‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কুত্তা সামলান’


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_3322 ইমতিয়াজ মাহমুদ

 

একজন বলছিলেন যে উনার নাকি বলতে ইচ্ছা করছিল ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কুত্তা সামলান। নাইলে এদের ঘেউ ঘেউতে দেশের জনগণ আপনার কাছ থেকে দুরে সরে যাবে।’ কে বলবে? সকলেই তো ভয়ে আছে। যারা বলতে পারতো ওদের অনেকেই ভয়ে বা অভিমানে অনেক দুরে সরে গেছেন।

কথাটা রুঢ় শোনাচ্ছে বটে। নেহায়েত কি ভুল হবে কথাটা বললে? ছাত্রলীগের একজন ঢাকা করতে মামলা করেছে ইমরান এইচ সরকারের আর সনাতন উল্লাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কেন? ওরা নাকি ‘ছিঃ ছিঃ হাসিনা লজ্জায় বাচিনা’ বলে শ্লোগান দিয়েছে। ছাত্রলীগেরই একদল এই কথা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা করে সনাতনকে আর ইমরানকে গালাগালি করেছে, হুমকি দিয়েছে। বুঝেন অবস্থা। রাজনীতিতে এইরকম শ্লোগান দেওয়াতে কি অপরাধ হয়? এইটা তো গণতান্ত্রিক সমাজে প্রতিক্রিয়া প্রকাশের একটা অতি সাধারণ পন্থা। রাজনৈতিক সভায় আপনারা কি কখনো ‘শেইম শেইম’ করে চিৎকার করেননি। আরে, বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের বক্তৃতা শোনেন। সেখানেও দেখবেন বক্তৃতার মাঝখানে একদল লোক ইয়াহিয়া খানের উদ্দেশ্যে ‘শেইম শেইম’ বলে চিৎকার করে উঠছে।

আরেক আওয়ামী লীগ নেতা আগৈলঝরাতে নাকি মামলা করেছে বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি ছাপা নিয়ে। এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে কার্ড বানিয়েছিল এক সরকারী কর্মকর্তা। সরকারী কর্মসূচীরই কার্ড। ওই ছবি ওই পাতি নেতার পছন্দ হয়নাই। দিয়েছে মামলা করে। সেই মামলায় নাকি আবার সেই কর্মকর্তার জামিন প্রত্যাখ্যান হয়েছিল একবার। বুঝেন অবস্থা।

চিন্তা করেন। শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ওর পছন্দ হয়নাই বলে ওই পাতি নেতা মামলা করে, সেই মামলায় আবার জামিনও বাতিল হয়। কোন দেশে আছি। বলে কিনা বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি হয়েছে। ওই মূর্খটাকে কেউ বলতে পারেন না, আরে গাধা, এটা একটা পেইন্টিং। একটা পেইন্টিংএ একজনের চেহারা হুবহু ফটো ফিনিশের মতো মিলিয়ে দিতে হবে? ওই গাধাকে কেউ একটু শাহাবুদ্দিনের একটা ছবি দেখিয়ে দিতে পারেন না? গণভবনেও শাহাবুদ্দিনের ছবি আছে, সেটাই না হয় দেখিয়ে দিতেন। ওই গাধা হয়তো সেগুলি ছবি দেখেই বলে বসতো যে শাহাবুদ্দিন বঙ্গবন্ধুর চেহারা বিকৃত করেছে। গাধা।

এগুলি নাকি আবার আওয়ামী লীগের নেতা। বঙ্গবন্ধুর দলের নেতা। এইগুলি তো বঙ্গবন্ধুকেও চেনেনা। আপনারা কি জানেন না বঙ্গবন্ধু শিল্পীদেরকে কি চোখে দেখতেন? শাহাবুদ্দিন আর শিল্পাচার্যের সাথে বঙ্গবন্ধুর সেইসব ঘটনা কি একালের আওয়ামী লীগ নেতারা জানে না?

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন একবার গিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে বত্রিশ নম্বরে। বঙ্গবন্ধু শিল্পাচার্যকে জড়িয়ে ধরে বলেছেন, আপনি শিল্পী মানুষ, শিক্ষক মানুষ, আপনি কেন এখানে এসেছেন, আপনি বললে আমি গিয়ে আপনার সাথে দেখা করতাম। এই ছিলেন বঙ্গবন্ধু আর এই ছিল শিল্পীদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর আচরণ। আর শাহবুদ্দিনের কথাটা তো আপনারা জানেনই। যুদ্ধ ফেরত তরুণ শাহাবুদ্দিনকে বৃত্তি দিয়ে প্যারিস পাঠাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। শাহাবুদ্দিনকে বুকে জড়িয়ে ধরে বিশাল মানুষটা শিশুর মতো করে বলছেন, ‘যা, তোকে পিকাসোর চেয়ে বড় শিল্পী হতে হবে, সারা দুনিয়াকে দেখিয়ে দে বাঙ্গালী ছবি আঁকতে পারে’।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটিকে কি আমরা শিশুদের দিবস হিসাবে পালন করি না? আর বঙ্গবন্ধুর দলের এই পাতি নেতা একটি শিশু শিল্পীর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিকে বলে কিনা বিকৃতি। আরে গাধা, তুইই বিকৃত, তোর চেতনা বিকৃত, তোর চোখ বিকৃত, তুই নিজেই একটা বিকৃত মানুষ, নেহায়েত বিকৃত মানুষ না হলে কেউ শিশু চিত্রকর্মকে বিকৃত বলে?

আপনার সন্তান কি কোনদিন আপনার ছবি এঁকেছে? আপনি কি কোনদিন আপনার শিশুকে বলেছেন যে আমার ছবি বিকৃত করেছিস কেন? বলেননি। কেন? কারণ শিশুদের ছবিতে রঙের সাথে ভালোবাসা মেশানো থাকে। শিশুরা ছবিটি ক্যানভাসে আঁকে বটে, কিন্তু আসলে তো ক্যানভাসে নয়, হৃদয়ের উপর আঁকে। জাতির পিতার যে ছবিটি ওই শিশুটি এঁকেছে, সেখানে পিতার জন্যে ভালোবাসা মিশে আছে। ছবিটি আমাদের সকলের হৃদয়ের ক্যানভাসে আঁকা হয়েছে। সেই ছবিকে বলে কিনা বিকৃত! কতো বড় পাষণ্ড! চিন্তা করেন

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *