বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া বধ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

দশ উইকেট শিকার করে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ সাকিব

Abu Hasan আবু মুসা হাসান
অবশেষে টেস্ট ক্রিকেটেও পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে বধ করলো বাংলাদেশ। অভিনন্দন টাইগার্স। পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচ চারদিনেই শেষ। আজ ঢাকার মীরপুরে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দাপটের সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট জয়লাভ করলো। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বোলিং আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা। দুই ইনিংসেই ৫টি করে মোট ১০টি উইকেট শিকার করেছেন সাকিব। এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছেনে সবারই রয়েছে কৃতিত্ব। তবে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। মাঠে গিয়ে এই ঐতিহাসিক টেস্ট জয় উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

IMG_5416সেই ২০০৫ সালে ওয়েলস এর কার্ডিফে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেদিনের নবাগত ক্রিকেট দল বাংলাদেশ। তারপর উত্থান-পতনেরে মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে চলার পালা। ৫০ ওভারের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে একে একে হারিয়েছে সবাইকেই, কোন কোন দেশকে একাধিকবার।
তারপর শুরু হয় টাইগারদের ক্রিকেটের পাঁচদিনের বনেদী খেলা টেস্ট ম্যাচে জয়ের পালা। জিম্বাবুইয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্টে ম্যাচে হারিয়ে গত বছর শক্তিশালী ইংল্যান্ডকেও হারিয়েছে নিজেদের মাঠে। আর এরপরই শ্রীলংকাকে হারিয়েছে তাদের দূর্গে গিয়েই।
seikh_hasinaকিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মজাই আলাদা। কারন অস্ট্রলিয়ার নাকটা একটু বেশী উঁচু, অর্থাৎ দেমাগ বেশী। বাংলাদেশ দুই হাজার সালে টেস্ট স্টেটাস লাভ করার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ানদের তাদের নাক উঁচু ভাবটা আমাকে অনেক পীড়া দিয়েছিল। তবে মনে পড়ে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্স ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগাররা যখন অস্ট্রেলিয়াকে ৫০ ওভারের ওডিআই ম্যাচে হারিয়েছিল, তখন প্রাণ খুলে আনন্দ করেছিলাম, আনন্দে আত্মহারা হয়ে শত শত বাঙালি টাইগারভক্তদের সাথে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে দৌড়ে মাঠে ঢুকে পড়েছিলাম আশরাফুলদের অভিনন্দন জানাতে।
এরপর টেস্ট ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর অপেক্ষায় ছিলাম দীর্ঘদিন। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল আমাদের নিশ্চিত জয়। খেলা দেখছিলাম লন্ডনে বসেই। দুঃখ-কষ্টে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলাম অতৃপ্তিতে।
কিন্তু তারপর টাইগাররা অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ম্যাচে বধ করার আর সুযোগই পায়নি। গত বছর বাংলাদেশে সফরে এসে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ঐ সফরটি বাতিল করেছিল।
এবার বাংলাদেশ সফরে আসার প্রাক্কালে খেলোয়াড়দের সাথে বোর্ডের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতায় অস্ট্রেলিয়ার সফরটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছুলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত হলে মন্তব্য করেছিলাম, অবশেষে বাঘের থাবায় আসছে অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার আগেও কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দলের দম্ভ কোন অংশে কমেনি। বাংলাদেশের সফলতম কোচ হাতুড়সিংহে, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং সর্বশেষে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম যখন অস্ট্রেলিয়াকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করবে বলে প্রত্যয় ব্যাক্ত করলেন, তখন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ বিস্ময় প্রকাশ করে স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, এই সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সাথে ৯ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে এবং এর সবগুলোতেই জয়লাভ করেেছ।
তাই প্রথম টেস্টে হারিয়ে দিয়ে মুশিফিক বাহিনী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার অপরাজিত থাকার দম্ভ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। আগামী আগামী ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে জহুর আহমদ চৌধুরী দ্বিতীয় টেস্টে হারিয়ে টাইগার বাহিনী অস্ট্রেলিয়াকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে। কারন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে সিরিজ জয় করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় বারের মতো বধ করে বাংলাদেশ এই নতুন ইতিহাস গড়ে তুলুক।
লেখক সত্যবাণীর উপদেষ্টা সম্পাদক

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *