বিষয়: ষোড়শ সংশোধনী


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_5278 রুহুল কুদ্দুস বাবুল 

 

৪ নভেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদে পাশ, ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর।

বাংলাদেশের সংবিধান কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনই নয়, সংবিধানে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মূল চরিত্র বর্ণিত রয়েছে। এতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা বিধৃত আছে। দেশটি হবে প্রজাতান্ত্রিক, গণতন্ত্র হবে এদেশের প্রশাসনিক ভিত্তি, জনগণ হবে সকল ক্ষমতার উৎস এবং বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস হলেও দেশ আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা -কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সংবিধান পাশের প্রাক্ষালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণপরিষদে বলেছিলেন–“এ সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান জনগণের আশা আকাঙ্খার মূর্ত প্রতিক হয়ে বেচে থাকবে।”
৭৫ এর ঘাতকরা রাস্ট্রের মূল চরিত্রই পাল্টে দিয়েছিল। অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের দেশটাকে সাম্প্রদায়িক চরিত্রদান করেছিল। সমাজতান্ত্রিক আদর্শ পাল্টে লুটেরা পুজিবাদী আদর্শে দেশ পরিচালিত করতে লাগলো। সামরিক স্বৈরশাসক জিয়া ও এরশাদের সামরিক ফরমান সংবিধান সংযোজিত হলো। ইসলামকে রাস্ট্রধর্ম করা হলো।
আওয়ামিলীগ ২য় বার ক্ষমতায় এসে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনি আনল। জিয়া, এরশাদের সংযোজন করা রাস্ট্রের মূলনীতি বহাল রেখেই ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতিগুলোও জুড়ে দেয়া হলো ! ” হাস ছিল সজারু, হয়ে গেল হাসজারু” এক উদ্ভট জগাখিচুড়ি অবস্থা। এখন ষোড়শ সংশোধনি বিচারপতিদের অপসারন বিষয়ক। অজুহাত জিয়ার পঞ্চম সংশোধনের বিধান সংবিধানে রাখা যাবেনা। দেশ জুড়ে হুলস্থুল কাণ্ড। সুপ্রিম কোর্টের এপিলেট ডিভিশনের রায় মানতে নারাজ। ঠিক না মানলে সংবিধানেই পথ দেখানো আছে সে পথে যাও। সেটা না করে শিষ্টাচারহীন নোঙরা আচরণ কেন ?
হাই কোর্ট, সপ্রিম কোর্ট মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, সে স্থানটিকে বিতর্কিত করে তোলা হলো, প্রধান বিচারপতির সাথে যে আচরন করা হচ্ছে তা অসভ্যতা নয় কি ?
মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ৭৫ এর ঘাতকচক্র যে আদর্শচ্যুতি ঘটিয়েছিল সে অবস্থা উত্তরণের একটাই রাস্তা পরিপূর্ণভাবে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া। তবেই রাজনীতিও আদর্শের ধারায় ফিরে আসবে। আদর্শহীন রাজনীতির কারনেই অসভ্য অর্বাচিনরা রাজনীতিতে স্থান করে নিয়েছে ।
রাজনীতিকে আদর্শের ধারায় সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হলে মানবিক সভ্য সমাজ গড়াও সম্ভব হবেনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অসভ্যতা নয়।
নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রয়োজন। আইনের শাসনই সমাজে শান্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম। আইনের শাসন ছাড়া গণতন্ত্রও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না। সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, অপরাজনীতি নিপাত যাক।  জয় বাংলা ।।

লেখক: রাজনীতিক,  সাবেক ছাত্রনেতা ।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *