ছাতকে ভালবাসা দিবসে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিক অবরোদ্ধ


শামীম আহমদ তালুকদার
সত্যবাণী

সুনামগঞ্জ থেকেঃ সুনামগঞ্জের ছাতকে জরুরী রোগী নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসাতালে যাওয়ার কথা বলে এক সিএনজি চালককে ডেকে নিয়ে ২৪ ঘন্টা ধরে বাড়িতে অবরোদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত অনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়নের এলংঙ্গি গ্রামের আরজ আলীর বাড়ীতে এ ঘটনাটি ঘটে।অবরোদ্ধ সিএনজি চালক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারন বাজার সংলগ্ন বড় সৈঁদের গাঁও গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে ও এক সন্তানের জনক সামছুল ইমলাম।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,এলংঙ্গি গ্রামের আরজ আলীর মেয়ে ঝরনা আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সামছুল ইসলামের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল।বুধবার পারিবারিক ভাবে ঝরনা আক্তারের বিয়ে দিনক্ষন নির্ধারন করার জন্য এক বর পক্ষ আসার কথা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, সরযন্ত্রমুলক ভাবে এক সন্তানের জনক হতদরিদ্র সামছুল ইসলামকে ফাঁসাতে গিয়ে কৌশলে হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে বাড়ীতে নিয়ে আটকে রাকা হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে তার করে তার প্রথম স্ত্রী স্বপ্না বেগমের অনুমতি ছাড়াই হতদরিদ্র সিএনজি চালক সামছুল ইসলামের সাথে ১০ লাখ টাকা মোহরানা নির্ধারন পূর্বক ঝরনা আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন করার জোর অপচেষ্টা চলছে।সামছুল ইমামের পরিবার সুত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার বিাগত রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে খাওয়া শেষে যখন সবাই ঘুমানোর প্রস্ততি নিচ্ছিলেন তখন সিএনজি চালক সামছুল ইসলামের মোঠোফোনে একটি কল আসে।ফোনে কথা বলে শেষ করে তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে বলেন আমি একটি রোগীর টিব নিয়ে কৈতক হাসপাতালে যাচ্ছি বলে বেরিয়ে পড়েন।রাত আনুমানিক ২ টার দিকে সামছুল ইসলামের পরিবারের নিকট মোঠোফোনে কল করে জানানো হয় সিএনজিসহ সামছুল এলংঙ্গি গ্রামে আটক রয়েছে।এ বিষয়ে সামছুল ইসলামের স্ত্রী স্বপ্না বেগম অবরোদ্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার স্বামীকে হামপাতালে যাওয়ার কথা বলে ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে ফাঁসানো হয়ে।এই মেয়েকে জোর পূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হলে ঘরে উঠতে দিবনা।

সামছুল ইসলামের ছোট ভাই ইংলিশ অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র এনাম বলেন, আমার ভাই এমন কান্ড করতে পারেন বিশ্বাস করিনা। ভড় একটি ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছেন। পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমার টিউশনির টাকা দিয়ে কিস্তিতে একটি সিএনজি গাড়ী কিনে দিয়েছি।কিস্তির টাকা একরো পরিশোধ করা হয়নি। অভাবের সংসার কোন রকম বেঁচে আছি। নিজের লেখা পড়ার খরছটাও চালাতে হয়।ঝরনা আক্তারের চাচা আরজক আলী অবরোদ্ধ রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কি আর বলার আছে। যা ঘটার তা ঘটে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের গ্রামের একজন মারা গেছন।আমরা সবাই মৃত্যুর খবর পেয়ে সে বাড়ীতে চলে যাই।রাত প্রায় ১২ টার দিকে এসে দেখি সামছুল রুমে বসে আছে। সে এখনো বসে আছে। কাজী সাহেব এসেছেন। লেখা লেখি করছেন।খুরমা উত্তর ইউনিয়েনের কাজী মশহুদ আহমদ বলেন,আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। মেয়ে পক্ষকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ছেলের প্রথম স্ত্রীর অনুমতিপত্র আনতে বলেছি।আপদত আমি একটা ড্রাফট করছি। তারা বলেছেন আগামী রোববার অনুমতি পত্র দিবেন।অনুমতিপত্র পেলে বিয়ে রেজিষ্টার্ড করা হবে।গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান আখলাকের মোঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে রিসিব না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিএনজি চালক সামছুল ইসলাম অবরোদ্ধ রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.