কার্লাইলের সেমিনার, গুরুত্ব দেয়নি আওয়ামী লীগ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

মতিয়ার চৌধুরী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সত্যবাণী

লন্ডন: হাউস অফ লর্ডসের আর্চবিশপ রুমে লর্ড কারলাইলের ব্যক্তিগত আহ্বানকৃত ‘টেররিজম এন্ড দি রোল অব ল’ শীর্ষক বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনারকে গুরুত্ব দেয়নি আওয়ামীলীগ। ফলে ‘খালি মাটে’ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে চিরাচরিত পন্থায় একতরফা অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা উত্তাপন করে গিয়েছে বিএনপি। বিগত বছরগুলোতে প্রবীন ব্রিটিশ রাজনীতিক প্রয়াত লর্ড এইভবারী বা বাংলাদেশ বিষয়ক অলপার্টি পার্লামেন্টারী গ্রুপ এধরনের সেমিনার আয়োজন করলেও এবারই প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেমিনার আয়োজন করেন লর্ড কার্লাইল। শুধু তাই নয়, এটি যে ব্যাক্তি উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এ বিষয়টিও খোলাসা করে বলা হয়নি আওয়ামী লীগকে। ফলে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা লন্ডনেও আসলেও ‘কম প্রোফাইল’র এমন সেমিনারে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হননি। ফলে একতরফা বক্তব্যের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হয় সেমিনার। মঙ্গলবার ১৮জুলাই হাউজ অব লর্ডসে মিলবাংক হাউজের আর্চবিশপ রুমে বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হয়ে সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১৫মিনিট আগেই শেষ করা হয় সেমিনার। সেমিনারে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল থেকে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপিকে। লন্ডনে আসলেও তারা কেউই উপস্থিত হননি সেমিনার। শুধু আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলই নয়, আমন্ত্রিত অথিতিদের মধ্যে ব্রিটিশ এমপি, লর্ড ও বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষকও উপস্থিত হননি সেমিনারে। যথা সময়ে অনুষ্টান শুরু হলে শুরুতেই আয়োজক লর্ড কারলাইল বলেন, বাংলাদেশ বৃটেনের একটি বন্ধুপ্রতিম এবং কমনওয়েলথভুক্ত একটি উন্নয়নশীল দেশ। অন্যান্য সময়ে সাংগঠনিক ব্যানারে এধরনের সেমিনার আয়োজন করা হলেও এই আয়োজনটি সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত জানিয়ে কার্লাইল বলেন, ‘বাংলাদেশ মিশন লন্ডন থেকে এইমাত্র জানানো হলো বাংলাদেশের সরকারী দলের আমন্ত্রিত অথিতিরা আসতে পারবেননা, বিষয়টি দুঃখজনক’।
এরপর সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী ও বিএনপি‘র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খছরু মাহমুদ চৌধুরীকে বক্তব্য রাখতে বলা হলে তিনি বলেন ‘বাংলাদেশে দু‘রকমের টেররিষ্ট রয়েছে।একটি হলো যা ধর্মীয় উগ্রবাদের দ্বারা সমগ্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, অন্যটি হলো বাংলাদেশের সরকারের সৃষ্ট’। তিনি বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে বাংলাদেশে সন্ত্রাস এবং উগ্রবাদকে লালন করছে’। বিএনপির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষযক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গেল কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত ভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র লংঘিত হচ্ছে, মানবাধিকার নেই, নেই আইনের শাসন। প্রতিদিনই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে।’ পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত ২৬১টি সংখ্যালঘু পরিবারার বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হয়েছে, ২০১৭ সালে তা হয়েছে দ্বিগুন’।
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এই সরকার গণতন্ত্রকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। সর্বত্র দুর্নিতী এমন পর্য্যায় পৌছেছে যে খোদ সরকারী দলের নেতাকর্মীরাই দুর্নিতীর সাথে জড়িত’।

বাংলাদেশ পলিসি ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের মিঃ ডরিন মিহা বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্টানিক রূপ দিতে হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সকলকেই কাজ করতে হবে’।হিউম্যান রাইট ওয়াচের সাউথ এশিয়া ডিরেক্টর মিস মানসী গাংগুলী বলেন, ‘বাংলাদেশে গুম খুনের সংখ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, উগ্রবাদীদের সাথে আপোষ করায় তাদের নির্দেশে হাইকোর্ট এলাকা থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার’। সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ের কারনে বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের দ্বারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

moshiur rahmanআওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের প্রেস ব্রিফিং

এদিকে, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে আহবানকৃ্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে লর্ড কারলাইলের ডাকা ‘টেররিজম এন্ড দি রোল অব ল’ বিষয়ক সেমিনারে উপস্থিত না হওয়ার কারন সম্পর্কে বলা হয়, এই কনফারেন্সটি কোন সংগঠনের ব্যানারে ডাকা হয়নি, একারনে সবদিক বিবেচনা করে কনফারেন্স যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত এবং লন্ডন্থ বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আয়োজকদের তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রেসব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘তিনটি কারনে আমাদের এই বৃটেন সফর। এগুলো হলো কনজারভেটিভ ফেন্ডস অব বাংলাদেশের সাথে বৈঠক, বিবিসিসিআইয়ে‘র সাথে বৈঠকে যোগদান, দীপু মনি ও ড. গওহর রিজবী যারজন্য আগে থেকেই বৃটেনে অবস্থান করছেন’। ড. রহমান বলেন, ‘সেমিনারে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যক্তি উদ্যোগে হওয়ায় এটিকে আমরা আর গুরুত্ব দিচ্ছিনা। এটি যে ব্যাক্তি উদ্যোগে হচ্ছে এ বিষয়টি আগে তাদের জানানো হয়নি বলে অভযোগ করেন ড. মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় বৃটেনের বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় পার্লামেন্টারী গ্রুপ বা ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সংগঠন সার্বিক ভাবে আয়োজন করায় আমারাও সেগুলোতে যোগ দিয়েছি’।
ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘আজও কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের লাঞ্চ পার্টিতে কয়েকজন ব্রিটিশ এমপির সাথে আমাদের দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও উন্নয়নের বিষয় নিয়ে কথা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সন্ত্রাস দমনে আমাদের প্রশংসা করেছেন তারা সকলেই।’ তিনি জানান, সেমিনারে যোগ না দেয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন তারা।
জামাতকে এই কনফারেন্সে আমন্ত্রণ জানানোর কারনে তারা সেমিনারে অংশ নেননি একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাঃ দীপু মনি বলেন, ‘জামাত তো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল নয়, আর বিএনপি এখন সংসদে নেই তারা জ্বালাও পোড়াও নিয়ে ব্যস্থ। কোন দল যদি নিবন্ধিত না হয় তার সাথে বসার প্রশ্নই আসেনা’। প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. মশিউর রহমান, ড.গহর রিজভী ও ডাঃ দীপু মনি।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *