পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ,সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।শুক্রবার (১১ মে) বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছানোর পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সম্মেলনস্থল।এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন।সকাল থেকেই সম্মেলনস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

দুপুরের পর থেকেই লাল-সবুজের সাজে সজ্জিত হয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীরা সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে শুরু করেন। এছাড়াও মাথায় ব্যান্ড বেঁধে, পাতাকা উড়িয়ে বাদ্যের তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সামনে সমবেত হয় সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।এবারের সম্মেলনকে ঘিরে আগে থেকেই অন্যরকম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা গেছে, গত তিনবারের মতো এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ দুই নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নয় বরং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের শীর্ষ পদের জন্যেও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ কারণে সম্মেলনের প্রথম দিন শুক্রবার (১১ মে)সারাদেশ থেকে আসা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল শনিবার (১২ মে) ঘোষণা করা হবে কমিটির নতুন শীর্ষ নেতাদের নাম। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলন। শেখ হাসিনার নির্দেশে এই কমিটিগুলোও কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঘোষণা করা হবে।

এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পছন্দের তালিকায় থেকে নেতা হওয়াকে এবার বেশি গৌরবের মনে করছেন ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশী নেতারা।পদ পেতে চান এমন প্রায় ডজনখানেক নেতার সঙ্গে আলাপ করে তাদের মনের কথা জানা গেছে। তারা বলছেন,শেখ হাসিনার পছন্দে নেতা হওয়া গৌরবের বিষয়। নেত্রীর পছন্দে যারাই নেতা হয়ে আসবেন, তাদের ব্যাপারে কারও কোনও আপত্তি থাকবে না।গত ২-৫ মে পর্যন্ত শীর্ষ দুই পদে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। ৩২৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য ১২৫ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২০০ জন ফরম তুলেছেন।জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেছেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আরিফুর রহমান লিমন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রলীগের বিগত সম্মেলনগুলোর চেয়ে এবারের সম্মেলনটি ভিন্ন হতে চলেছে। বিগত সম্মেলনগুলোর আগেই জানা গিয়েছে কে হবেন সংগঠনটির নেতৃত্বদানকারী।এর পেছনের মূল কারণ ছিল ছাত্রলীগের ‘সিন্ডিকেট’। এই সিন্ডিকেটের কারণে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে গেছে এবং চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এই ধারা ভাঙতে এবার সিন্ডিকেট তো থাকছেই না, পাশাপাশি ভোটও থাকবে না।ভোট না থাকার পেছনের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে,বিগত কমিটিগুলোতে ছাত্রলীগের ‘সিন্ডিকেট’ ভোট নিয়ন্ত্রণ করেছে। যার কারণে তাদের চাওয়া অনুযায়ী নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।এই নেতারা পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের কথা অনুযায়ী দল পরিচালনা করেছেন। এ কারণে এবার সম্মেলনে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘সিলেকশনের’ মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করবেন।ছাত্রলীগে গণতান্ত্রিক ধারা চালুর জন্যই এই নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এভাবে নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনে খুব ভালো নেতৃত্ব আসেনি। যার প্রমাণ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিগত তিনটি কমিটির সাবেক নেতারা কেউই পরবর্তীতে রাজনীতিতে ভালো করেননি। যে কারণে এবার ভোট থাকছে না। অতীতের সব কমিটির আগে সবাই জেনে যেত কে হচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতা। কিন্তু এবার ২৯তম সম্মেলনের দিনেও নানা ধরনের গুঞ্জন ছাড়া নির্দিষ্ট কারও নাম শোনা যাচ্ছে না।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *