দেশে ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের দিঘায় আটক বাংলাদেশী মৎসজীবিরা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রক্তিম দাশ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, সত্যবাণী

কলকাতা থেকে: ভাসতে ভাসতে একসময়ে বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ভারতীয় মৎসজীবি ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় তিন মাস কার্যত নির্বাসনে কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি মৎসজীবিরা।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হেমনগর কোস্টাল থানার সহযোগিতায় বুধবার বাংলাদেশি সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় দু-দেশের সীমান্তরক্ষীদের উপস্থিতিতে জিরো পয়েন্টে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন ভারতের হেমনগর থানার ওসি রাকেশ চ্যাটার্জী, বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার রাজেশ কুমার গুপ্তা ও বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল আল মামুন ও স্থানিয় শ্যামনগর থানার ওসি শিমূল ইসলাম।

56B590D7-1ED9-446E-ACB3-83468659676Dবাংলাদেশি ট্রলারটিকে দীঘা থেকে প্রায় ৬০০কিলোমিটার সমুদ্র ও নদী পথে অপর ট্রলার দিয়ে টেনে ও দীঘা কোস্টাল গার্ডের নিরাপত্তা ভেসেলের কড়া নিরাপত্তা বেস্টনিতে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিবঙ্গের হেমনগর কোস্টাল থানা এলাকায় প্রত্যাপনের জন্য নিয়ে আসা হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রংপুর ডিভিশানের ভাদুড়িয়া থানা এলাকার মহিপুর বন্দর থেকে ১৪ জন মৎস্যজীবির একটি দল গত নভেম্বরের ১৪ তারিখ নাগাদ মাছ ধরার জন্য চম্পা আক্তার নামের ট্রলারে চেপে সমূদ্রে যাত্রা করে। কিন্তু এর একদিন বাদেই ট্রলারের ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে যায়। ফলে সমূদ্রেই টানা পাঁচদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ভাসতে থাকে ট্রলারটি। বাঁচার আশা যখন তাঁরা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল সেই সময় দূর থেকে ভারতীয় একটি ট্রলারকে যেতে দেখে সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানায় বাংলাদেশি ট্রলারের মৎস্যজীবিরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দিঘার মৎস্যজীবি শম্ভু মাজী ও তাঁর সঙ্গীরা ওই ট্রলারটিকে টেনে দিঘায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে দিঘা মোহনা থানার পুলিশ ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ও কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর বাংলাদেশিদের গ্রেফতার করেনি। তাঁদের পুলিশি নজরদারীতে ওই ট্রলারেই রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু আইনী জটিলতায় প্রবল শীতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দিঘার সমুদ্রতটে মোহনায় খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছিলেন ওই ১৪ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবির দল।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *