সরকারের সমালোচনার আগে নিজেকে বদলান


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_3066 সুমন দেব নাথ

ইউরোপ আমেরিকাসহ অনেক দেশেই যখন হেভি Snowfall হয় তখন বরাবরেই মতই রাস্তা ঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়! স্নো যখন পড়ে তখন দেখতে অনেক সুন্দর লাগে, মন ভরে যায়। কিন্তু এই স্নো যখন রাস্তায় জমে যায় তখন এগুলো কাদা মাটির চেয়েও বিচ্ছিরি হয়ে যায়! আর এগুলো জমে শক্ত হয়ে যাওয়ার পরে আছাড় খেলে মাঝা ভাঙ্গার চান্স থাকে! অতিরিক্ত Snowfall এর কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা! তখন ঘরে বসে উয়িংস এন্ড চিপস্ খাওয়া ছাড়া কোন কাজ থাকে না!

আমাদের দেশে না হয় একটু বেশী Rainfall হয়েছে তাই বলে এতো অভিযোগ কেন? সো অভিযোগ না করে ঘরে বসে ঝালমুড়ি উপভোগ করুন! এই Rainfall এর কারণে যে জলাবদ্ধতা হয়েছে তার জন্য সরকার যতটুকু দায়ী তারচেয়ে বেশী দায়ী আমরা পাবলিকরা! আমরা নিজেরাই তো রাস্তার ড্রেন বন্ধ করি বাড়ির বর্ধিত অংশ বনিয়েছি! ঢাকা শহরে যে খাল ছিলো যাকে বলা হয় শহরের “লাইফ লাইন”! আমরা সেই লাইফ লাইন বন্ধ করে বস্তি,বিল্ডিং, ইমারত বানিয়েছি! এখন দোষ দিচ্ছি সরকারের ঘাড়ে!! ক’দিন আগে মেয়র সাহেব আমাদের সবার সুবিধার জন্য অনেক জায়গায় বিন বসিয়েছিলেন কিন্তু আমরা কি করলাম ময়লা বিনে না ফেলে তার আশেপাশে ময়লার স্থুপ করে ফেললাম কিছু বিন চুরিও করলাম!

বিদেশে রাস্তা ঘাটে কেউ একটা চকলেটের খোসা রাস্তায় ফেলতে ১০০ বার চিন্তা করে! বিন না পেলে নিজের পকেটে করে নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে! কারণ আইন আছে রাস্তায় ময়লা সহ বিড়ির বাট ফেললে £৮০ জরিমানা! শুধু আইনই না এমন হাজারো ম্যানার আছে যা তাদেরকে স্কুলেই শিখানো হয়। আর আমরা রাতে ব্যবহৃত বিশেষ পলিথিন ফেলে দেই জানালা দিয়ে বাইরে!! আমরা আমাদের ব্যবহৃত জিনিসগুলির প্রোপার রিসাইক্লিং করি না! যার দরুন দেখাদেয় ড্রেনে ব্লকেজ! ফলাফল জলাবদ্ধতা!!

আসলে আমরা বাঙ্গালীরা খাসলত পরিবর্তন করি না যতক্ষন না পা(ছা)য় মান্দার গাছের ডালের বারি না পড়লে ততক্ষন ঠিক হইনা! উদাহরণ; দুই উদ্দীনের আমলে ঢাকা শহর সহ কোন বিভাগীয় শহরে কোন যানজট দেখেছেন? দেখেন নি? কেন? ঐ যে মান্দার গাছের ডালের বারি!! তখন আমরা সবাই আলিফের মত সোজা হয়ে রাস্তায় চলাচল করছি! গাড়ির পাছা বাঁকা হইছে তো ড্রাইভারের পা(ছা) বাঁকা করে ফেলছে!

এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে স্কুল লেভেল থেকে বাচ্চাদের বইয়ের চাপ না বাড়িয়ে কিভাবে কার সাথে ব্যবহার করতে হবে? কিভাবে পরিবেশের সাথে ব্যবহার করতে হবে? কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হবে? অন্যায় করলে সরি বলা, কেউ সাহায্য করলে ধন্যবাদ বলা। এমন হাজারো নৈতিকতার শিক্ষা বাচ্চাদের স্কুল থেকেই শিখাতে হবে। যার ফলাফল আমরা অদূর ভবিষৎ এ পাবো। হয়তো আমরা দেখে যেতে পারবো না বাট আমাদের প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারবো একটি “সবুজ সুন্দর পৃথিবী”।

লেখক: সাংবাদিক

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *