বাংলার মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু জীবন উৎসর্গ করেছেন: প্রধানমন্ত্রী


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বাংলার মানুষ জাতির পিতার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতো।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ যেখানে শিশুপার্ক ঠিক সেখানে সেদিনের মঞ্চ ছিল। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেখানে উপস্থিত থাকার। জাতির পিতা সেখানে দাঁড়িয়েই ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।তার সে ঘোষণা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে যায়। সত্যি প্রতিটি ঘর দুর্গ গড়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। পাকিস্তানিরা যখন গণহত্যা শুরু করলো তখন বঙ্গবন্ধু ইপিআরের ওয়ারলেস ব্যবহার করে স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় একটা ভাষাভিত্তিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিত করিয়েছিলেন জাতির পিতা। এদেশের মানুষ ছিল শোষিত-বঞ্চিত, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, রাজনৈতিক মুক্তির জন্যই ছিল জাতির পিতার আন্দোলন সংগ্রাম। ফলাফল- তিনি গ্রেফতার, নির্যাতিত হয়েছেন, বারবার বন্দি হয়েছেন। আমাদের যুব সমাজ এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য মাত্র সাড়ে ৩ বছর হাতে সময় পেয়েছিলেন জাতির পিতা। এ অল্প সময়ে একটা দেশকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জাতির পিতা সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে (১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট) চরম আঘাত আসে, কি অন্যায় তিনি করেছিলেন। দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এজন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। যে দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে সে দেশের উন্নয়ন কিভাবে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায় না। ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়।তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ইপিআর ওয়ারলেসের মাধ্যমে শেষ শত্রুকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন জাতির পিতা।তিনি আরো বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করতে জাতির পিতার নির্দেশে জনগণ ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে, যার যা যা ছিল তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। তবে ওই সময় একটি দল পাকিস্তানি বাহিনীকে গ্রামের পর গ্রামে নিয়ে গিয়েছিল। আমার মা-বোনদের পাক হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা গণহত্যা চালিয়েছিল। গ্রামে গ্রামে আগুন দিয়েছিল।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জাতির পিতা এদের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর তাদেরকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে মন্ত্রী-উপদেষ্টা করা হয়েছিল।প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কেউ এটা বাজালে জেল-জুলুম করা হতো।বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে। উন্নয়নের সুফল গ্রাম পর্যায়ে চলে গেছে। আমরা মানবতার কথা চিন্তা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা বুঝি তাদের কষ্ট। কারণ, এক সময় আমাদের এক কোটি মানুষ আশ্রিত ছিল। কিন্তু যারা মানবতাবিরোধী কাজ করছে আপনাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে।’

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *