অর্ধ শতাব্দী পাড়ি দিলেন সাংবাদিক মাহবুব রহমান


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডন: অর্ধশতাব্দী পাড়ি দিলেন বিলেতের বাংলা মিডিয়ার পরিচিত মুখ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি সাংবাদিক মাহবুব রহমান। একান্নতে পা দিয়েছেন তিনি এবছর। পঞ্চাশ পেরিয়ে শতবর্ষের দিকে এগিয়ে চলা ‘চির তরুণ’ সহকর্মী এই সাংবাদিক বন্ধুকে নিয়ে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনে বসেছিলো এক মিলন মেলা। বহির্বিশ্বের প্রাচীনতম বাংলা সাপ্তাহিক ‘জনমত’ পরিবার ছিলো এই মিলন মেলার উদ্যোক্তা।
জরুরী বিষয়ে কথা বলার আমন্ত্রণ পেয়ে মাহবুব রহমান যখন পূর্ব লন্ডনের ‘থাই এন্ড পাই’ রেষ্টুরেন্টের আলো-আঁধারি বেইজমেন্ট হলরুমে এসে ঢুকেন তখন ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’ সুরের যৌথ উচ্চকন্ঠ তাঁকে কিছক্ষনের জন্যে হলেও বাকহীন করে দেয়।

ছবি: খালিদ হোসেন
ছবি: খালিদ হোসেন

একজন বন্ধু, একজন সহকর্মী মাহবুব রহমানের জন্মবার্ষিকী ঘিরে আয়োজিত ঐ মিলন সন্ধ্যা হাসি, আনন্দ, স্মৃতিচারণে হয়ে উঠেছিলো এমন প্রাণবন্ত, যেখানে সিনিয়র-জুনিয়রের ভেদাভেদ পালাতে হয়েছিলো বাধ্য। জন্মদিনের উৎসব ঘিরে ‘বার্থডে বয়’ মাহবুব রহমানের সহকর্মী বন্ধুদের আনন্দ-উচ্ছাস-“জন্মদিনে উৎসব করাটা বোকামি। জীবন থেকে একটা বছর ঝড়ে গেলো, সে জন্যে অনুতাপ করাই উচিত’’ – নরম্যান বি. হলের জন্মদিন বিষয়ক সেই বিখ্যাত উক্তিকেই উল্টো বোকামী পর্যায়ে নিয়ে ফেলে ঐ আনন্দ সন্ধ্যায়।

ছবি: খালিদ হোসেন
ছবি: খালিদ হোসেন

মাহবুব রহমানের সাংবাদিকতা ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিক বন্ধুদের স্মৃতিচারণে যেমন উঠে আসে, ঠিক তেমনি তাঁর ব্যাক্তিগত জীবনের অনেক না জানা প্রশংসনীয় অধ্যায়ও আলোচিত হয় জন্মোৎসব আড্ডায়। মাতৃময় মাহবুব রহমানের মায়ের প্রতি ভালবাসা’র না জানা অধ্যায়টি যখন সাংবাদিক সাঈম চৌধুরী স্মৃতিচারণে তুলে ধরেন, তখন আড্ডায় উপস্থিত মা-হারা ও এখনও মায়ের স্নেহধন্য সবাই কিছুক্ষনের জন্যে হলেও ফিরে যান নিজ নিজ মায়ের কোলে। সাঈম জানান, মাহবুব রহমান প্রতি তিন মাস অন্তর বাংলাদেশে যান শুধুমাত্র মায়ের পরবর্তী তিন মাসের যাবতীয় বাজার খরচ করে দিয়ে আসতে। বিনিময়ে কর্মস্থলে ফিরে আসার সময় পরবর্তী তিনমাস চলার ফুয়েল হিসেবে নিয়ে আসেন মায়ের আশির্বাদ ও ভালোবাসা।

ছবি: খালিদ হোসেন
ছবি: খালিদ হোসেন

ব্যাক্তি মাহবুব, সাংবাদিক মাহবুব এমন কি প্রেস ক্লাব রাজনীতির  কুশিলব মাহবুব- কোন কিছুই বাদ যায়নি ঐ স্বর্ণালী সন্ধ্যায় সহকর্মী বন্ধুদের আলোচনায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আয়োজক জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিন তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও আয়োজনের জন্য প্রশংসাবিদ্ধ হলেও বন্ধুদের লুকানো বয়স ফাঁস করে দেয়ার অম্লমধুর ‘অভিযোগেও’ অভিযুক্ত হন। এর আগেও তিনি আমন্ত্রিতদের উপর ‘মার্শাল্ল’ জারি করে সর্বোচ্চ গোপনিয়তা রক্ষার মাধ্যমে বন্ধুদের জন্ম দিনের পার্টি আয়োজন করায় তাঁর বিরুদ্ধে অম্লমধুর ‘অভিযোগ’ উত্তাপন করে বলা হয় নিজে পঞ্চাশ অতিক্রম করেছেন বলে যততাড়াতাড়ী সম্ভব বন্ধুদেরও এই তালিকায় আনতে চান তিনি। আর তাই বন্ধুদের কেউ বয়স গোপন করে বাহ্যিক ভাবে তারুণ্যের সীমানায় থাকতে চাইলেও তিনি খুঁজে খুঁজে তা বের করে নিয়ে আসেন। নবাব উদ্দিনের বিষয়ে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলা হয়, ৫০,৫৫ বা ৬০ অভিমূখে যারা, তাদের তালিকা করছেন নবাব উদ্দিন, সুতরাং ঐ তালিকাভুক্তদের হাটে হারি ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
4A698281-61A4-497E-85C9-8779900F0650বন্ধুদের প্রশংসাবাক্য ও ভলোবাসার জবাবে আবেগাপ্লুত মাহবুব রহমান বলেন, আসলে আমার অনেক নেগেটিভ দিক থাকলেও উদার মনের বন্ধুরা আমার সেদিকটি আনেননি আজকের এই স্বর্ণালী অনুষ্ঠানে। ঐদিকটাও আসা উচিত ছিলো। জনমত পরিবার আয়োজিত এই জন্ম বার্ষিকী অনুষ্ঠান তাঁর জীবনের অন্যতম পাওয়া এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি অভিভূত, আপ্লুত। বন্ধুদের মনে আমার জন্য এত এত ভালোবাসা পুরো জীবনটাকেই আবার সুন্দর করে তুলে ধরেছে আমার চোখের সামনে। আজকের এ অনুষ্ঠান আমাকে শুধু হতচকিতই করেনি, আবেগাপ্লুতও করেছে। এ ঋন শোধবার সাধ্য আমার নেই’।
উত্তরে বন্ধুরা যেন তাঁকে বলতে চাইলেন,
“আকাশ দিল
স্বপ্ন তোমায়,
জীবন দিল হাওয়া,
সুখ সাগরে হোক না তব
প্রাণের তরী বাওয়া’’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়ের, প্রবীন সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, সৈয়দ আনাস পাশা, আহমেদ ময়েজ, আমিরুল চৌধুরী, আতিক চৌধুরী, জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, কামাল মেহদী, নিলুফা ইয়াসমীন, রুপি আমিন, পলি সুলতান, মোসলেহ উদ্দিন, আহাদ চৌধুরী বাবু, মোস্তফা কামাল মিলন, সুরমা’র আব্দুল কাইয়ুম, আব্দাল উল্লা, আব্দুল করিম গনি, আকবর হোসেন, প্রেস ক্লাব সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আব্দুল কাইয়ুম, তৌহিদ আহমেদ, মোহাম্মদ সোবহান, মোস্তাক বাবুল, ইমরান আহমদ, শহিদুল ইসলাম সাগর, ফারহান খান, তারেক চৌধুরী, তবারকুল ইসলাম, রেজাউল করিম মৃধা ও আব্দুল হান্নান প্রমূখ।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *