অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুপরিচিত বুলি গণতন্ত্র


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রায়হান আহমেদ তপাদার

বর্তমান গণতন্ত্র হলো অন্যের অধিকারকে কেড়ে নেওয়ার জন্য একটা অতি সুপরিচিত বুলি। যেহেতু বুঝে হোক আর না বুঝে হোক রাষ্ট্রের নাগরিকরা গণতন্ত্র পছন্দ করে,সেই জন্য কোনো রাষ্ট্রচালককে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য শক্তিধররা এই গণতন্ত্রের স্লোগানকে বেশ ভালোভাবে ব্যবহার করে।তবে এটাও সত্য,রাষ্ট্র যদি নিজে তার জনগণকে কথা বলতে না দেয়,তাহলে তো বুঝতে হবে রাষ্ট্র নিজেই অত্যাচারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।এমন রাষ্ট্রের ধরনকে বদলে দিতে রাষ্ট্রের জনগণকে অনবরত সংগ্রাম করে যেতে হবে। রাষ্ট্রের জনগণ কি একত্রে ভুল করতে পারে? পারে,আবার পারেও না।তবুও ভালো হলো রাষ্ট্রের জনগণকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে দেওয়া।যতক্ষণ না পর্যন্ত মত প্রকাশ ধ্বংসাত্মক রূপ না নেয়,ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রেরই উচিত মানুষের মত প্রকাশকে উৎসাহ দেওয়া।কিছু লোকের সিদ্ধান্ত ভুল হওয়ার আশঙ্কা বেশি।আর একক সিদ্ধান্ত দু-একবার শুদ্ধ হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।তাই রাষ্ট্র যদি কল্যাণমুখী হয়, তাহলে জনগণের মতামত নেয়।শলাপরামর্শ করে এর শাসকরা রাষ্ট্র চালান।কল্যাণ রাষ্ট্রে সরকারের লোকেরা শাসন করেন না,তাঁরা রাষ্ট্র চালান।এবং চালাতে গিয়ে চিরদিন কেউ দায়িত্বে না থেকে অন্যদের দায়িত্ব প্রদানে আগ্রহী হন।সমাজ-রাষ্ট্র তখনই ভালো চলবে,যখন এর অধিবাসীরা ভালো লোক হয়।বিচারক-প্রশাসক,শিক্ষক-প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আসবেন তো সমাজের চালকদের থেকেই।সমাজের লোকেরা যদি পচে যায়,তাহলে এসব পদের লোকেরাও পচা লোক হবে। এমনকি সমাজের লোকেরা স্বাভাবিকভাবে একটা ন্যায়ের কাঠামোর মধ্যে থাকবে।কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর সামাজিক বাস্তবতা যেন ভিন্ন আঙ্গিকে পরিচালিত হচ্ছে।

কোনো ছোট রাষ্ট্র তার সম্পদের জন্য উপযুক্ত মূল্য চাইলে ওই রাষ্ট্রের চালককে হয় হত্যা করা হয়,নতুবা উত্খাত করা হয় এবং উত্খাত করে বলা হয় ওই রাষ্ট্রচালক স্বৈরাচার ছিলেন।তাঁকে তো উত্খাত করা হয়েছে গণতন্ত্র আনার জন্য।বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থা নিয়ে অনেক লোকই চিন্তিত।আমরা ছোট একটা রাষ্ট্র গঠন করেছি সত্য, তবে রাষ্ট্রের ভেতর ন্যায়ের অবকাঠামোগুলো যেন গড়ে তুলতে পারিনি আজকের দুনিয়ায় এ পৃথিবী নামক গ্রহটিতে যে পরিমাণ দেশ তথা জাতি রয়েছে তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব সংস্কৃতি,সমাজব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক সমাজব্যবস্থার সাথে অন্য সমাজব্যবস্থার এতই পার্থক্য রয়েছে যে,কোন কোন সময় এক জাতি বা সমাজ অন্য জাতি বা সমাজকে আপন করে নিতে পারে না।এরও অনেকগুলো কারণ আছে।প্রধানত সমাজব্যবস্থা প্রভাবিত হয় ধর্ম,খাদ্যাভাস,নিয়মনীতি এবং পরিবেশ দ্বারা।থাইল্যান্ড,কোরিয়া এসব দেশের খাদ্যতালিকায় ব্যাঙ, কেঁচো, কুকুর,শামুক, সাপ ইত্যাদি রয়েছে।অথচ ভারত,বাংলাদেশ,নেপাল এসব দেশের লোকদের খাদ্যতালিকায় কখনো এ বস্তুগুলো থাকে না।তাছাড়া ব্যবহৃত পোশাকের মধ্যেও রয়েছে পার্থক্য।যেমন- থাইল্যান্ড,কোরিয়া,জাপান ইত্যাদি দেশের লোকদের পোশাক বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান ইত্যাদি দেশের লোকদের মত নয়। যদিও সর্বজনীন পোশাক হিসেবে প্রতিটি দেশের লোকেরা পেন্ট, শার্ট পরিধান করে থাকে।আর আচার-আচরণের দিক থেকে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।যেমন জাপানের লোকেরা অন্য কোন ব্যক্তির সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য সম্বোধন করে মাথা নিচু করে। আর বাংলাদেশ,ভারত ইত্যাদি দেশের লোকেরা পরিচিত হওয়ার জন্য সম্বোধন করে হাত তোলে। এ সব কারণে সমাজব্যবস্থাও ভিন্ন হয়।

আর ধর্মীয় আচার-আচরণ, রীতি-নীতির মধ্যে ভিন্নতা তো রয়েছে। অতএব এ সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, আদিম কাল থেকে সমাজের ক্রমবিকাশ হলেও স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বিভিন্ন অবস্থার কারণে সমাজব্যবস্থা ভিন্ন হয়। আসলে প্রাচীন কাল থেকে মানুষ প্রকৃতিকে ভয় করতো। প্রকৃতির রূঢ় আচরণে মানবজাতি ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার কারণে প্রকৃতির মধ্যে এক অদৃশ্য শক্তি খোঁজ পায়। এ অদৃশ্য শক্তি থেকে বাঁচার জন্য এবং নিজের ও বংশধরদের রক্ষার জন্য মানুষ পরস্পরের সাথে মেলামেশা করে বসবাস করতে শুরু করে। এরূপ বসবাস থেকে মানবজাতির সমাজব্যবস্থার উৎপত্তি। সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার পিছনে প্রধানতম উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে জীবনচক্রকে পরিচালনা করা। কিন্তু নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে সমাজব্যবস্থা পরিচালনা করতে গিয়ে নিজদের মধ্যে কতগুলো অলিখিত নিয়ম চলে আসে। বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে এরূপ প্রথা যখন চলে আসে তখন এক মানবগোষ্ঠীর সাথে আর এক মানবগোষ্ঠীর প্রথাগত নিয়মের বিভিন্নতা দেখা দেয়। একই সাথে এক গোষ্ঠীর চলাফেরা, কথাবার্তা, খাদ্যাভাস ও বিভিন্ন বিধি ব্যবস্থা অন্য গোষ্ঠীর সাথে পার্থক্য হয়ে যায়। ফলে প্রতিটি গোষ্ঠীর মধ্যে স্বাতন্ত্রবোধ গড়ে উঠে। এ কারণে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমাজব্যবস্থা তথা সমাজের নিয়মনীতির পার্থক্য হয়ে যায়। এরূপ নিয়মনীতির পার্থক্য যখন প্রকট হয়ে উঠে তখন এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠী থেকে নিজদের আলাদা মনে করে। ফলে গোষ্ঠীভিত্তিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এমন কি একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধে পরাজিত গোষ্ঠী কোন কোন সময় ধ্বংস হয়ে যায়। অথবা পরাজিত গোষ্ঠীর লোকজনকে নিজদের অধীনে নিয়ে আসে।

এমনকি গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে একাধিক লোকের মৃত্যু কোন কোন সময় মানুষের মনকে আন্দোলিত করে তোলে মানুষ চিন্তা করতে শিখে যে, মৃত ব্যক্তিটিও মানুষ। তাঁকে মানুষের মর্যাদা দেয়া উচিত।এখান থেকে শুরু হয় মানবতা।অবশ্য মানবজাতির মধ্যে এরূপ মানবতা বোধের উন্মেষ হতে সময় লেগেছে কয়েক হাজার বছর।সত্যি কথা বলতে কি,ন্যায়বিচারবিহীন অর্থনীতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারে না। ন্যায়বিচারবিহীন সমাজব্যবস্থায় অর্থনীতিতে যে ক্রমপ্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়,এ ক্রমপ্রবৃদ্ধি খেয়ে ফেলে এই ন্যায়বিচার হরণকারীরা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩৭ লাখ।এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৩ শতাংশ।
কিন্তু যে দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকার ওপরে সে দেশে এখনো ২০ শতাংশ লোক দরিদ্রসীমার নীচে বসবাস করে, তা কখনো হতে পারে না।অথচ বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনগণের মধ্যে এখনো ২০ শতাংশ লোক দরিদ্রসীমার নীচে বসবাস করে।তা যদি সত্য হয়,তবে কেন? তথ্য কি সঠিক নয়। না। প্রতিটি তথ্যই সঠিক। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যে, মাথাপিছু আয়ের সমবন্টন হচ্ছে না।এ দেশের সমরাটরা অধিকাংশ লোকের মাথাপিছু আয়কে খেয়ে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়। এ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের আয়কে তারা বিদেশেও পাঠিয়ে দিচ্ছে। সেকেন্ড হোম তৈরি করছে বিদেশে। ফলে অর্থনীতির অগ্রগতি তেমন চোখে পড়ছে না।যেদিন সমাজ ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করা যাবে সেইদিন অর্থনীতির অগ্রগতি আরো দ্রুত হবে। কারণ পৃথিবীর সকল সমাজব্যবস্থার মধ্যে কিছু না কিছু শিক্ষার আলো প্রবেশ করেছে।

তাছাড়া শিক্ষা মানুষের অন্তরনেত্রকে খুলে দেয়। এবং জাতীয়তাবোধের কারণে সমাজ ব্যবস্থার নিয়মনীতি ভিন্ন হলেও মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয়েছে মানবতাবোধ আর এ মানবতাবোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে ন্যায়বিচার।ন্যায়বিচার কি? রাষ্ট্র দ্বারা স্বীকৃত আইন পর্যালোচনা করার ভেতর দিয়ে একজন লোককে সংবিধানিক অধিকার লাভ করার সুযোগ করে দেয়াটাই হলো ন্যায়বিচার।এ ন্যায়বিচার দুইভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।সমাজব্যবস্থায় নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিরা নিরপেক্ষভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে একজন অধিকারবঞ্চিত ব্যক্তিকে তাঁর অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এরূপ ন্যায়বিচার দেখা যায়।বিশেষ করে সৎ এবং পরিচ্ছন্ন সমাজে এরূপ ন্যায়বিচার দেখা যায়।কিন্তু সমাজব্যবস্থা যখন অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়, সমাজের গণতান্ত্রিক কাঠামো যখন দুর্বল হয়ে যায়, একশ্রেণির ব্যক্তিরা যখন একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভ করে,রাষ্ট্রের সমাজব্যবস্থা যখন অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায় তখন ন্যায়বিচার প্রাপ্তি জনগণের পক্ষে সম্ভব নয়।এ অবস্থায় ন্যায়বিচার সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে বিচার বিভাগের ওপর। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, যে দেশের জনগণ খুবই দরিদ্র, যাদের নূন আনতে পান্তা ফুরায়, তাদের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের নিকট ন্যায়বিচার চাওয়াটা কিছুতেই সম্ভব নয়। কারণ বিচারবিভাগের নিকট ন্যায়বিচার চাইতে গেলে উক্ত ব্যক্তিকে বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হয়।কিন্তু এত টাকা খরচ করার মত সামর্থ্য এই দরিদ্র জনসাধারণের নেই। অতএব এ দরিদ্র ব্যক্তিরা নীরবে অন্যায়কে সহ্য করে আর ন্যায়বিচার হারানোর বেদনায় কাতর থাকে। তাঁদের নিশ্চুপ গভীর হৃদয়ের কান্না হয়তো রাষ্ট্রের উচ্চমহলের কানে পর্যন্ত পৌঁছেনা।কাজেই তাদের নিশ্চুপ কান্নার মধ্যে থাকে এক দীর্ঘশ্বাস।যেখানে থাকে হৃদয়ের গভীর ক্রন্দন।এ দুঃখ নিয়ে তারা সমাজব্যবস্থায় বেঁচে থাকে।

বিশ্বের বর্তমান পদ্ধতি দুর্বল মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারবে না।যারা সবল,তারা দুর্বলদের অধিকার আগেও কেড়ে নিয়েছে, আজও কেড়ে নিচ্ছে।প্রথমে তাদের দরিদ্র করে রাখা হয়। দরিদ্রদের মজদুর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।আর যখন মজদুরেরও প্রয়োজন হবে না,তখন বলা হয় তোমাদের পরিচিতি নেই,তোমরা অন্য জায়গা থেকে এই রাষ্ট্রে এসেছ।তোমরা হয় তোমাদের জন্য চিহ্নিত নিরাপদ স্থানে থাকো,নতুবা অন্য রাষ্ট্রে চলে যাও।তোমরা কোনো রকমের ভোটাধিকার পাবে না।অন্য অধিকার পেলেও সেগুলো হবে অনেক সীমিত।রাষ্ট্র নিজেই জুলুম-নির্যাতন করে তার নিজের সীমানার মধ্যে বাস করা দুর্বল সম্প্রদায় গুলোর ওপর।পৃথিবীতে এখন কয়েকটা বড় রাষ্ট্র আছে।বড় বলতে ক্ষমতার দিক দিয়ে বড়।আবার কিছু রাষ্ট্র অত বড় না বলেও বড় রাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে এরা অনবরত ছোট রাষ্ট্রগুলোকে ধমক দিয়ে চলেছে।ছোট রাষ্ট্রগুলোর সম্পদকে এরা অতি তুচ্ছ মূল্যে কিনে নিতে চায়।বরং একেক সময়ে মনে হয়, যেটুকু ন্যায়ের অবকাঠামো ছিল সেটুকুও আমরা ভেঙে বাহুবলে শক্তিশালী কিছু লোকের সেবায় পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিয়োজিত করছি।ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান লাগে।যেমন-বিচার বিভাগ।এই প্রতিষ্ঠানের পদে পদায়িত লোকেরা লোভ-লালসা,ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়বিচার করবেন।রাষ্ট্রের মূল কাজই হওয়া উচিত ছিল দুর্বলের স্বার্থকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা।কিন্তু সত্য হলো,আজ রাষ্ট্র অর্থাৎ কিছুসংখ্যক সবলের পক্ষ নিয়ে বেশির ভাগ মানুষকে শোষিত হওয়ার পথ সুগম করে দিচ্ছে।অনেকেই নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখে আফসোস করেন।কিন্তু রাষ্ট্র নিজেই তো নৈতিক মূল্যবোধের অনুঘটক গুলোকে ধ্বংস করছে।পৃথিবীতে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় এবং আবার রাষ্ট্র ভেঙেও যায়।রাষ্ট্রের ধরন একেক সময়ে একেক রকম হয়। এটাই বোধহয় বাস্তবতা।শিক্ষাবিদ ও কলাম লেখক

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.