মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্দেশ্য: নৌমন্ত্রী


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও অসংখ্য মা-বোনের সম্মানের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার জন্য স্বাধীনতাবিরোধীরা ষড়যন্ত্র করে আসছে।বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডের সিডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন ও আরও কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে এ মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন নন্দিত অভিনেত্রী ও রাজনীতিক রোকেয়া প্রাচী।

এ সময় শাহজাহান খান বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নয়। এরা অপশক্তি। কারণ এরা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে। এ জন্য আমরা কেউ কখনও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি শব্দটি ব্যবহার করব না।সদ্য সংগঠিত কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাহজাহান খান বলেন, কোটা বাতিল করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে একটি কথাও নয়। আমরা এক বাক্যে মেনে নিয়েছি। কিন্তু কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাজে কথা কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বাজে কথা কেন? এর নেপথ্যে একটি মাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ধ্বংস করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করা। স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করাই জঙ্গিদের উদ্দেশ্য।

স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদের এ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করে জামায়াত-বিএনপি-শিবির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শ্রেণিপেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে যে ছয় দফা দাবি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম পরিষদসহ শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চসহ কয়েকটি সংগঠন আন্দোলন করে আসছে সেগুলো হলো-

১) কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উসকানি দিয়ে দেশে অরাজকতা, নাশকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

২) জামায়াত-শিবির, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও তাদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে।

৩) জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী যারা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করছে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সরকারের সরকারবিরোধী নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

৪) যুদ্ধাপরাধীদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

৫) ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যারা পুড়িয়ে, পিটিয়ে, কুপিয়ে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, বিজিবি, ছাত্র, যুবক শিশু নারীসহ অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে এবং আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, স্পেশাল ট্রাইবুন্যাল গঠন করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৬) মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণকারী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে হলোকাস্ট বা জেনোসাইড ডিনায়েল ল’ এর আদলে আইন প্রণয়ন করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া এ মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিরিন আকতার এমপি, অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, সাবেক সচিব আব্দুল মানিক মিয়া, মেজর জেনারেল আবদুর রশিদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আতিক প্রমুখ।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *