কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন: গর্ব করার মত ভবিষ্যত গড়ার আহবান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

সৈয়দ আনাস পাশা
এডিটর-ইন-চিফ, সত্যবাণী

কনফারেন্স ভেনু গিল্ডহল থেকে: সমৃদ্ধ কমনওয়েলথ গড়ার মাধ্যমে গর্ব করার মত ভবিষ্যত তৈরিতে একযোগে কাজ করার জন্য কমনওয়েলথের ব্যবসায়ী সম্প্রাদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। সোমবার কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের ৫ দিনব্যাপী আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রথম দিন বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী সেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ আহবান জানান তিনি। সেশনে অন্যানের মধ্যে  মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ড. জোসেফ মাসকাটও বক্তব্য রাখেন। 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন,  কমনওয়েলথ শুধুই রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সংগঠন নয়, এটি এমন একটি সংগঠন, যার মাধ্যমে আমাদের সবার জীবনমানের উন্নয়নে এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ জনগন ও ব্যবসায়ী কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে।

B2EBDFCC-E47F-4169-9D08-5A3AB2859428
কমনওয়েলথ বিজনেস ফোরামের অপেনিং সেশনে বক্তব্য রাখছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ছবি-সত্যবাণী

বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিয়ে কমনওয়েলথকে সকলের জন্য কিভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায় এর উপায় খুঁজতেই আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি, এমন মন্তব্য করে থেরেসা মে বলেন, সরকার প্রধানদের সম্মেলনের বদৌলতে চলতি সপ্তাহ কমনওয়েলথের চারটি স্বক্রিয় ফোরামে আমরা শুনবো শত শত উচ্চকন্ঠ, যে কন্ঠ থেকে বেরিয়ে আসবে একটি স্পন্দনশীল সংস্থা হিসেবে কমনওয়েলথ গড়ার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দুরদর্শী অভিমত। তিনি বলেন,  পিপলস ফোরাম কমনওয়েলথের সিভিল  সোসাইটিকে দিচ্ছে তাদের কথা বলার প্লাটফর্ম,  মেয়েরা এখনও যেসব সমস্যা মোকাবেলা করছে তা কিভাবে অতিক্রম করা যায় তার উপায় খুঁজবে ওমেনস ফোরাম। এই মুহূর্তে ইয়ুথ ফোরামের কথা শুনা আমাদের সবার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমন মন্তব্য করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইয়ুথ ফোরামের মতামতকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া উচিত এই কারনে যে,  প্রাচীন সংস্থা হলেও কমনওয়েলথের নাগরিকরা কিন্তু অধিকাংশই তারুণ্যের সীমানায়। সংস্থাভূক্ত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশের বয়সই ৩০ এর নিচে। তিনি বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী কালের কমনওয়েলথ, ভবিষ্যতের বিজনেস লিডার, সংস্কারক, সরকার প্রধান। এদের মধ্যে রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা, এই সম্ভাবনাকে লক্ষ্যে পৌছাতে তাদের সহযোগিতা করা কমনওয়েলথ নাগরিক হিসেবে অবশ্যই আমাদের দায়িত্ব। 

এই দায়িত্ব পালনে বিজনেস কমিউনিটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহবান জানান থেরেসা মে।

বানিজ্য পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে কমনওয়েলথভূক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক বানিজ্যের পরিমান ৭শ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাড়াবে, এমন তথ্য দিয়ে এর উদাহরণ দিতে গিয়ে  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমনওয়েলথ রাষ্ট্রগুলোর সাথে ব্রিটেনের রপ্তানি বানিজ্য গত ২০ বছর আগের চেয়ে এখন দ্বিগুন। তিনি বলেন, আমরা জানি এখনও ঝুঁকি আছে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ভঙ্গুর, বিশ্ব অর্থনীতি বদলাচ্ছে। এরপরও ব্যবসা-বানিজ্যে আমাদের অবশ্যই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। 

বিজনেস ফোরামের এই উদ্বোধনী সেশনে কমনওয়েলথভূক্ত রাষ্ট্রগুলোর বিজনেস কমিউনিটির শীর্ষনেতাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার একই দিন, ভিন্ন ভিন্ন ভেনুতে ওমেনস ফোরাম, ইয়ুথ ফোরাম ও পিপলস ফোরামেরও পৃথক পৃথক উদ্বোধনী সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে কমনওয়েলথ সেক্রেটারী জেনারেল প্রেট্রিশিয়া স্কটল্যান্ড, ব্রিটেনের সেক্রেটারী অব স্টেট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভোলাপমেন্ট পেনি মরডান্ট ও সেক্রেটারী অব স্টেট ফর এডুকেশন ডানিয়ান হিন্ডস প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। 

উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সংস্থাটির ৫৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সরকার প্রধানদের অনেকেই এখন লন্ডনে রয়েছেন, কেউ কেউ রয়েছেন লন্ডনের পথে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *