ব্রিভ্রান্তিকর তথ্য ও মিডিয়ার জবাবদিহীতা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_4259                               

হেফাজুল করিম রকিব 

 

যতটুকু বুঝি ও জানি এখনও মানুষ মিডিয়ার উপর আস্থা রাখে । কিন্তু মিডিয়া কর্মী ও প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু সাধারণ মানুষের এই আস্থার মূল্য দিচ্ছি বা তাদের উপকারই কতটুকু করতে পেরেছি?

গত কয়েক বছরে বড় ঘটনা ও দুর্ঘটনা কাভার করার সুযোগ হয়েছে অনেক। কাভার করতে গিয়ে ভুলও করেছি যেমন, ঠিক তেমনি অনেক কিছু শেখারও সুযোগ হয়েছে।এই সুযোগে অভিজ্ঞতার ভান্ডারও সমৃদ্ধ হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সাংবাদিকতা একটু অন্য রকম। পৃথিবীর সব জায়গায় সাংবাদিকতা এখন অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ । পাশাপাশি আছে সরকারের নানা নীতিমালা । যুক্তরাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে অফকম সব কিছু মনিটরিং করে। চাইলে ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো যেমন তেমন করতে পারে না, এরপরও কি সরকারের প্রভাবমুক্ত থাকে?মোটেও না । যুক্তরাজ্যের এথনিক কমিউনিটিতে সাংবাদিকতা মোটেও সহজ নয় । তথ্য পেতে অনেক কষ্ট হয় । যাকে বলে বিবিসি নির্ভর সাংবাদিকতা। বড় বড় ঘটনাগুলোতে বেশির ভাগ সময় বিবিসির উপর নির্ভর করতে হয় এবং প্রশাসন বিবিসিতে যে তথ্য দেয় তার উপর নির্ভর করতে হয়। চাইলে কাল্পনিক বা অজানা সূত্রের তথ্য এখানে ব্যবহার করা যায় না। যাক মূল কথায় ফিরে আসি। সোমবার রাতে আগুন ধরে গ্রেনফিল টাওয়ারে। যার হতাহতের সংখ্যা অনেক। মোট সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। সেই দিন সকালে অফিসে থেকে ফোন আসল।  গ্রেনফিল টাওয়ারের তথ্য জানাতে, আমি যতটুকু পেরেছি তথ্য দিয়েছি।
অফিস থেকে বলা হলো ভাই, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে স্ক্রল যাচ্ছে ১০ জন মারা গেছে। অথচ আমি তখন পর্যন্ত তথ্য পেয়েছি ৬ জন। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সবগুলো সাইটে ক্লিক করলাম। দেখলাম কোথাও সেই তথ্য নেই । অথচ বাংলাদেশে বসে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রিম মানুষ মারা শুরু করলেন । মাঝে মধ্যে দেখা যায় তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি থাকা অবস্থায় অন্য জনের ভুল তথ্য ব্যবহার করা হয়। যা ঐ প্রতিনিধির জন্য খুবই লজ্জাজনক। তারপর রোববার রাতে উত্তর লন্ডনের সেভেন সিস্টার্স রোডের ফিন্সবারী পার্ক মসজিদের কাছে হামলা হয়। হামলায় নিহত হয় ১জন।আহত হয় ১১জন।

সেই দিন রাতেও অফিস ফোন দিল, ‘ভাই বাংলাদেশে টিভি চ্যানেলগুলোরও স্ক্রল যাচ্ছে দুই জন নিহত ও অনেক আহত। আবারও আমি সবগুলো সাইট ঘুরে কোথাও মৃতের কোন খবর পেলামনা, শুধু পেলাম আহত ১০ জন। পরদিন সকালে পুলিশ ও বিবিসি সুত্রে জানালাম ১জন নিহত ও ১১ জন আহত। আরে ভাই, অনেকে অনেক কথা বলবে আপনি কি সেটা লিখতে বা জানাতে পারবেন? তাহলে মিডিয়া কর্মী বা প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্যদের পার্থক্য কি? এর পর যিনি মারা গেছেন উনার নাম ও বাড়ি এবং আর উনি বাংলাদেশী কিনা তা নিয়ে শুরু হলো বিভ্রান্তীকর তথ্য দেয়ার প্রতিযোগীতা। কে কার আগে ভুল তথ্য দিতে পারে। যাক অবশেষে নিহতের মেয়ের বরাতে সবগুলো মিডিয়া উনার বাড়ি বিশ্বনাথ বলে সংবাদ দিলেও বাংলাট্রিবিউন উনাদের প্রতিনিধি নয় এমন একজনের সংবাদে উল্লেখ করে সিলেটের অন্য জায়গায় নিহতের বাড়ি। সেটা পড়ে আমি কিছুটা অবাক হই। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। এরকমই আমরা নিয়মিত ভুল তথ্য দিয়ে যাচ্ছি মানুষকে ।
মিডিয়া কর্মীরা কে কার আগে সংবাদ দেবে সেটা নিয়ে প্রতিযোগীতা থাকতে পারে,কিন্তু তাই বলে ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিষয়ে আরো সর্তক হওয়া দরকার আমাদের। আমরাও যদি ভূল তথ্য দিতে থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? কাদের উপর আস্থা রাখবে। সাংবাদিকতাটাকে র্ধম, বর্ণ, দল, লিঙ্গ এগুলোর উপর রাখতে হবে। উপকার করতে না পারলেও যেন আমাদের ভুল তথ্যে কারও যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শুধু নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাহলে তাদের উচিত এই ব্যবসা না করে অন্যকোন লাভজক ব্যবসা করা। আর মিডিয়া কি জবাবদিহিতার বাইরে? অবশ্যই না। জবাবদিহিতায় আওতায় আমাদেরও আনা উচিত ।
লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি, এসএটিভি ।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *