাওয়ার গান


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

    স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
    সত্যবাণী

    লন্ডন: বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রা ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশীদের সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে এটিএন বাংলা ইউকের উদ্যোগে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে শত কন্ঠে এগিয়ে যাওয়ার গান। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১শ নবীন-প্রবীন শিল্পী একসঙ্গে দেশের গান গেয়ে উদযাপন করেন দেশে-বিদেশে বাঙালীর সাফল্য। 

    এ উপলক্ষে ১৬ই নভেম্বর শনিবার লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি হল হয়ে উঠছিলো ব্রিটেনের সেইসব নবীন-প্রবীন শিল্পীদের মিলন মেলা, যাদের কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, কেউ কেউ দেখেছেন, আবার কেউ কেউ বাঙালীর সর্বশ্রেষ্ঠ এই অর্জনের উত্তরাধিকার বহন করছেন। ১শ জন নবীন-প্রবীন শিল্পী, যারা একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের জনপ্রিয় গান একসাথে একই মঞ্চে গেয়েছেন, তাদের মধ্যে যেমন ছিলেন প্রবীন শিল্পী ঠিক তেমনি ছিলেন ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের শিল্পীরা। 

    পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন এটিএন বাংলার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর উর্মী মাজহার। গ্রুপ সঙ্গীত নির্দেশনায় ছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী ফজলুল বারী বাবু।

    শত কন্ঠে গানের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ঠা ড. গওহর রিজভী, তথ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব আব্দুল মালেক, ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রোশনারা আলী, বাংলাদেশে ব্রিটেনের সাবেক হাই কমিশনার আনেয়ার চৌধুরী ও ব্যবসায়ী মুকিম আহমেদ। 

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন এটিএন বাংলা ইউকের প্রধান নির্বাহী হাফিজ আলম বকস।

    ড. গওহর রিজভী ব্যাতিক্রমী এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য  এটিএন বাংলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আন্দোলন, সংগ্রাম, দেশের জন্য আত্মাহুতিশহ শত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই বাঙালি সাফল্য উদযাপন করে, এটিএন বাংলার আজকের অনুষ্ঠান সেটিই আবার স্মরণ করিয়ে দিলো। 

    তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, শত কন্ঠে এগিয়ে যাওয়ার গানে উপস্থিত থাকতে পারে নিজেকে সৌভাগ্যবান দাবি করে বলেন, ‘দেশের বাইরে বসবাসরত বাঙালী যে দেশকে কিভাবে বুকের মধ্যে ধারণ করে সেটিরই প্রমান আজকের এই অনুষ্ঠান।এমন একটি উদ্যোগ প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে।’

    এমপি রোশনারা আলী তাঁর বক্তৃতায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশীদের সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সাফল্যের গৌরব শুধু বাংলাদেশের নয়, ব্রিটেনেরও। এই সাফল্য দুদেশের ঐতিহাসিক পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।

    হাই কমিশনার মুনা তাসনিম অনুষ্ঠানের শিল্পী ও দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দুটো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, কি সৌভাগ্যবান আপনারা।’ তিনি বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ফসল বাংলাদেশ আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বসভায় সমাদৃত, শতকন্ঠে এগিয়ে যাওয়ার গানের মাধ্যমে আজ সে সাফল্যই উদযাপন করছি আমরা।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের আজকের এগিয়ে যাওয়ার সব সংগ্রামে আপনাদের ইতিবাচক ভূমিকা বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত স্মরণ করে’।

    অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তা বলেন, ‘আমাদের সন্তান যারা প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করতে এরকম অনুষ্ঠান তাদের সাহস যোগাবে’। 

    এটিএন বাংলা ইউকে’র সিইও হাফিজ আলম বক্স সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে মূল শেকড়ে ফিরিয়ে নেয়ার চিন্তা থেকেই আমাদের শত কন্ঠে মুক্তির গান প্রোগ্রাম। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এটি করেছি। এটিএন সিইও বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু মুক্তি সংগ্রামের জন্য বাঙালিদের তীলে তীলে প্রস্তুত করার পরই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। শত কন্ঠে মুক্তির গানের মত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মকেও আমরা ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করতে চাই।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে লন্ডনে প্রথম শতকন্ঠে মুক্তির গান অনুষ্ঠান আয়োজন করে এটিএন বাংলা ইউকে। এবার দ্বিতীয় বারের মত অনুষ্ঠিত হলো শতকন্ঠে এগিয়ে যাওয়ার গান।

    Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.