কী সম্পর্ক সিনেমার পদ্মাবতী আর গুজরাট ভোটের?


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সত্যবাণী

ভারতঃ ভারতের বলিউডে চলতি বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবির নাম ছিল পদ্মাবতী। ছবিটি প্রায় ৭০০ বছর আগে চিতোরের রানী পদ্মিনীর জীবন নিয়ে তৈরি।কিন্তু পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির এই সিনেমাকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের পর ছবি মুক্তিই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই তার জন্য দায়ী করছেন গুজরাটের নির্বাচনকে।গুজরাটের প্রভাবশালী রাজপুত ভোটারদের তুষ্ট করতেই বিজেপি পদ্মাবতীর বিরোধিতায় সরব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বিরোধী কংগ্রেসও তাতে গলা মিলিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।রাজপুত মর্যাদা রক্ষার নামে গুজরাটের নির্বাচনী রাজনীতি কীভাবে শিল্পীর স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে তুলেছে, গুজরাটের পথে-প্রান্তরে তারই সন্ধান করেছিলাম।

রাজপুতানার ঘুমর লোকনৃত্যের তালে নাচতে ভালোবাসতেন চিতোরের রানী পদ্মিনী। যিনি দিল্লির শাসক আলাউদ্দিন খিলজির হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে শত শত সঙ্গিনীকে নিয়ে আগুনে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, সংক্ষেপে এই হলো বলিউডের ‘ম্যাগনাম ওপাস’ পদ্মাবতী সিনেমার বিষয়বস্তু।ছবিটি সারা ভারতেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল এ মাসের গোড়ায়। কিন্তু নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালির সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছে রাজপুতদের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নটি।গুজরাটে রাজপুত নেতাদের অন্যতম বাপুনগরের বিজেপি এমএলএ জগরূপ সিং রাজপুত। তিনি বলছেন, “ভারতের দুর্ভাগ্য হলো চিরকাল এ দেশে ইতিহাসকে বিকৃত করে পেশ করা হয়। মহারানা প্রতাপকে না-বলে আমরা নায়ক বলি আকবরকে।”

তিনি বলেন, “হুমায়ুনের বীরগাথা গাই, অথচ শরীরে ৮২টা আঘাত নিয়ে যিনি তার সঙ্গে লড়েছিলেন সেই রানা সাঙ্গার কথা বলি না। রানী পদ্মিনী ঘোমটা ছাড়াই নাচছেন, সিনেমায় এ দৃশ্য দেখাতে আমাদের সঙ্কোচ হয় না। অথচ বাস্তবে রাজপুত রমণীরা আজও ঘোমটা প্রথা মানেন, রাজপুত সমাজে তাদের আলাদা মর্যাদা দেয়া হয়।বলিউডের পদ্মাবতী সেই মর্যাদার অবমাননা করেছে, এই যুক্তিতেই গুজরাটের বিজেপি সরকার রাজ্যে ছবিটির বিরোধিতা করেছে। রাজস্থানের বাইরে এই গুজরাটেও রাজপুতরা যথেষ্ট প্রতিপত্তিশালী, রাজ্যের বহু নেতা-রাজনীতিক-শিল্পপতি থেকে ক্রিকেট তারকা রবীন্দ্র জাডেজা, অনেকেই রাজপুত।তবে সমাজবিজ্ঞানী ও গুজরাট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রঞ্জনা ঢোলাকিয়া বলেন, “ছবিটা কেউ দেখেইনি। অথচ সবাই ধরেই নিচ্ছে ওতে অমুক আছে বা তমুক আছে এবং রাজপুতদের অপমান করা হয়েছে।”

এটা যে গুজরাটের নির্বাচনের কারণেই, তা নিয়ে তার অন্তত কোনো সন্দেহ নেই। আহমেদাবাদের তরুণী প্রিয়াঙ্কা শাহও তার সঙ্গে একমত।তিনি বলেন, “ভোটের জন্যই ছবিটাকে এখানে আটকানো হয়েছে, সেটা বেশ বুঝতে পারছি। নইলে এখানকার লোকজন যেমন মারকুটে ধরনের, তাতে পদ্মাবতী নিয়ে একটা দাঙ্গা বা হিংসা বেধে যেতে আর কতক্ষণ!আহমেদাবাদের ভিরাম ঠাকুর বলেন, “স্কুলে আমরা রানী পদ্মাবতীকে নিয়ে অনেক কিছু পড়েছি। তিনি কী ছিলেন সেটা জানি। কিন্তু মুশকিল হলো ভারতে কিছু লোক এই ধরনের বিষয়ে বিতর্ক তৈরি করে ফায়দা লুটতে চায়, আর সঞ্জয় লীলা বানসালি তাদেরই একজন!”

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *