পেশাগত সনদ বাতিল হলে, মনুষ্যত্ব সনদ কেন নয়?


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_5389 ইমতিয়াজ মাহমুদ

 

বার্মার রোহিঙ্গারা অনেক বিপদের মধ্যে আছে। আমি এমনিতে রোহিঙ্গাদেরকে বিশেষ পছন্দ করি না। কিন্তু এখানে রোহিঙ্গা বা অরোহিঙ্গা বা পছন্দ বা অপছন্দ এইসব কোন প্রাসঙ্গিক বিষয় না- এইসব ভুলে যান। এরা একদল মানুষ আর ওদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, ওরা বিপদে আছে- এইভাবে দেখেন। মানুষ ডুবছে আর যারা জিজ্ঞাসা করে ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম’ ঐসব পচা মানুষদের কথা বাদ দেন। আমার দেশের হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কে প্রতিবাদ করেছে, আদিবাসীদের উপর অত্যাচারকে কে সমর্থন করে সেগুলি ইস্যু এনে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতির ব্যাপারটা ডাইল্যূটেড করে দেবেন না। মানুষ- ‘কাণ্ডারি বলে ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার’ বলে কথাটা আছে না! সেটা মনে রাখবেন।

আমরা খালি ভাগ করি। কতভাবে যে ভাগ করি নিজেদের মধ্যে- সাদা কালো, হিন্দু মুসলমান, ধার্মিক নাস্তিক, নারী পুরুষ কতরকম যে ভাগ। না, কিছু জিনিস তো আমরা প্রয়োজনের জন্যে করি, করতেই হয়। ডাক্তার সাহেব তো প্রথমেই জেনে নিবেন রোগী নারী কি পুরুষ। সেগুলি আলাদা কথা। কিন্তু রোগী হিন্দু কি মুসলমান সেটা তো আর সাধারণত ডাক্তারের জানার দরকার নাই- কেননা তিনি তো আর ধর্মের ভিত্তিতে রোগীর উপর তার আচরণের ধরন পালটাবেন না। তিনি যদি সেটা করেন, তাইলে সেটা হবে তার পেশাগত অসদাচরণ।

আপনিই বা বিনা প্রয়োজনে মানুষের মধ্যে এইসব ভাগ কেন করবেন! ধর্ম বা লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষের প্রতি আপনার আচরণ ভিন্ন করবেন? এটা তো ভাই মানবিক অসদাচরণ। পেশাগত অসদাচরণের জন্যে যেমন ডাক্তার সাহেবের ডাক্তারি লাইসেন্স যেতে পারে, মানবিক অসদাচরণের জন্যেও আপনার মানুষ পরিচয় কেড়ে নেওয়া উচিৎ। সিরিয়াসলিই বলছি- যারা ধর্ম লিঙ্গ ইত্যাদির ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য করে ওরা আসলে মানুষ না। আপনি একজন হিন্দু হতে পারেন, মুসলমান হতে পারেন, বাঙালি হতে পারেন- কিন্তু এই অসদাচরণটির জন্যে আপনার মানুষ পরিচয়ের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া উচিৎ- আপনি মানুষ না।

আর বিপন্ন মানুষের ধর্মীয় লৈঙ্গিক এথনিক বা অন্যান্য পরিচয় তো বিবেচ্যই না। সবচেয়ে ঘৃণ্য যে অপরাধী, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত, সেও যদি বিপদে পড়ে তাইলে আপনার প্রথম কাজ হবে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে খাবার দাবার চিকিৎসা ইত্যাদি দিয়ে তাকে সুস্থ করা, এরপর তাকে নিয়ে যাবেন ঝুলানোর জন্যে। এইটাই মানুষের আচরণ। নাইলে? নাইলে ঐ যে বলেছি- মনুষ্যত্বের সনদ বাতিল।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *