কাঠগড়ায় ফেসবুক


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডন: সংসদ সদস্যদের বিভ্রান্ত করতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে ফেসবুক ও যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার বিরুদ্ধে। দেশটির সংসদীয় কমিটির প্রধান ডামিয়ান কলিন্স এই অভিযোগ করেছেন। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে কয়েক কোটি মানুষের ফেসবুক প্রোফাইলে থাকা তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। কলিন্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গকে কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হবে। এর আগে কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর জন্য ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা থেকে পাঠানো কর্মকর্তারা কোনও উত্তর জানেন না বলে দাবি করেছিলেন।সম্প্রতি ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার বিরুদ্ধে ৫ কোটির বেশি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে তথ্য নিয়ে তার অপব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় সাধারণ সংস্কৃতি, সংবাদমাধ্যম ও ক্রীড়া বাছাই বিষয়ক যুক্তরাজ্যের সংসদীয় কমিটি বিষয়টির তদন্ত শুরু করে। কলিন্স বলেন, ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেকজান্ডার নিক্সকে আবারও সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য ডেকে পাঠানো হবে। গত মাসে নিক্স কমিটির কাছে দাবি করেছিলেন তার কোম্পানি জিএসআর’র কাছ থেকে কোনও তথ্য-উপাত্ত পায়নি। আমরা তার বক্তব্যগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য  আগামী সপ্তাহে আবারও যোগাযোগ করবো।অভিযোগ উত্থাপনকারী ক্রিস ওইলি দাবি করেছিলেন, প্রায় ৫ কোটি ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করেছে ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা। এসব প্রোফাইলের মধ্যে বেশিরভাগই মার্কিন নাগরিকদের। এটা ফেসবুকের অন্যতম বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনা। এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের হেয় করা হয়েছে। একটি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। ওইলি বলেন, ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।ডামিয়ান কলিন্স বলেন, যেসব মানুষ ফেসবুকে থাকা তথ্যের অপব্যবহার সম্পর্কে বলতে চান তাদের কাছ থেকে আমরা শুনতে চাই। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান জানতে চায়। তিনি আরও বলেন, কাউকে এটার দায়িত্ব নিতে হবে। মার্ক জাকারবার্গকে এখন তার ফেসবুক পেজের আড়ালে লুকানো বন্ধ করতে হবে।

এর আগে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তার জন্য তথ্য-উপাত্ত সরবরাহকারী কোম্পানিটিকে ফেসবুক থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফেসবুক তদন্ত করে পেয়েছে, ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকাসহ অন্যরা এখনও সেসব তথ্য নষ্ট করেনি। এভাবে তথ্য সংগ্রহ করা ফেসবুক নীতিমালার বিরোধী।ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা বলেছে, তারা ফেসবুক নীতিমালা মেনে নিয়ে ফেসবুক চাওয়ার পরই তা নষ্ট করে দিয়েছে। তারা ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত আর কোনও তথ্য সরক্ষণ করেনি বা ব্যবহারও করেনি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার নাম ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রচারণায় তারা মার্কিন ভোটারদের চিন্তার বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য সরবরাহ করতো। প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের বেক্সিট নির্বাচনের ইশতেহার নিয়েও প্রচারণা চালিয়েছে।

ফেসবুকের সহকারী আইন উপদেষ্ট পল গ্রিওয়াল একটি ব্লগপোস্টে সিদ্ধান্তটির বিস্তারিত উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, ২০১৫ সালে ফেসবুক জানতে পারে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর ড. আলেকসান্ডার কোগান আমাদের নীতি ভঙ্গ করেছেন। প্রফেসর কোগান একটি ফেসবুক অ্যাপ তৈরি করেন, যা প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার মানুষ ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে কোগান তাদের প্রোফাইলে থাকা বিভিন্ন তথ্য পেয়ে যান। এছাড়া তারা যেসব বিষয়বস্তু পছন্দ করেন তাতেও প্রবেশাধিকার পান। এমনকি ব্যবহারকারীদের বন্ধুদেরও সম্পর্কেও নানা তথ্য সংগ্রহ করেন কোগান।ফেসবুক বলেছে, এসব তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হয় ও পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তৃতীয় পক্ষের মধ্যে ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা ও এর মাতৃপ্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজিস ছিল। এছাড়া ইউনোইয়া টেকনোলজিসের নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী এই তথ্য কিনেছিলেন। গ্রিওয়াল দাবি করেন, কোগান আইনগতভাবে ও যথাযথ উপায়েই তথ্যগুলো সংগ্রহ করলেও অন্যান্য ডেভেলপারের মতো তিনি ফেসবুকের নিয়ম মানেননি। ফেসবুক বলছে, যেসব কোম্পানি তথ্যগুলো কিনেছে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তা মুছে ফেলার কথা জানিয়েছে। আর ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা এক বিবৃতিতে বলেছে, যখন জানতে পেরেছে তথ্যগুলো ফেসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করে সংগ্রহ করা হয়েছে, সাথে সাথে সব ডাটা মুছে ফেলেছে। সন্দেহ দূর করতে কোনও ডাটাই আর ব্যবহার করা হচ্ছে না।আর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, প্রফেসর কোগান এসব তথ্য সংগ্রহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সুবিধা ব্যবহার করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রফেসররা তাদের নিজস্ব ব্যবসায়ের চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু তা অবশ্যই ব্যক্তিগত সক্ষমতায় করতে হবে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *