ঝালকাঠিতে এক প্রধান শিক্ষকের তেলেসমাতি ফাঁস!


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

খাইরুল ইসলাম
সত্যবাণী

ঝালকাঠি থেকেঃ ঝালকাঠিতে গরংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পাওয়া ও শাস্তি স্বরুপ বদলির সুপারিশ করায় তদন্ত কারি কর্মকর্তা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: মজনু মোল্লার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে হয়রাণী করার লক্ষ্যে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে আসছে ঐ দূর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ২০১৭ সালে গরংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর পদে কর্মরত অবস্থায় শিক্ষক টিপু সুলতান স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় অনিয়ম দূনীতির রামরাজত্ব কায়েম করে আসছিল। এঅবস্থায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠে উর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও দূর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পেতে অভিযোগ ও বিচারের দাবী জানায়।

ওই অভিযোগের বিষয় তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মজনু মোল্লার উপর দ্বায়িত্ব অর্পন করলে তিনি তদন্তে নেমে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্রমেরামত ও সংস্কার,স্লিপ,শিশু শ্রেনীর বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ,অভিভাবদের সাথে দূর্ব্যবহার,অনিয়ম,ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পরবতী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট এক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ঐ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তা ঐ শিক্ষক কে শাস্তি স্বরুপ গরংগা স্কুল থেকে অপসারন করে মানপাশা শেরেবাংলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। ঐ শিক্ষক তার বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করে পুণরায় সেখানেও দূর্নীতির অভয়ারণ্য সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়। এ দূর্নীতির দায় থেকে বাঁচতে একটি কুচক্রী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তার বর্তমান দূর্নীতি ধামাচাঁপা দিতে ও পূর্বের দূর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পেতে ঐ তদন্ত কারী কর্মকার্তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। এমনকি ঐ তদন্ত কারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন মানহানিকর কথা উল্লেখ করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি ও মানস¤œান নষ্ট করার পাঁয়তারা করে আসছে বলে অপর একটি সূত্রে জানাগেছে। অপরদিকে অনুসন্ধানে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী সহ বহু অপকর্মের থলের বিড়াল বেড়িয়ে এসেছে। কুটকৌশলী ঐ শিক্ষক পিঠ বাঁচাতে বর্তমানে কয়েকজন সংবাদ কর্মীকে ভূল বুঝিয়ে ম্যানেজ করে মনগড়া সংবাদ প্রকাশে মেতে উঠেছে।এদিকে ঐ শিক্ষকের দূর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার হাত থেকে রক্ষা পেতে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট দাবী তুলেছে সচেতন মহল।

এব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.মজনু মোল্লা বলেন,২০১৭ সালে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঐ শিক্ষকের এক অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে আমি ছিলাম। তৎকালীন তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় বর্তমানে ঐ শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও আপত্তিকর কথা রটিয়ে বেড়াচ্ছে যাহা দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা তার কর্তব্য। কিন্তু এদের মত শিক্ষকদের কারনে শিক্ষক সমাজে দূর্নীতির কালিমা রোপিত হয়। আমি মনেকরি কোন শিক্ষক দূর্নীতি ও অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে কোন শিক্ষক দূর্নীতিতে জড়াবে না।এব্যাপারে মানপাশা শেরেবাংলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিপু সুলতান কে তার কর্মস্থলে না পাওয়ায় এবং তার মুঠোফোন ০১৭৪৭৪৯৬৮১৫ উক্ত নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এব্যাপারে,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: ছাইয়াদুজ্জামান বলেন,বিষয়টি আমাদের নলেজে এসেছে,আমরা তদন্ত করে দ্রুত পদেক্ষেপ নিব। তবে কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিবো। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এব্যাপারে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *