খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ


নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।এর ফলে তার জামিনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের খারিজ আদেশ বহাল রইল।বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বৃহত্তর আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে মেডিকেল বোর্ডকে তার অধিকতর চিকিৎসা (অ্যাডভান্স বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট) করানোর জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আদালত সর্বসম্মতভাবে নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হলে আদালতের কাছে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর।পরে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন।আর জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো.খুরশীদ আলম খান।শুনানি শেষে আইনজীবীরা জানান,মেডিকেল রিপোর্টে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা বা ‘অ্যাডভান্স বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট’ এর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এর আগে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জুলাইয়ের ৩১ তারিখে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছিলেন।এরপর ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন তার আইনজীবীরা।আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১৪০১ পৃষ্ঠার ওই আপিল আবেদন দাখিল করা হয়।ওই আপিলের শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন আপিল আদালত।

উল্লেখ্য,এপ্রিলের ৩০ তারিখে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন উচ্চ আদালত।একই সঙ্গে হাইকোর্ট অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেছিলেন।এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।গত বছরের ২৯ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে এ মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।মামলার বাকি সব আসামিকেও একই সাজা দেওয়া হয় এবং ট্রাস্টের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘোষণা করেন আদালত।সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত এ মামলায় হাইকোর্টে জামিন না পেয়ে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.