কেমন আছে হাওরপারের ক্ষতিগ্রস্থ ছাত্রছাত্রীরা?


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_4153

আব্দুল মোনায়েম নেহরু

 

দেশবাসী সবাই জানি এ বছর ফাল্গুন মাসেই দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের ৭টি জেলার একমাত্র ফসল বোরো ধান অতিবৃষ্টির ফলে পানির ঢলে ও মনুষ্য সৃষ্ট সংকটে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এসকল এলাকা সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটের হাওরপারের মানুষজন চরম দূর্দশার মধ্যে পড়েছেন। এই দূর্দশাগ্রস্থ লোকের সংখ্যা কমবেশি ০১ কোটি ১০ লক্ষ (২৪ লক্ষ পরিবার)। এ সকল লোকজনের জীবনধারনের খাদ্যসামগ্রীর চরম শূণ্যতা। এসকল এলাকার গবাদিপশু গরু, ছাগল, ভেড়ার খাবারের সংকটও চরম। কৃষক ধান গাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার পর খড় হিসেবে যা পেতো তাই হতো গবাদিপশুর অন্তত ৬মাসের খাবার। কাঁচা ধান গাছ পঁচে গিয়ে হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি পেয়ে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় মরেছে মাছ-হাঁস। আপাতত পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই মরক আর নেই। মাছের প্রজণনের জন্য চাই নতুন মাছের পোনা হাওরে ছেড়ে দেয়া। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এধরণের কোন কার্যক্রম চোখে পড়ছেনা। যদি সরকার কর্তৃক এ ব্যাপারে ত্বরিৎ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে এ বৎসর মাছের সংকট দেখা দেবে চরমভাবে-এ সকল এলাকায়।

ঐসকল জেলাসমূহের মানুষ বৈশাখ মাসে বোরো ধান উঠার পর পরবর্তী ফসল চাষের পূর্ব পর্যন্ত বেকার থেকে আনন্দ-ফুর্তি করে বেড়ায়। এই সময়েই ছেলে বিয়ে করানো হয়, মেয়ে বিয়ে দেয়া হয়। ছেলেমেয়েদের পরিবার পরিজনের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনে দেয়া হয়। কিন্তু এবারের ছোট-বড় সকল কৃষক, ক্ষেতমজুর, দিনমজুর, জেলে সবার মাথায় হাত। তাদের মনে প্রশ্ন কি খেয়ে বাঁচবে তাঁরা? তাঁদের গবাদিপশুই বা বাঁচবে কি করে। যদিও ইতোমধ্যেই অনেক কৃষক পানির দামে অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকার গরু ৩০/৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। হাওরে মাছও ধরার সুযোগ নেই। এই চরম দূরবস্থায় পতিত মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু তা সেই ভাবে হচ্ছেনা। এই অবস্থায় হাওরপারের শিক্ষার্থীদের কি অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। দু’বেলা খাবার ক্ষমতা যাদের লোপ পেয়েছে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। সুকান্তের ভাষায়, “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়”। এ অবস্থায়, ঐসকল এলাকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখার স্বার্থে যা আশু করণীয় :

১. হাওরপারের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল-কলেজের যাবতীয় বেতন-ফি মওকুফ করা ও ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণাদি খাতা-কলম সরবরাহ করা।
২. এ বছর হাওরপারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিনা ফিতে কলেজে ভর্তির সুযোগ দেয়া।
৩. হাওরপারের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা দেশের বিভিন্ন পাবলিক/বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে তাদের জন্য সকল প্রকার শিক্ষাবেতন ও ফি মওকুফ করা।
৪. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবানুযায়ী হাওর এলাকায় আবাসিক স্কুল-কলেজ নির্মান।
৫. কিন্তু ৪ নং ক্রমিকের বিষয়টির ওপর ব্যবস্থা গ্রহন করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই বর্তমানে হাওরপারের যে সকল গ্রামে ৫০/৬০ জন ছাত্রছাত্রী পাওয়া যায়, সে সকল গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা।
৬. বর্ষা কালে হাওরের প্রতিটি স্কুল-কলেজের জন্য বড় নৌকার ব্যবস্থাকরণ-যে নৌকা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়া করবে।
৭. স্কুল-কলেজে দুপুরে ফিডিং কর্মসূচির ব্যবস্থা করা, যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা অন্তত একবেলা খেতে পারে।

উপরোক্ত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করার মূখ্য দায়িত্ব পালন করতে হবে সরকারকে। নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিত্তবান মানুষ উপরোক্ত ব্যবস্থাদি গ্রহনে অবদান রাখতে পারেন।
আমাদের মনে রাখতে হবে, হাওরের মানুষকে কষ্টে রেখে রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রগতি কোনভাবেই সম্ভব নয়।

লেখক: রাজনীতিক

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *