‘জাহানারা ইমাম বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন’ শহীদজননীর জন্মবার্ষিকীতে নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের নেতৃবৃন্দ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

নিউইয়র্কঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পরে যে বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছিল,সে বাংলাদেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন,তা বাঙালী জাতি কোনোদিন ভুলতে পারবে না বলে উল্লেখ্য করেন শহীদ জননীর ৮৯-তম জন্মবার্ষিকীতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভার নেতৃবৃন্দ। গত ৩-রা মে,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়  নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় বিটি ড্রাইভিং স্কুলে আয়োজিত শহীদ জননীর জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নুর।
নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় একাত্তরের দিনগুলির লেখক শহীদজননী জাহানারা ইমামকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।  আলোচনায় বক্তারা বলেন স্বাধীন বাংলাদেশে এক চরম বিভ্রান্তির সময় শহীদজননী জাহানারা ইমাম দিশারির ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৯২ সালে ’৭১এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করার জন্য যে গনআন্দোলন সৃষ্ঠি করে গনজোয়ার গড়ে তোলেন, তারিই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগ ও মহাজোট সরকার শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বক্তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতে গিয়ে যে মহীয়সী নারীর রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা নিয়ে প্রবাসেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল, বাংলাদেশে তার যথাযথ মর্যাদা আজ দেওয়া হচ্ছে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ। শহীদ জননীর জন্মবার্ষিকী আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা দরকার ছিল এবং তাতেই পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারত মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সঠিক ইতিহাস।

Screen Shot 2018-05-05 at 12.18.16 AM

বক্তারা আরো বলেন,মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি আজ মাঠে ময়দানে মিটিং মিছিলে কোথাও নেই, তার মানে এই নয় যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বিলুপ্ত হয়ে গেছে,তারা ছদ্মবেশে আমাদের সমাজে মিশে আছে, তারা আমাদের আশে পাশে বসেই আমাদের পক্ষে বক্তব্য রাখার চেষ্টা করে কিংবা সুশীল সমাজের রূপ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখার চেষ্টা করে। নতুন প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করতে সেই স্বাধীনতা বিরোধী ছদ্মবেশী সুশীলরা মুক্তযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে, বিভ্রান্তীমুলক ইতিহাস বিকৃত বই প্রকাশ করে। তাই দেশে ও প্রবাসে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং চিহ্নিত করে তাদেরকে দুরে সরিয়ে দিতে হবে,প্রতিহত করতে হবে।সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে জানার জন্য গবেষণা করতে হবে এবং উপলব্দি করতে হবে কোনটা সঠিক এবং কোনটা মিত্যাচার।  বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যত সক্রিয় নয়,ছদ্মবেশে তার ছেয়েও বেশি সক্রিয় জামাতে ইসলামীর সদস্যরা। কোন গরীব দুঃখী বিপদে পরলে তারাই সবার আগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে তাদেরকে নিজেদের দলে টেনে নিয়ে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী মন্ত্রে দীক্ষিত করে।

আগামী বছর শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯০-তম জন্মবার্ষিকী বৃহদাকারে পালন করার একটি প্রস্তাবনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা চলচ্চিত্রকার কবির আনোয়ার,মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন,মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক খসরু, মূলধারার রাজনীতিবিদ মোরশেদ আলম,সাবেক ছাত্রনেতা ও কলামিস্ট কামাল হোসেন মিঠু,একুশে চেতনা মঞ্চের আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ মামুন,শহীদ সন্তান শাহীদ রেজা নুর,সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট ইউএসএ-এর আহ্বায়ক শুভ রায়,ইসমাইল হোসেন স্বপন,প্রমুখ।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *