বাঘ নাই মুল্লুকে হিয়াল রাজা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Syed Sbul Monsur সৈয়দ আবুল মনসুর

 

’বাঘ নাই মুল্লুকে হিয়াল ( শিয়াল) রাজা’। এটা আমাদের সিলেটের একটি প্রবাদ। যে জঙ্গলে বাঘ নাই সেখানে শিয়ালই রাজা। কথাটি আজ বার বার মনে হচ্ছে সম্প্রতি লন্ডনের একটি টিভি শো-তে এখানকার বাংলাদেশী একটি বড় রাজনৈতিক দলের সভাপতির বক্তব্য দেখে। যারা এ ধরনের একটি লোককে দলের সভাপতির পদ দিতে পারে সেই দল আর যা-ই হউক, দেশ এবং দেশের জনগনের জন্য যে কোন সুফল বয়ে আনবেনা, তা বলতে কোন দ্বিধা নেই। ফেইস বুকে ভিডিও ক্লিপটি দেখে মনে হয়েছে- বাংলাদেশের বতর্মান রাজনীতির অবক্ষয়ের মূলে এই ধরনের লোকেরাই দায়ী।

আমার বাসায় স্কাই টিভি না থাকায় অনেকদিন থেকে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো দেখতে পারিনা। এখন ফেইস বুক বা ইউটিউবের মাধ্যমে সব গুলিই দেখা যায় । এই যে কবি লিখেছিলেন বহু বছর আগে ‘বিশ্ব জগত দেখবো আমি, আপন হাতের মুটোয় পুরে’, হাঁ আমাদের কাছে এখন মুটো ফোনের মাধ্যমে সব কিছুই একই বৃন্তে গাঁথা হয়ে গেছে। মানে হ্যান্ড সেটের মাধ্যমে সবকিছুই এখন সহজ হয়ে গেছে। তাই টিভিতে না দেখলেও অসুবিধা হয়নি দেখতে। ফেইস বুকে কিছুক্ষন পরই সব কিছু আপলোড হয়ে যায়। আমাদের লন্ডনের বাংলা টিভি চ্যানেল গুলোর উচিত আরো উন্নত মানের অনুষ্ঠান টিভি দর্শকদের উপহার দেওয়া এবং এই ধরনের অসুস্হ মন মানসিকতা সম্পন্ন তথাকথিত নেতাদের বজর্ন করা।

কিছুদিন আগে দেশে বেড়াতে গিয়েছিলাম।  তখন সিলেট ষ্টেশন ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে আমাদের সিনিয়র সিলেটের এক সময়ের খুবই প্রতাপশালী একজন প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতার সাথে দেখা হয়েছিল। আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, তিনি এখন আর রাজনীতি করেননা। বলেছিলেন, রাজনীতি এখন টেন্ডারবাজ এবং মতলববাজ ব্যবসায়ীদের দখলে। তাঁর মতে ভাল লোকেরা এখন আর রাজনীতি করেননা। ইজ্জত সম্মান নিয়ে নিরবে ঘরে বসে কোন ভাবে দিন গুনছেন। ভেবেছিলাম, বিদেশে হয়তো এর কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু আমার ধারনাটি ভুল প্রমানিত হলো সম্প্রতি লন্ডনের টিভি টক শো-র বাংলাদেশের একটি বড় দলের এখানকার শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তির অন এয়ারে অশালীন আচরন দেখে।  যদিও এই বিশেষ ব্যক্তিটির মিডিয়াতে এ ধরনের আচরন এটাই নতুন নয়।

রাজনীতিতে শিষ্টাচার হচ্ছে বড় গুন। শিষ্টাচার বর্হিভূত রাজনীতি কোন ভাবেই সমাজের জন্য কল্যান হয়ে নিয়ে আসতে পারেনা। দেশে বিদেশে সব জায়গায়ই আমরা আজ শিষ্টাচার বর্হিভুত রাজনীতির মহড়া দেখতে পাই। তাই বাংলাদেশের রাজনীতি আজ কালো টাকার মালিক এবং সমাজের নিকৃষ্টতম মানুষদের হাতে বন্দি। যদিও কিছুটা হলেও সেই অবস্হা থেকে টেনে বের করার প্রক্রিয়া চলছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে।

যুক্তরাজ্যে জন্ম নেয়া বাংগালী নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী রাজনীতি নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। তাদের ধারনা আমাদের প্রজন্ম কাজ কর্ম করে বিনোদনের কোন কিছু না পেয়ে এ সব করে সময় অতিবাহিত করি। আমরা নিজেদের নামের সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির দলীয় বিশেষ পদটি পেয়ে গর্ব বোধ করি। এখানে এই পদটি পেতে হলে ( বড় দলগুলির ক্ষেত্রে ) যোগ্যতার চেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয় বেশী। তাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় টাকার জোরে নেতৃত্বে চলে আসে অনেক লো প্রফাইল লোকদের হাতে, যাদের নেতা হওয়ার নুন্যতম কোন যোগ্যতাই নেই।

আমাদের ছেলেমেয়েরা যদিও আমাদের মত ভাল ভাবে বাংলা বলতে পারেনা কিন্তু ছোটবেলায় এখানকার বাংলা স্কুলের সামান্য বাংলা পড়া লেখা এবং বাসায় মা বাবার সাথে বাংলা কথা বলার কারনে অনেক কিছু ওরা বুঝতে পারে। তাই আমার বড় ছেলে যখন ফেইস বুকে এই ভিডিও ক্লিপটি দেখে তাঁর মাকে মন্তব্য করেছিল ‘ whats the hell on tv mum ?’ তখনই এ ব্যাপারে তাঁর প্রতিক্রিয়া বুঝতে আমাদের অসুবিধা হয়নি। এই সব তথাকথিত নেতাদের কারনে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে অখাদ্য। দেশের প্রতিও তাদের আকর্ষন দিন দিন কমে যাচ্ছে, কারন দেশের মানুষের স্বার্থপরতা এবং দুর্নীতি। তাই আমরা যারা বলি নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ এবং বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করেন, সেটা কোন ভাবেই সম্ভব হবেনা যতক্ষন পর্যন্ত আমরা নিজেরা তাদেরকে ভাল কিছু করে দেখাতে পারবো। আমাদের নামের আগে এবং পরে বড় বড় পদবী লিখার আগে ভাবতে হবে আমরা সেই পদের জন্য যোগ্য কি- না। আত্ম সমালোচনা করতে হবে এবং মিথ্যাচার বন্ধ করে যা সত্য তা আমাদের নতুন প্রজন্মকে বলতে হবে, বুঝাতে হবে। নিজেকে বড় করে দেখার প্রবনতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। আত্মপ্রচার বন্ধ করতে হবে। আপনি যদি সত্যিকারের একজন মহান ব্যক্তি হন তখন সমাজই একদিন আপনাকে খুঁজে বের করে যথাযত সম্মান দেখাবে।
তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে আজ এই প্রতিজ্ঞা করি নিজেদের জন্য নয়, মানুষ এবং সমাজের কল্যানের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। তখনই আমাদের কাজের সফলতা আসবে।

লেখক: সৈয়দ আবুল মনসুর। ব্যবসায়ী ও ফ্রীল্যান্স সাংবাদিক।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *