মাতৃভাষা শিক্ষার সুযোগ রক্ষার দাবীতে ১৯ ফেব্রুয়ারী পূর্ব লন্ডনে বিক্ষোভ


নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডনঃ যুক্তরাজ্যস্থ তৃতীয় বাংলা নামে পরিচিত টাওয়ার হ্যামলেটসের ৪১ বছরের পুরানো কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস রক্ষার দাবীতে এলায়েন্স অফ টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি অর্গানাইজেশন্স উদ্যোগে সার্ভিস ইউজারদের নিয়ে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত ২৬ জানুয়ারী রবিবার পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেন্স রোড়স্থ হাসান রাজা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক হাজী আতিক মিয়া এবং যুগ্ম আহবায়ক শাহানুর আহমদ খানের পরিচালনায় সমাবেশে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী,তাদের অভিভাবক,স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কাউন্সিলারগন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়,উক্ত সার্ভিসের অধীনে বাংলাসহ ১১টি ভাষায় প্রায় ১৫ শতাধিক শিশু-কিশোররা ৪৩টি কমিউনিটি সংগঠনের অধীনে আফটার স্কুল ক্লাসে লেখা পড়া করে আসছে। এতে শিক্ষা দিচ্ছেন প্রায় শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা।এই সার্ভিস রক্ষার দাবীতে ৪৩টি কমিউনিটি সংগঠন একাত্বতা ঘোষণা করে এলায়েন্সের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।উক্ত সভায় অধিক সংখ্যক বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনগুলির প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।তারা অনেকেই এলায়েন্সের সদস্য আর কেউবা এই ইস্যুতে তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যেসব সিন্ধান্ত গৃহীত হয়,সেগুলো হচ্ছে ১.আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী কাউন্সিলের বাজেট মিটিং এ দাখিলকৃত পিটিশনের পক্ষে সি এল এস রক্ষার দাবী উত্থাপন করা হবে।২. ১৯ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৫টায় টাউন হলের সামনে ছাত্র-ছাত্রী,মা-বাবা,কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কমিউনিটির সর্বস্তরের জনগনকে নিয়ে বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। ৩. স্থানীয় এমপিদের সাথে মিটিং করা হবে এবং তাদেরকে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিসের জন্য প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্য আনার দাবী করা হবে।৪.এই এলায়েন্স কমিউনিটির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ভবিষ্যতেও কাজ করবে।৫.কাউন্সিল সি এল এস-কে ইন্ডিপেনন্ডেন্টলি রিভিউ,ফুল সার্ভিস ইভালুয়েশন, ফুল ইক্যুয়ালিটি ইমপেক্ট এনালাইস ও কার্যকরী কনসালটেনশন করার দাবী করা হয়।

উল্লেখ্য যে গত বছরের মাঝামাঝি ‘সেইভ কমিউনিটিজ,সেইভ সার্ভিসেস‘এর মাধ্যমে এই কমিউনিটি এলায়েন্সের যৌথ আন্দোলনের ফলে সি এল এস-এর মেইনস্ট্রিম গ্রান্টকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।এদিকে ২০১৯ সালের ১৮ই ডিসেম্বরে এই এলায়েন্সের পক্ষ থেকে দুইজন স্কুল ছাত্র-ছাত্রী,দুইজন অভিভাবক এবং টাওয়ার হ্যামলেটেসের ইউনিয়নের প্রতিনিধি মি: জন ম্যাকলালিন সি এল এস রক্ষার দাবীতে কেবিনেট সভায় বক্তব্য রাখেন।পরবর্তীতে এলায়েন্সের পক্ষ থেকে ৮ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল বিগত ১৬ই জানুয়ারী মেয়র জন বিগস,কেবিনেট মেম্বার,জনৈক এডভাইজার এবং ডায়রেক্টরের সাথে কাউন্সিলে একটি সভা হয়।সভাতে প্রতিনিধিরা সি এল এস রক্ষার যৌক্তিক দাবীগুলো তুলে ধরেন এবং একাডেমিক ইয়ারের মধ্যখানে সার্ভিস বন্ধ করার সিদ্ধান্তে হতাশা ব্যক্ত করেন।এসময় প্রতিনিধিরা উক্ত সার্ভিসকে অব্যাহত রাখার জন্য দাবী জানান এবং কাউন্সিলে তারা শীঘ্রই পিটিশন দাখিল করবেন যাতে করে কাউন্সিল তাদের সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করে এই সার্ভিসকে কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে রেখেই ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখবেন।

কমিউনিটির এই প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন,এটা আমাদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার দাবী,যা তাদের মেইনস্ট্রিম স্কুলের ফলাফলে সাফল্য এনে দেয়। এমনকি এটা ছেলে মেয়েদেরকে অসামাজিক কার্যকলাপ,ড্রাগ,গ্যাং ফাইট,নাইফ ক্রাইম,এক্সক্লুশন থেকেও বিরত রাখে। তাই মাত্র ৬০০ হাজার পাউন্ড সঞ্চয় করে কাউন্সিলের লাভের চেয়ে ক্ষতি হবার সম্ভাবনাই বেশী।উল্লেখ্য যে,ইংল্যান্ডের মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস বরায় সবচাইতে বেশি শিশু (৪২%) দারিদ্র্য,টিনেজ প্রেগনেন্সি,লো-ইনকাম ফ্যামেলিজ, স্কুলগুলোতে গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ এমনকি কোনো কোনো স্কুলে ৯০ শতাংশের বেশী বাংলা ভাষী ছেলে -মেয়ে থাকা সত্বেও কাউন্সিল কেমন করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে,তা তাদেরকে পুণর্বিবেচনা করা নিতান্ত প্রয়োজন।টাওয়ার হ্যামলেটসের মেইনস্ট্রিম স্কুলগুলো এখনো কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজকে মেইনস্ট্রিম স্কুল কারিকুলামে ঢুকাতে নারাজ,এমন কি কোন কোন স্কুল তাদের কারিকুল্যাম থেকে বাংলা ভাষাকে দীর্ঘদিন পড়ানোর পরও বাদ দিতে যাচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত ভাষা শিক্ষা পছন্দের তালিকা থেকে বাংলা ভাষাকে বাদ দেয়া হয়,আর মা-বাবার সাথে কার্যকরী আলোচনা তো দূরের কথা।এখানে অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন যে,এসো শিখি বাংলা,ক্যাম্পেইন ফর বাংলা ইন মেইনস্ট্রিম স্কুল ক্যাম্পেইন দীর্ঘদিন করার পরও কাউন্সিল ঐ ভাষাকে স্কুলে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।এলায়েন্সের পক্ষ থেকে কমিউনিটির শিক্ষানুরাগী এবং সর্বস্থরের নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস রক্ষার জন্য কাউন্সিলের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে তারা বলেন,এই এলায়েন্স কারো বিপক্ষে নয় আর রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির মুখ্য উদ্দেশ্যও নয় বরং আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে তাদের নিজ মাতৃভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াস মাত্র।

সভায় বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলার পুরু মিয়া,কাউন্সিলার তারেক খান,কাউন্সিলার রাবিনা খান,সাবেক কাউন্সিলার খলিল কাজী এমবিই,স্পানিস কমিউনিটি এক্টিভিস্ট জর্ডি মারডিয়াল,টাওয়ার হ্যামলেটেসের ইউনিয়ন প্রতিনিধি জন ম্যাকলালীন,জিএসসি ইস্ট লন্ডনের সাবেক ট্রেজারার ও কমিউনিটি নেতা গোলাম কিবরিয়া,সাবেক কাউন্সিলার শাহ আলম,ভয়েস ফর জাস্টিসের মাওলানা রফিক আহমদ, সর্ব ইউরোপিয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র ভাইস চেয়ার আফজল হোসেন সিদ্দিক মিয়া,স্টিফোর্ড সাপ্লিমেন্টারি স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুলেমান আহমদ,সাংস্কৃতিক সংগঠক আব্দুল আজিজ,আইল অফ ডগ বাংলাদেশী কার্লচারাল এসোসিয়েশনের সহ সাধারণ সম্পাদক নোমান চৌধুরী,লেবার পার্টি মাইল্যান্ড ওয়ার্ডের চেয়ার লিলু আহমদ,বো বেঙ্গলি ফোরামের চেয়ার আখলাকুর রহমান,সেন্ট পিটার্স বেঙ্গলি এসোসিয়েশনের চেয়ার আতিক মিয়া,গ্লোডেন বাটার ফ্লাই এসোসিয়েশনের সাজ্জাদ মিয়া,মাইল্যান্ড বেঙ্গলী এসোসিয়েশনের আমির উদ্দিন,সেন্ট পির্টাস সাপ্লিমেন্টারি স্কুলের চেয়ার ফজলুর রহমান,রেড কোর্ট মস্ক এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের গিয়াস উদ্দিন,বো ইস্ট উইমেনস এন্ড কার্লচারাল সেন্টারের চেয়ার সাইদা বেগম,পপলার কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের ট্রেজারার মশরুর আহমদ,হোয়াইটচ্যাপল কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের আলবিন সামস চৌধুরী,স্পানিস ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের কারমিন মৌর্স, কমিউনিটি নেতা ও ব্রিকলেইন ট্রাস্টের ওসমান গনি,শাহজালার মস্ক এন্ড কার্লচারাল সেন্টারের সাবেক চেয়ার গোলাম কাদের চৌধুরী,সদস্য এম এ রব,বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকে এর সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম চৌধুরী, সিনিয়র শিক্ষক সুফিয়া আক্তার,ফরজানা রহমান,শামসুন্নাহার এমরান চৌধুরী,সাব্বির চৌধুরী,শাহানারা খাতুন,মুমিনুল ফারুকি,বাহা উদ্দিন,আলেয়া রানি,মাহমুদা সুজি,আশরাফ চৌধুরী,মো:বারো ভূঁইয়ান সহ অনেকে।এছাড়াও সুমালী কমিউনিটি নেতা ইসমাইল সালাহ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ওয়ালিদ আহমদ চৌধুরী,ফারুক আহমদ,নাঈমা আক্তার,প্রমিতা সরকার প্রমুখ। তাছাড়া একাত্মতা ঘোষণা কারি, সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম- ইষ্ট এন্ড কমিউনটি স্কুল,উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী,বাউন্ডারী কমিউনিটি স্কুল,স্টিফোর্ড সেন্টার,লাইম হাউজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন,লান্সবারী এডুকেশন এন্ড মুসলিম এসোসিয়েশন, কালেক্টিভ অব স্কুল গভর্ণরস ও লন্ডন জামে মসজিদ বাংলা স্কুলসহ আরো অনেক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.