একজন নাদিম কাদির ও পূর্ব লন্ডন


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রাজীব হাসান:: লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছেন  প্রেস মিনিষ্টার নাদিম কাদির । তার সাথে আমার ব্যক্তিগত ভাবে   ভাল সম্পর্ক । তবে কখনো তার অনুষ্ঠান অথবা তার বাসায় কোন দাওয়াতে অংশ গ্রহন করতে পারিনি । কিন্তু কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং এনটিভিতে চায়ের আড্ডায় অনেক বার কথা হয়েছে । বেশ সজ্জন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন শান্তি প্রিয় মানুষ । গত দুই বছরে লন্ডনে বাংলা মিডিয়ার কর্মীদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলেন । লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ইতিহাসে নানা অধ্যায়  রচনা করেছেন । সেই সাথে তৈরি করেছেন পূর্ব লন্ডনের প্রবাসীদের বাঙ্গালীদের সাথে সুনিবিড় সম্পর্ক । ২০১৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর নিয়োগ পত্র পাওয়ার পর চলে আসেন লন্ডনে ।  ব্রিটেনে কর্মরত বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশনের যে দূরত্ব ছিলো সেটা অনেকটা ঘুচাতে প্রচুর কাজ করেছেন তিনি।  ২ বছরের দায়িত্বকালে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র ব্রিটিশ মূলধারার সংবাদপত্রে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও রেখেছেন অসংখ্য ভুমিকা ।

শুরুর দিকে আমার সাথে খুব একটা ভাল সম্পর্ক ছিল না। কারন তাদের ৩/৪ টি সংবাদ আমি কাভার করতে পারিনি । কিন্তু পরবর্তীতে হাইকমিশনের সকল সংবাদ কাভার করতে সক্ষম হয়েছি । মুলত ভুল ইমেলের কারনে আমন্ত্রন পত্র পেতে সমস্যা হয়েছিল । তখন তিনি খুব একটা ভাল চোখে আমায় দেখতে পেয়েছিলেন কিনা বুঝতে পারিনি । যদিও ভাল চোখে দেখার মত কিছু করিনি । যাই হোক সম্পর্কটা কিন্তু খারাপ হয়নি ।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে যখন শুনতে পেয়েছিলাম লন্ডনে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নিয়োগ পেয়েছে, তখন থেকেই তার  প্রতি অন্য রকম সন্মান কাজ করেছিল । মুক্তিযোদ্ধা অথবা তাদের পরিবারের প্রতি আমার  যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন   সর্বদা একটু ভিন্ন ধরনের  । এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা অথবা অন্য কোন বৈষম্য কাজ করে না । জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা যাই করুক না কেন, দেশকে তাদের চেয়ে অন্য কেউ বেশি  ভালবাসতে পারে না । কারন তাদের শরীরে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত । আবেগ দিয়ে বিশ্ব পরিমন্ডলের সবকিছু চিন্তা করা যায়  । কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন ও  স্বাধীনতার মূল্যে রক্ত দিতে হয় । তাই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরাই বলতে পারে বাবা হারানোর কষ্ট কত কঠিন । তবে স্বাধীন দেশে লাল সবুজের পতাকার দিকে তাকিয়ে , তারা ভুলে যায় তাদের  হারানো কষ্ট গুলো । হয়ত নাদিম কাদির তাদের মধ্যে একজন । লাল সবুজের পতাকা দেখে  ৭১ এর বাবা হারানোর কষ্ট ভুলে থাকে ।

২০১৬ সালে লন্ডনস্থ প্রেস মিনিষ্টার নাদিম কাদিরের উদ্যেগে  ‘আমার জন্মভুমি‘ নামে একটি প্রকল্পের যাত্রা হয় । এই প্রকল্পপের মাধ্যমে বৃটিশ-বাংলাদেশী সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ভ্রমন করবেন । এতে সব খরচ বহন করবে  প্রকল্পটির স্পনসর হিসেবে কয়েকটি প্রাইভেট কোম্পাানী । সার্বিক তত্বাবধানে রয়েছে তথ্য মন্ত্রনালয়। ইতিমধ্যে দুইজন প্রতিথযশা সাংবাদিক বাংলাদেশ ঘুরে এসেছেন । এই ভাবে প্রবাসের সাংবাদিকদের জন্য শিকড়ের সাথে সেতুবন্ধন তৈরিতে কাজ করেছেন তিনি ।

মিষ্টি হাসির মানুষ নাদিম কাদিরকে লন্ডনে কর্মক্ষেত্রে  অনেক বেগ পেতে হয়েছে ।  কখনো রাজনৈতিক দল গুলোকে খুশি করতে , কখনো দেশ থেকে আসা সরকারি অতিথি গুলোকে খুশি করা আবার পুর্ব লন্ডনের মিডিয়া কর্মীদের খুশি রাখা ।  কারন তিনি সবার জন্য কিছু করার চেষ্টায় সর্বদা ব্যস্ত থাকেন । যার কারনে তার কাছে সবার একটু অন্য রকম চাওয়া থাকে । সরকারী চাকুরিজীবি হওয়াতে নানা নীতিমালা মান্য করার কারনে সর্বদা  সহযোগীতা করা সম্ভব হয়ে  উঠেনি । তারপরও কারো জন্য কিছু করতে কমতি করেনি । তার ভালবাসার দুয়ার ছিল প্রশান্ত সাগরের মতই প্রশস্ত। তাই ভালোবাসা দেখাতে কমতি করেনি । শত ব্যস্ততায়ও সর্বদা হাসির মধ্য দিয়ে  ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলেন ।

জনাব নাদিম কাদিরের যোগদানের পর  ঈদ ও বিশেষ দিনকে সামনে রেখে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উপহার পৌছেছিল বিলেতের বাংলা মিডিয়ার কর্মীদের হাতে । উপহারটা তেমন বড় একটা ইসু নয় বরং মিডিয়াকর্মীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের যে আন্তরিকতা তিনি দেখিয়েছেন তা বিরল ।  আর এই বিশেষ উপহার গুলো মিডিয়াকর্মীদের হাতে পৌছে দিতেন ওয়াহেদ ভাই । দীর্ঘ সাড়ে চার বছর  লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে কাজ করেছিলেন ওয়াহেদ ভাই । বিদায় বেলায় তার সহকর্মীদের সোস্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা ও মঙ্গল কামনায় দেশে ফিরেন।

সাহিত্য চর্চায় বেশ সময় কাটান তিনি। বিলেতে বসেও বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে লেখালেখির কমতি নেই  প্রেস মিনিষ্টার নাদিম কাদিরের। বাংলাদেশের সফলতা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ব্রিটিশ মূলধারায় ক্রমাগত ভাবে  তুলে ধরেন । লন্ডনে চাকুরিকালিন ডিপ্লোম্যাটিক প্রেস অ্যাটাশে অ্যাসোসিয়েশন লন্ডনের (ডিপিএএএল) লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিক নাদিম কাদির। তিনি জাতিসংঘের দ্যাগ হ্যমারসোল্ড’র ফেলো সাংবাদিক। প্রায় ৩৫ বছর ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে  কাজ করছেন । এই গুনী সাংবাদিকের লেখনির মাধ্যমে সমাজের সকল কালো অধ্যায় গুলো ধ্বংস হয়ে আলোকিত সমাক গঠনে পালন করুক । আপনি অন্য কয়েক জনের মতই সমাজে বিবেক,  আপনার মত সাংবাদিকরা না হলে পৃথিবীতে এত গুনী মানুষের হয়তো জন্ম হতনা । তাই যেখানেই থাকুন আপনার অমলিন হাসিটা আমাদের জন্য ধরে রাখুন  ।  আয়ারল্যান্ডীয় নাট্যকার, ঔপন্যাসিক এবং কবি অস্কার ফিঙ্গাল ও’ফ্ল্যাহারটি উইলস ওয়াইল্ড এর বানী হয়ত আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক নতুন অধ্যায়ে  ”Everyone may not be good, but there’s always something good in everyone.”

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *