ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

যুক্তরাজ্যঃ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় জাতির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, চুক্তির যে কোনও ভুলত্রুটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখবেন। তবে একইসঙ্গে ব্রিটিশ সরকার এটাও বিশ্বাস করে যে, এই চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে আমরা দেশটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বজায় রাখাকেই সঠিক পদক্ষেপ বলে বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে আমরা স্বীকার করছি যে, ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কিছু বিষয় রয়েছে যা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। কিভাবে ইরানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় সহযোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে যুক্তরাজ্য। মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় নতুন চুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করবে; নাকি বিদ্যমান চুক্তি বহাল থাকবে এ বিষয়ে ৮ মে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে।

ইস্যুটির সঙ্গে জড়িত ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ইরানের পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করছে। তবে শেষ মুহূর্তে তাদের এই প্রচেষ্টার ফলে চুক্তিতে থাকতে ট্রাম্প থাকবেন কি-না তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি অব্যাহত রাখার পক্ষে থাকলেও ভবিষ্যতে দেশটির ‘ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম’-এর কী হবে তা নিয়ে আলোচনায় রাজি আছে। দেশটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বেশ কিছু ধারার মেয়াদ ২০২৫ সাল নাগাদ শেষ হয়ে যাবে। এরপর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এখনই আলোচনায় আগ্রহী দেশ তিনটি।পাশাপাশি সিরিয়া এবং ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধে ইরানের ভূমিকা নিয়েও আলোচনায় আগ্রহী পশ্চিমা দেশগুলো।ইরান অবশ্য সম্পাদিত পরমাণু চুক্তির বিষয়ে নতুন করে আলোচনায় আগ্রহী নয়। বরং নিজেদের প্রতিরক্ষার স্বার্থে যতবেশি সম্ভব সমরাস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং জমা করে রাখতে চায় দেশটি।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের কাছে ইউরেনিয়াম প্রকল্প সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। তবে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস চায় ইউরোপীয় স্বাক্ষরকারীরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে স্থায়ী অবরোধ আরোপ করুক। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো কোনোভাবেই এতে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একা এই চুক্তি বাতিলের এখতিয়ার নেই বলেও দাবি তাদের।যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৯০ দিন পর দেশটির প্রেসিডেন্টকে নিশ্চিত করতে হয় যে, ইরান শর্ত অনুযায়ী এ সমঝোতা মেনে চলছে। যদি তিনি বলেন, তেহরান সমঝোতা মানছে না তাহলে মার্কিন কংগ্রেস এ সমঝোতা বাতিল করতে বাধ্য। আগামী ১২ মে ট্রাম্প চুক্তিটি নতুন করে নবায়ন না করলে ইরানবিরোধী পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হবে। ইউরোপিয়ান শক্তিগুলোকে চুক্তির ‘ভয়ঙ্কর ত্রুটিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে’ ওই তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *