রোহিঙ্গা ইস্যু: রোম স্ট্যাচুট’র বাস্তবায়ন চায় বাংলাদেশ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

প্রেস রিলিজ ডেস্ক
সত্যবাণী

হেগ, নেদারল্যান্ড থেকে: রোহিঙ্গা ইস্যুতে রোম স্স্ট্যাচুট এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চায়  বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ১৬তম অধিবেশনে নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

২৩ টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত আই সি সি-এর শীর্ষ উপদেষ্টা পর্ষদ ‘ব্যুরো’-তে এশিয়া-প্রশান্ত গ্রুপে জাপান ও ফিলিস্তিন-এর সাথে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করায় সদস্য রাষ্ট্র সমূহের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রদূত।

অধিবেশনে রাষ্ট্রদূত বেলাল বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের চলমান বিচার প্রক্রিয়া রোম স্স্ট্যাচুট এর নীতির পরিপূরক । সদস্য রাষ্ট্র সমূহ জাতীয় আইনের বৈচিত্রের সাথে সঙ্গতি বজায় রেখে আইসিসি’র নিয়ম-নীতিসমূহের প্রচারের মাধ্যমে তা জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কাজকে সুসংহত করা যায় সে বিষয়ে বাংলাদেশ যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করে।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, লিঙ্গ বৈষম্য ও যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বিচারিক সফলতার অভিজ্ঞতা সবার সাথে বিনিময়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁর বক্তৃতায়।

তিনি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল ধরনের আগ্রাসন ও হানাহানি বন্ধে আইসিসি’র ভূমিকাকে আরো জোরালো করার আহ্বান জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান জাতিগত নিধনের ভয়াবহতার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রদূত বেলাল, জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সসম্মানে এবং নিরাপত্তার সাথে স্বদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সরকারের সাথে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে অধিবেশনকে অবহিত করেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সুশীল সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গাদের আবেদনের প্রতি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রদূত বেলাল এই নৃশংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার প্রত্যাবর্তনে আস্থা সৃষ্টিরও আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তদন্তকারী দলকে মিয়ানমারে প্রবেশে অনুমতি না দেয়া এবং এর পরিবর্তে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এ সংক্রান্ত তদন্তে এই অন্যায়ের কোন চিত্রই উঠে আসেনি মন্তব্য করে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ সংকীর্ণ স্বার্থ চিন্তা না করে সামগ্রিক বৈশ্বিক সম্প্রীতি ও উন্নতির লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশ্ব সম্প্রদায়কে এমনটিই  আশ্বস্ত করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন ‘মানবতার জননী খ্যাত আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি নিজেদের স্বার্থচিন্তায় ব্যাপৃত থাকতেন তাহলে বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় হতো না’।  মানবতার স্বার্থে বাংলাদেশ যে সঠিক কাজ করছে, সেভাবে সকলকে তাঁদের নিজ নিজ ভূমিকা পালনের জন্য রাষ্ট্রদূত  আহ্বান জানান।

রোম স্স্ট্যাচুট’র ১৬তম সদস্য রাষ্ট্রপক্ষীয় অধিবেশনে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টের ১২৩ সদস্য রাষ্ট্রই অংশগ্রহণ করছে। এছাড়াও ব্যাপক সংখ্যক সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং এনজিও প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *