‘রোডম্যাপ দিয়ে সংকট নিরসন সম্ভব নয়’


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

সত্যবাণী ডেস্ক: একাদশ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপে সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়  বিএনপির মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবা‌বে তি‌নি রোডম্যাপ নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচনের জন্য একটা সহায়ক সরকার প্রয়োজন, সেই সহায়ক সরকার গঠনের ব্যাপারে আলোচনা বড় প্রয়োজন এই মুহুর্তে। সেদিক থেকে কোনো আলোচনা না করে এই রোডম্যাপ দিয়ে তো সমস্যার সমাধান হবে না, সেই সংকটের নিরসন হবে না।’

‘রোডটা তো থাকতে হবে। দেয়ার মাস্ট বি রোড টু ইলেকশন। এখন পর্যন্ত আমরা রোড দেখতে পারছি না। সুতরাং ম্যাপ তো পরের প্রশ্ন।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, লন্ডনে অবস্থানরত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ঢাকায় জ্যেষ্ঠ ‍নেতাদের সাথে আলোচনা করে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।এটা যেহেতু অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা বিষয়। আমরা সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলব, আমাদের চেয়ারপারসনের সাথে আলোচনা করে আমরা পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবো।’

রোববার আগারগাঁওয়ে ইটিআই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা একাদশ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি।

সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগে ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

‘নির্বাচনকালীন সরকার’ প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদিও রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন এটা আমরা মনে করি যে, প্রধান বিষয় না। এটা প্রধান সংকট নয়। প্রধান সংকটটা হচ্ছে যে, নির্বাচনটা কিভাবে হবে? নির্বাচনের সময় সরকার কোনো  জায়গায় থাকবে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে?’

যে কথা আমরা বারবার বলে আসছি যে, নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচনের জন্য একটা সহায়ক সরকার প্রয়োজন, সেই সহায়ক সরকার গঠনের ব্যাপারে আলোচনা বড় প্রয়োজন এই মুহুর্তে বলে আমরা মনে করি।নির্বাচন কমিশন বলেছে, দেশ-বিদেশের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে এই রোডম্যাপ ইসি ঘোষণা করে‌ছে- জান‌তে চাই‌লে এর জবাবে তিনি ব‌লেন, ‘উদ্দেশ্য খুব ভালো। সবাই তাই বলে। বর্তমান সরকারও বলছে যে আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই, সহায়তা করতে চাই। তারপরও দেখতে পারছেন যে কি অবস্থা দেশের মধ্যে আছে?’

‘আমরা একটা সভা করার অনুমতি পাই না। আমাদের দেশনেত্রী কালকে বিদেশে গেলেন, আমাদের সিনিয়র নেতাকে রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই একটা পরিস্থিতি-পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশে নির্বাচনের আদৌ কোনো পরিবেশ আছে কি না সেটাও তো সবার আগে দেখতে হবে।নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট ‘রাজনৈতিক’ অভিহিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সংকটটাকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এখানে নির্বাচন কমিশন এককভাবে একটি রোডম্যাপ দিয়ে দিল কোনো আলোচনা না করেই, সেটা তো আলোচনা করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের বিষয় বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সে ব্যাপারে অবশ্য আমরা বলেছি যে, গণতান্ত্রিক যতগুলো পদ্ধতি আছে এবং নিয়মতান্ত্রিক যতগুলো পদ্ধতি আছে, আমরা সবগুলো এক্সজোস্ট করতে চাই। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেতে চাই।এটা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সদিচ্ছার ওপরে তারা আমাদেরকে যেতে দিতে চায় কি না।এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *