৭৬ হাজার পাউন্ড ছাত্রবৃত্তি পেয়ে ‘ইটন’ এ ভর্তির সুযোগ পেলো ব্রিটিশ-বাংলাদেশী কাশিফ 


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page
Ashif with Father
ছবি: ডেইলি মেইলের সৌজন্যে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সত্যবাণী

লন্ডন: ৭৬ হাজার পাউন্ড ছাত্রবৃত্তি পেয়ে অভিজাত শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বখ্যাত ‘ইটন’ পাবলিক স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পেলো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ কিশোর কাশিফ কামালী। এই সুযোগ নিতে হলে জিসিএসই পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে তাকে পেতে হবে এ ষ্টার, যা কাশিফের দ্বারা সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রেডিক্টেড গ্রেইড।

১৪৪০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা হ্যানরী-৬ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘ইটন’ ব্রিটেনের অভিজাত শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এই স্কুল তৈরী করেছে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরণ, বর্তমান ফরেন সেক্রেটারী বরিস জনসনসহ ব্রিটেন ও বিশ্বের অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই এই স্কুলে করেছেন অধ্যায়ন। শুধু রাজনৈতিক নয়, পার্সি বিশহে শেলী (Percy Bysshe Shelley), জর্জ ওরওয়েল (George Orwell), হিউ লরি (Hugh Laurie)  ও ডেমিয়েন লুইস (Damian Lewis) এর মত  বিশ্বব্যাপী খ্যাতিমান অনেক সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্বও জন্ম দিয়েছে ‘ইটন’।

দুই বছরের জন্য ছাত্রবৃত্তি জয় করে পূর্ব লন্ডনের ফরেষ্ট গেইট কমিউনিটি স্কুলে অধ্যায়নরত জিসিএসই ছাত্র কাশিফ প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারির পথ ধরে এখন অধ্যায়ন করবে এই স্কুলে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ‘ইটন’ এ সে মেথস, কেমিষ্ট্রি, ইংলিশ লিটারেচার, বায়োলজি এবং হিষ্ট্রি নিয়ে অধ্যায়ন করবে এ লেভেল।

বৃত্তি নিয়ে ‘ইটন’ এ অধ্যায়নের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত কাশিফ কৃত্জ্ঞ তাঁর মা-বাবার প্রতি। ব্রিটেনের জাতীয় দৈনিক ডেইলী মেইলের কাছে তাঁর মন্তব্য, ‘আমি ও আমার ভাইবোনদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আমার পরিবার জীবনভর কষ্ট করে আসছেন। আমি তাদের সেই কষ্টের ফসল’। ইটন এর অন্যান্য ছাত্রছাত্রীর মত আমার এই স্কলে অধ্যায়নের কোন সুযোগ ছিলোনা’। কাশিফ বলেন, ‘যে অসামান্য সুযোগ পেয়েছি আমি, দুহাত ভরে তা থেকে ফসল তুলতে চাই।’ ব্রিটিশ অভিজাত শ্রেণীর সাথে মিলিত হওয়ার এত বড় সুযোগ পেলেও ১৫ বছর বয়সী এই কিশোর কিন্তু তাঁর শিকড় ভুলতে নারাজ। এ বিষয়ে কাশিফের মন্তব্য, ‘আমি বদলাবো না। কে আমি, কোথা থেকে আমার আগমন এটি আমি ভুলবোনা, ভুলতে চাইও না।’ আজকের এই সাফল্যের সব  ক্রেডিট কাশিফ দিতে চায় তাঁর বাবা মি: শাহকে, যিনি হিথরো বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। ‘বাবাই তাঁর হিরো’ এমন মন্তব্য করে কাশিফ বলে, ‘নীতি-নৈতিকতার মধ্যে নিজ কাজের প্রতি একাগ্র থাকলে জীবনে সফল হওয়া যায়, বাবার কাছে এটি শিখেছি’। বাবা মায়ের মেঝো সন্তান কাশিফের আরও দুটো ভাইবোন রয়েছে। বড় ভাই ইতিশামের বয়স ২১ ও ছোটবোন তাসনিমের বয়স ৯।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *