অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে পারবেন না প্রধান বিচারপতি: আইনমন্ত্রী


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

সত্যবাণী ডেস্ক: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেসবের সুরাহা না হলে তাঁর স্বপদে ফেরা সম্ভব নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

৩০ দিনের ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার সময় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তুমুল রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই গতকাল শনিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অর্থ পাচারসহ ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানান সুপ্রিম কোর্ট।একদিন পর আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত এই ১১টা এলিগেশনের ব্যাপারে সুরাহা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা (বিচারপতি) হয়তো উনার সঙ্গে বসবেন না। তাহলে উনি (প্রধান বিচারপতি) কী করে এখানে (বেঞ্চে) এসে বসবেন। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একক বেঞ্চের কোনো নিয়ম আছে বলে আমার জানা নেই।এসব অভিযোগে তদন্ত কার হাতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো কিন্তু প্রায় সবই দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতায়। তাহলে পরে আপনারা বুঝতেই পারেন, কে এটা অনুসন্ধান করবে, কে এটার ইনভেস্টিগেশন করবে।তবে সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি নিয়ে কোনো কথা বলতে অপারগতা জানান আইনমন্ত্রী।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে ছুটি ও বিদেশে যাওয়ার দরখাস্তে ‘অসুস্থতার’ কথা উল্লেখ করলেও প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশে যাওয়ার সময় ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ থাকার দাবি করায় স্তম্ভিত হয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ সময় তিনি প্রধান বিচারপতির ছুটি, ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন, বিদেশে যাওয়ার অনুমতির চারটি চিঠিও পড়ে শোনান।আনিসুল হক জানান, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অসুস্থতাজনিত কারণ উল্লেখ করেই গত ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ৩ অক্টোবর থেকে ৩০ দিনের ছুটি চেয়েছেন। এর পর ১০ অক্টোবর বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আরেকটি চিঠি দেন। সেখানে তিনি মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেন।‘কিন্তু বিদেশে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এতে আমি স্তম্ভিত হয়েছি’, যোগ করেন আইনমন্ত্রী।বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশের পর থেকে মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। জাতীয় সংসদেও তাঁর সমালোচনা করা হয়।

এর মধ্যেই গত ১০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে ছুটিতে ছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি ‘অসুস্থতাজনিত কারণে’ রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটি চান। ‘প্রচণ্ড চাপের মুখে’ প্রধান বিচারপতি ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও গতকাল মঙ্গলবার বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা দাবি করেছেন।ছুটির দরখাস্তের পর রাতেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।এর পর গত শুক্রবার রাতে সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আর একপর্যায়ে কাগজে লেখা একটি বিবৃতি দেন। সেখানে শুরুতেই বলা আছে, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি।’ ওই বিবৃতিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।এর পর গতকাল শনিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অর্থ পাচারসহ ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট। বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর বাসভবন বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান। বিচারপতি ইমান আলী বিদেশে থাকায় অন্য চার বিচারপতি বঙ্গভবনে যান।তাঁরা হলেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। সাক্ষাৎকালে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি অভিযোগের দালিলিক তথ্যাদি চার বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধান বিচারপতি দেশ ছেড়ে যাওয়ার একদিন পর কেন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আনা হলো বা তাঁকে কেন যেতে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের এটা স্বীকার করতে হবে যে প্রধান বিচারপতির আসনটা একটা প্রতিষ্ঠান। এই আসন যিনি অলংকৃত করেন, তাঁর সম্পর্কে, তাঁর ব্যাপারে, তাঁকে কোনো ব্যাপারে অভিযুক্ত করতে হয় বা তাঁর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হয়, তাহলে পরে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।খামখেয়ালি করে একজন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা বা তাড়াহুড়া করে একজন প্রধান বিচারপতির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়াটা আমরা মনে করি সমীচীন নয়’, যোগ করেন আনিসুল হক।সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকর না থাকা ও বর্তমান আইন অনুযায়ী সংসদে প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচমেন্টের সুযোগ না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কোন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা ভ্যাকুয়াম আছে। কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতির কিন্তু কিছু ইনহেরেন্ট পাওয়ার আছে, সেটা তিনি ব্যবহার করতে পারেন।’

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *