‘নারী বৈষম্য’র প্রতিবাদে পদ ছাড়লেন বিবিসি’র সম্পাদক


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডন: অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ, পুরুষ কর্মীদের চেয়ে বেতন কম দেওয়াসহ নানা বৈষম্যের অভিযোগ এনে বিবিসির চীনবিষয়ক সম্পাদক ক্যারি গ্রাসি পদত্যাগ করেছেন।একটি খোলা চিঠিতে ক্যারি গ্রাসি অভিযোগ করেন, গোপনে ও অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের সংস্কৃতি রয়েছে বিবিসিতে। তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় বিবিসিতে চাকরি করছেন।

তিনি বলেন, দুই তৃতীয়াংশ তারকা সাংবাদিক বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড বেতন পান। তারা সবাই পুরুষ। আর এই বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর বিবিসি আস্থার সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। তবে বিবিসি বলেছে, এখানে ‘নারীদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার কোনো উপায় নেই।বেইজিং ব্যুরোতে সম্পাদক হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব পালন করতেন তা থেকে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তিনি বিবিসির সঙ্গে থাকবেন। তিনি জানান, আগে তিনি টেলিভিশনের বার্তাকক্ষে যে পদে কাজ করতেন সেখানে ফিরে যাবেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সেখানে আমাকে সঠিক বেতন দেওয়া হতো।চীনের মান্দারিন ভাষায় বিশেষজ্ঞ ক্যারি গ্রাসি তার ব্লগে পোস্ট করা এক চিঠিতে বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বেতন কাঠামো না থাকলে বৈষম্য হবে। বিবিসি বাধ্য হয়েছিল, বছরে যাদের বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি, তাদের তালিকা প্রকাশ করতে। গত বছরের জুলাইয়ে তারা এটি প্রকাশ করে।ক্যারি গ্রাসি বলেন, দুজন আন্তর্জাতিকবিষয়ক পুরুষ সম্পাদক প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বেতন পান; একই পদে কর্মরত দুজন নারী সম্পাদকের তুলনায়।

যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক সম্পাদক জন সোপেল ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৪৯ হাজার পাউন্ড বেতন পান, মধ্য প্রাচ্যবিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বউন ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড থেকে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ পাউন্ড বেতন পান। প্রকাশিত ওই তালিকায় ক্যারি গ্রাসির নাম ছিল না। তার মানে তার বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের চেয়ে কম।ক্যারি গ্রাসি ও বিবিসির ইউরোপবিষয়ক সম্পাদক কাতিয়া অ্যাডলার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেখানে সমান বেতন প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।খোলা চিঠিতে গ্রাসি বলেন, দ্য ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট-২০১০ অনুযায়ী, সমান কাজের জন্য নারী-পুরুষের একই বেতন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানলাম, গত বছর দুজন পুরুষ কর্মী দুজন নারী কর্মীর চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বেতন পেয়েছে।বিবিসির মুখপাত্র বলেছেন, বেতন প্রদানে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান বেতন কাঠামো প্রকাশ করছে। তাদের মধ্যে অনেকের বেতন কাঠামোর চেয়ে আমাদেরটা ভালো। এ ছাড়া এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি অডিট করা হয়েছে সেখানে বেতন কাঠামোতে কোনো পদ্ধতিগত বৈষম্য নেই।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *