বারেক সাহেবের এলোমেলো ভাবনা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Shopnil-2

ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) 

বারেক সাহেবের ইদানিং ব্যস্ততা খুব বেশি, টিভি টকশো-তে প্রায়ই ডাক-টাক পড়ছে। গত ক’বছরে টিভি পাড়ায় ক’বার তার পা পড়েছে মনে পড়ে না বারেক সাহেবের। রাজনীতির মাঠে একচেটিয়া গোল দিয়েছে সরকার। টকশোগুলো হয়ে গিয়েছিল সরকার কেন্দ্রীক। সরকারের কোনটা বেশি ভাল আর কোনটা একটু কম, কোনটায় দোষ অল্প আর কোন কাজে খুত একটু বেশি এখানেই ঘুরপাক খেয়েছে টকশোগুলো।

আর টকশোওয়ালাদেরই বা দোষ কি? মাঠ ছেড়ে যদি ড্রইংরুমে যায় রাজনীতি সরকারতো গোল দিবেই। নিজের সিদ্ধান্তে কেউ যদি সরকারি দল থেকে বিরোধী দল, বিরোধী দল থেকে সাবেক বিরোধী দল আর তারপর মুসলিম লীগের পথে হাটা দেয় তাহলে টকশোওয়ালাদের খুব করার কি কিছু একটা আছে?

এসব কথা মনে আসলেও মুখে আনেননি বারেক সাহেব। দরকারই বা কি? যাওবা একটু নেতাগিরি, সরকারি দপ্তরে বিরোধী দলের নেতা হিসাবে একটু পাত্তা পাওয়া, ব্যবসায় আরেকটু বাড়তি সুবিধা- সবই তো যাবে।

টকশোগুলোতে বিরোধী দলের আসনগুলো গত ক’বছর দখল করেছিল কিছু মার্কামারা মুখ আর নতুন গজিয়ে ওঠা কিছু নেতা। পুরনোগুলোতো তাও কিছু বুঝ-সুঝ করে বলে। নতুনগুলোর কথা শুনলেতো মাথা ব্যথা করে বারেক সাহেবেরই, পাবলিকের জানি কি মনে হয়?

আর এ নতুনদেরই বা কি দোষ? দলের বড় পদ থেকে যখন বলা হয় জোড়াতালি দিয়ে বানানো পদ্মা সেতু নাকি শুধু সরকারি লোকদের ব্যবহারের জন্য, আর তারা করবেন বর্জন তখন কি শিখবে এই ‘ইয়াং স্টাররা’।

টকশোতে ডাক না পড়ায় বরং খুশি বারেক সাহেব। আর যাই হোক টিভিতে বসে অন্তত আর পদ্মা বিজ্রের জোড়াতালি তত্ত্বের পক্ষে সাফাই গাইতে হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক বড় রায়টার পরে অবশ্য আবার ডাক পড়তে শুরু করেছে বারেক সাহেবদের। এই সরকারের আমলে তো আবার টিভির ছড়াছড়ি আর সেখানে ছড়াছড়ি টকশো’র। পুরাতন আর নতুন লোকগুলোর টিভির পর্দায় বাড়তি চাহিদা সামলে উঠতে পারছে না। বাড়ছে তাই বারেক সাহেবদের সান্ধ্যকালীন ব্যস্ততা। আর টিভিতে নিজের চেহারা দেখে আর দেখিয়েই যে বারেক সাহেবদের সন্তুষ্টি বাড়ছে তাতো বলাই বাহুল্য।

রায়ের দু’তিন দিন আগে স্পোর্টসের দোকার থেকে দু’তিনটা দামি ট্রাউজার আর কেডস কিনেছেন বারেক সাহেব। ধারণা করেছিলেন রায়ের পর দৌড়া-দৌড়ি বাড়বে। আর তাই এই প্রস্তুতি। রায়ের পর খুব একটা ভুল চিন্তা করেননি বারেক সাহেব।

দৌড়া-দৌড়ি বেড়েছে ঠিকই, তবে তা রাস্তায় নয়। টিভিতে টিভিতে। টিভির পর্দায় বসে অনুষ্ণ রাজপথের উষ্ণতা ঘরে-ঘরে ছড়িয়ে দেয়াই এখন তাদের টার্গেট। ব্যাপারটা অবশ্য অনেকটা নিজের প্রাডোর এসি চালিয়ে, জানালা খুলে বাইরের চারপাশটা ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করার মত।

ভালই বোঝেন বারেক সাহেব। তবুও খুশি তিনি। হোক না, তাতে কি? ভাবেন বারেক সাহেব। তার কথাগুলোতো অন্তত শোনা যাচ্ছে পুরানো ঢাকা থেকে লন্ডন সবখানে।

টকশো-তে যাচ্ছেন বলে ইদানিং পড়ালেখা করতে হচ্ছে টুক-টাক আর চিন্তা-ভাবনা করতে হচ্ছে তার চাইতে ঢের বেশি। বলাতো যায় না কখন কি প্রসঙ্গে কি বলে বসেন। কথায় আছে না জিহ্বা মানুষের বড় শত্রু। আর এতসব ভাবতে ভাবতে বারেক সাহেবের মাথায় ঘোরে অদ্ভুত যত ভাবনা।

একটা শ্লোগান ইদানিং খুব বেশি ভাবাচ্ছে তাকে। সবসময় বলে এসেছেন ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ। আর এখন হঠাৎ দেশের নেত্রীকে আমার নেত্রী বানিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে দলের লোকজন। রায়ের পর দলের আর দেশের প্রতিক্রিয়া দেখেও বারেক সাহেবের কেন যেন মনে হয়েছে ‘উনি’ আর দেশের নন আমার! ‘উনার’ বহুবচন থেকে একবচনে এই ডিমোশনে চিন্তিত বারেক সাহেব।

চিন্তা আরো বাড়ে যখন দেখেন ‘উনি’ হঠাৎ ম্যাডাম থেকে মা হয়ে গেছেন। ভাবেন কি জানি ‘উনার’ অবস্থানগত এই পরিবর্তনটা আবার পাকাপাকি কিনা? তাহলেতো রাজনীতি হবে গুলশান থেকে বিলেতমুখী। গোছাতে হবে নতুন করে। এদিকে সময়ওতো কম। ডিসেম্বরতো আসি-আসি। বিলেত যেতে সমস্যা নেই বারেক সাহেবের। সমস্যা হলো ওখানেতো ঘিরে আছে সব বোকার দল। কেন যে দূতাবাস ভাঙচুর করলো আর কেনই বা আবার পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে তা স্বীকারও করে নিলো মাথায় ঢোকে না বারেক সাহেবের।

সব কিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে! নিজের রাজনীতি এখন আর নিজেই বোঝেন না বারেক সাহেব। ‘দূর ছাই, টকশোতেই যাই। অন্তত ঐ একটা জায়গায় গেলেতো গুলশান আর বিলেত দু’জায়গাই কাভার হয়’!

অতএব টকশো জিন্দাবাদ।

লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *