বিসিএ’র নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

মতিয়ার চৌধুরী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সত্যবাণী

লন্ডনঃ ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) একটি আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে বৃটেনের বহুজাতিক সমাজে পরিচিতি লাভ করেছে। সমগ্র বৃটেন জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১২,০০০ ব্রিটিশ বাংলাদেশী কারী হাউজের প্রতিনিধিত্ব করছে এই সংগঠনটি। এই সেক্টরে কর্মরত রয়েছে এক‘শহাজারেরও বেশী মানুষ। এই খাত থেকে বছরে ট্রানওভার ৪.২বিলিয়ন পাউন্ড।

বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এ্যাসোসিয়েশন বিসিএ‘র নবনির্বাচিত ২০১৭-২০১৯ সালের পরিচালনা কমিটির অভিষেক অনুষ্টানে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তরা বলেন, নবীণ-প্রবীণের সমন্বয়ে বিসিএ‘র নতুন নেতৃত্ব বৃটেনে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যের স্মারক প্রাচীণতম এই সংগঠনটিকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

1১১জুলাই, মঙ্গলবার বিকেলে ইষ্ট লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী হলে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ক উপস্থাপিকা নাদিয়া আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্টানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল ইয়াকুব। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ষ্টীভেন টিমস এমপি, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জনবিগস, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলার শরীফা খাতুন, চ্যানেল এস’র চেয়ারম্যান আহমেদুস সামাদ চৌধুরী, বিদায়ী কমিটির প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার, সেক্রেটারী এম এ মোনিম ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশিদ এমবিই।

স্বাগত বক্তব্যে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ইয়াকুব বলেন, ‘বিগত কমিটি ছিল একটি সফল কমিটি। পাশা খন্দকার এবং এম এ মোনিমের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিসিএ নবজীবন লাভ করে, তাদের সাথে কাজ করার আমার সুয়োগ হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করব’। তিনি বলেন,  ‘বর্তমানে এই সেক্টরে ষ্টাফ সংকট ইমিগ্রেশনসহ রয়েছে নানাবিধ সসম্যা। সমস্যা এবং সংকট সমাধানে স্থানীয় এবং জাতীয় ভাবে লবিংয়ের মাধ্যমে আমাদের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরতে হবে’। নবনির্বাচিত  বিসিএ প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমানে বিসিএ ১৫টি রিজিওনের মাধ্যমে কাজ করলেও আগামীতে ২০টি রিজিওনাল কমিটি করার পরিকল্পনা আছে তাদের। তিনি তার টিমের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানান সেই সাথে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

3নবনির্বাচিত সেক্রেটারী জেনারেল অলি খান তার বক্তব্যের শুরুতে মানচেষ্টার, গ্রীনফিল টাওয়ার, এবং লন্ডন ব্রীজসহ বৃটেনের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকান্ড এবং সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘নতুন কর্মসংস্থানসহ ক্যাটারার্সদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ কারার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের, সেই সাথে এই সেক্টরের সমস্যা গুলোকে জাতীয় ভাবে তুলে ধরতে বিভিন্ন সময়ে সেমিনার সিম্পোজিয়াম সহ দক্ষ ষ্টাফ তৈরীতে কাজ করবে বিসিএ’। নবপ্রজন্ম যাতে এই সেক্টরের দিকে আগ্রহী হয় সে লক্ষ্যে কাজ করবেন, এমনটিও জানান অলি খান তার বক্তৃতায়। তিনি বিগত কমিটির প্রেসিডেন্ট বজলুর রশিদ এমবিই, পাশা খন্দকার এবং সেক্রেটারী এম এ মোনিমের প্রশংসা করে বলেন, ‘তাদের মতো যোগ্য নেতৃত্বের সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিসিএ‘র সংকট সমাধানে চেষ্টা করব’। তিনি তাদের চলার পথে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

নবনির্বাচিত কমিটির চীফ ট্রেজারার সাইদুর রহমান বিপুল সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলার পথে সকলের সহযোগীতা কামনা করে বলেন, ‘বিসিএ‘র সাথে আমার সম্পর্ক আত্মার, এই সংগঠনটির সাথে প্রতিষ্টালগ্ন থেকে সম্পৃক্ত ছিলেন আমার মরহুম পিতা বাতির মিয়া। আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে স্বপ্ন নিয়ে বিসিএ প্রতিষ্টা করেছিলেন তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে প্রয়োজন সকলের সহযোগীতা’।

বিসিএ‘র বিদায়ী প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার বলেন, ‘আজ থেকে দশবছর আগে বজলুর রদিশের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সেক্রেটারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলাম,  এই সংগঠনটিকে ঠিকিয়ে রাখতে আমাদের অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সকলের সহযোগীতায় বাধাবিপত্তি সত্বেও সংগঠনটির অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে পেরেছি। মূলতঃ আমাদের সময়ে এই সংগঠটি বৃটেনের বহুজাতিক সমাজে ব্রিটিশ বাঙ্গালীদের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে’।নবনির্বাচিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মোস্তফা কামাল ইয়াকুব একজন সুশিক্ষিত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ মানুষ, তার নেতৃত্বে বিসিএ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে এটি আমার বিশ্বাস। অলি খান একজন ডেডিকেইটড ব্যক্তি, বিসিএকে এগিয়ে নিতে তিনি নিরলস ভাবে কাজ করবেন এটি আমার বিশ্বাস। কামাল ইয়াকুব এবং অলি খানের নেতৃত্বে বিসিএ আরো এগিয়ে যাবে এটি আমাদের প্রত্যাশা’।

 

অনুষ্টানের শুরুতে বিসিএ‘র বিগত দিনের কার্যক্রমের উপর একটি ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়। এতে উঠে আসে বিসিএ‘র লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ৫৭ বছরের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরন। অনুষ্টানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তালতরঙ্গের শিল্পিদের নৃত্য, বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে চলে নৃত্য এবং সঙ্গীত। সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিলেতের জনপ্রীয় শিল্পিরা।

নবনির্বাচিত কমিটির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী এবং চীফ টেজারারকে ফুল দিয়ে বরন করেন বিদায়ী কমিটির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী ও অন্যান্যরা। অন্যদিকে বিদায়ী কমিটির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী ও টেজারারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেষ্ট প্রদান করা হয় এবং নবাগত কমিটির পক্ষ থেকে বিদায়ী নেতৃবৃন্দকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়া হয়। বিদায়ী নেতৃত্বের হাতে অতিথিদের সাথে নিয়ে ক্রেষ্ট তুলে দেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক চৌধুরী, ফজল উদ্দিন, মোজাহিদ আলী চৌধুরী, ইউসুফ সেলিম সৈয়দ হাসান আহমেদ ও মেম্বারশীফ সেক্রেটারী সাইফুল আলম প্রমুখ।

অনুষ্টানে স্পন্সরদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শেফ অনলাইনের সিইও এস এম মোমিন, কোবরা বিয়ারের সেলস ডিরেক্টর সামসং সোহেল, কিংফিসার বিয়ারের সিইও ডেমন সোয়াব্রিক, আগ্রসোপারের ডিরেক্টর ডইভে ফ্লিটউড, স্কয়ার মাইল ইন্সুরেন্স কোম্পানীর এমডি ডেভিড নাইক রয়েসটন প্রমূখ। সংগঠনের অর্গেনাইজিং সেক্রেটারী মিঠু চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্টানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে। এর পর শুরূ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্টান।

উল্লেখ্য, ২০১৭-২০১৯ নবনির্বাচিতরা হলেন প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল ইয়াকুব, সেক্রেটারী জেনারেল অলি খান, চীফ ট্রেজারার সাইদুর রহমান বিপুল, অর্গ্রেনাইজিং সেক্রেটারী মিঠু চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জামাল উদ্দিন মোকাদ্দুস, মোহাম্মদ ফজল উদ্দিন, মোজাহিদ আলী চৌধুরী, ইনামুল হক চৌধুরী, শাহ আব্দুল মালিক আজাদ, দরছ আহমদ, রফিক মিয়া, মোঃ আব্দুল সোলমান জেপি, মোঃ মইনুল আমিন বুলবুল, মোঃ ইউসুফ সেলিম, আনিছুল হক চৌধুরী, সৈয়দ হাসান আহমদ, টিপু রহমান, মঈনুদ্দিন, মেহেরুল ইসলাম। ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল হান্নান, শাকুর আলী, শাব্বির আহমদ চৌধুরী, শামীম আহমদ, মাসুদ আহমদ, মানিক মিয়া, আব্দুল লতিফ কাওছার, আব্দুস সোবহান, এম আব্দুল হাকিম আজাদ, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান বাবুল, মোঃ কামরুজ্জামান জোয়েল, ফিরুজুল হক, মোহাম্মদ নাজাম উদ্দিন নজরুল, গোলাম রব্বানী আহমদ, আব্দুল হাফিজ, আব্দুল খালিক চৌধুরী, ডেপুটি সেক্রেটারী জেনারেল হেলাল মালিক, ঝুনু মিয়া, জয়েন্ট ট্রেজারার মোঃ ফাইজুল হক, জিয়া আলী, চৌধুরী, ডেপুটি অর্গেনাইজিং সেক্রেটারী সহিদুল হক চৌধুরী লিটন, দিলওয়ার হোসাইন, মেম্বারশীফ সেক্রেটারী সাইফুল আলম, জয়েন্ট মেম্বারশীফ সেক্রেটারী নাজ ইসলাম, আশরাফ তালুকদার, পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারী আমিনুর রশিদ সেলিম জয়েন্ট পাবলিকেশন সেক্রেটারী মোহাম্মদ আনওয়ারুল ইসলাম, সহকারী পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারী হুমায়ুনায়ুন রশিদ, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী ফরহাদ হোসেন টিপু, এ্যাসিসটেন্ট প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী ছুরুক মিয়া, ট্রেনিং এন্ড এডুকেশন সেক্রেটারী ফজলে রাব্বি চৌধুরী, এ্যাসিটেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, সোসিয়েল এন্ড ক্যালচারাল সেক্রেটারী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, পোর্টস সেক্রেটারী মোহাম্মদ হোসাইন কামালী, এনইসি মেম্বার পাভেজ আহমদ, এম সিরাজুল ইসলাম রোশন আলী, মোহাম্মদ বুলবুল, আব্দুল মালেক, আবজল হোসাইন, মোহাম্মদ আব্দাল মিয়া, লুদু মিয়া চৌধুরী, আলতাফ হোসাইন, আনসার মিয়া, আবুল মনসুর জুয়েল, আব্দুল হক, আলাউদ্দিন (বাবুল), আব্দুল সুফিয়ান, ওয়াহিদ রহমান বুলু, বাদশা কাদির, আব্দুল মতিন তালুকদার, আহমেদ আলী, সালিম চৌধুরী, আব্দূল রাজ্জাক, বদরুল উদ্দিন রাজু, জোবায়ের জামান, জাহিদ আলী খোশনু, আব্দুল কাদির, আশরাফ হোসাইন মুকুল, শামসুল এ খান শাহীন, মোহিবুর রহমান, সালিকুর রহমান, মাসুম আহমদ, গোলাম রব্বানী আহাদ, আব্দুল রব, মোসলেহ আহমদ, জিয়াউল হক, ফজলুর রহমান, শাহাব উদ্দিন, হোসাইন আহমদ, শিপু মিয়া, মোস্তাফিজুর খন্দকার পায়েল, জাহাঙ্গির হক, সেলু মিয়া, মোহাম্মদ আলতাফুর রহমান শাহীন, সৈয়দ আবুল মনসুর লিলু, গোলাম খান নূরানী, রেহান রাজা, ফয়সল চৌধুরী, টিপু মিয়া, আতাউর রহমান লায়েক, ইয়ামিন আর এইচ দিদার, কয়ছর উদ্দিন মাহমুদ,আতিকুর রহমান (শেফ), তৌরিছ আলী, আব্দুল হক, মোহাম্মদ গণী, আব্দূল করিম নাজিম, আতাউর রহমান (মিঠু), হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান জয়নাল, ওয়ালিউর রহমান চৌধুরী টিপু, নূরুর রহমান খন্দকার পাশা, এম এ মোনিম, বজলুর রশিদ এমবিই, এ এসএম আহমেদ বাবলা।

 

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *