ধর্ষণ’এর পেছনেও রয়েছে রাজনীতি,শক্তি ও দাম্ভিকতা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

কমিউনিটি করেসপন্ডেন্ট
সত্যবাণী

লন্ডন: বাংলাদেশের সমাজে ধর্ষণের মত সভ্যতাবিরোধী ঘটনাগুলো ঘটার পেছনেও রয়েছে এক ধরনের রাজনীতি। প্রচলিত রাজনীতির অন্তরালে এর শেকড়। যে রাজনীতি মানুষকে দাম্ভিক করেছে। এ অপকর্মটি বা অপসংস্কৃতি এখন এক ধরনের সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে।ড্রাইভার থেকে শুরু করে বস্তির লোক, ধনীর পুত্র সকলেই শক্তি দেখাচ্ছে। তারা শক্তি দেখাচ্ছে নিজ নিজ জায়গা বা অবস্থান  থেকেই। এ দাম্ভিকরাই নারীদের ওপর ঝঁপিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিনোদনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় এটাকে তাদের একমাত্র  বিনোদনও মনে করছে। এ দাম্ভিকতা ও শক্তি প্রদর্শনের চর্চা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’কবিকণ্ঠ’এর ধর্ষণ বিরোধী কবিতা পাঠের আসরের প্রতিক্রিয়া পর্বে এ কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগে বিভাগের শিক্ষক ড. শামীম রেজা।

গত ১২ মে পূর্ব লন্ডনের শাহ সেন্টারে বিলেতবাংলা২৪ডটকম-এর সৃজনশীল প্লাটফর্ম কবিকণ্ঠ আয়োজিত ধর্ষণবিরোধী ‘কবিতা অদম্য তরবারি’ শীর্ষক স্বরচিত কবিতা ও আবৃত্তিতে অংশ নেন বিলেতের কবি ও আবৃত্তিশিল্পীরা।সন্ধ্যাটি ছিল বর্ষণমুখর। বৃষ্টিতে ভিজে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া কবি, সাহিত্যিক,আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের চোখেমুখে বিরাজ করছিল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে জয় করা ও প্রতিবাদী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সবার অন্তরে ছিল ’লন্ডন  থেকে বাংলাদেশ এক হও, আওয়াজ তোলো, বাংলাদেশ জেগে ওঠো’।

2116BE46-7ECE-49B8-B4D9-FE41080BF5D5ধর্ষণ নামক দানবের শেকড়কে উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার নিয়ে কবিতাপাঠে অংশ নেন বিলেতের জনপ্রিয় কবি শামীম আজাদ,মাসুক ইবনে আনিস, ময়নূর রহমান বাবুল,শাহ শামীম আহমেদ, হামিদ মোহাম্মদ,ফারুক আহমেদ রনি, তৌহিদ শাকীল,আনোয়রুল ইসলাম অভি,হিলাল সাইফ,ফারাহ নাজ, জুয়েল রাজ,উদয় শংকর দূর্জয়,কামরুল বশীর, সাঈম খন্দকার ও খযরুজ্জামান খসরু।

অনুষ্ঠানের ব্যতিক্রমী একটি বিষয় ছিল বিলেতের অন্যান্য শহরের কবিরা উপস্থিত হতে না-পারলেও কবিতা ও লেখা পাঠিয়ে অংশ নেন ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে। তাদের কবিতা আবৃত্তি করেন সনামধন্য আবৃত্তিশিল্পীরা।কবিরা হলেন ডেভিড লী মর্গান,নুরুজ্জামান মনি,মুজিব ইরম,টি এম আহমেদ কায়সার, মুনিরা চৌধুরী ও শাহেদা ইসলাম। আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীন,সালাউদ্দিন শাহীন, তৌহিদ শাকীল,নজরুল ইসলাম অকিব, মোস্তফা জামান নিপুন ও শতরূপা চৌধুরী।

আবৃত্তিশিল্পী মুনিরা পারভীন পাঠ করেন সাংবাদিক অপূর্ব শর্মার ‘বীরাঙ্গনা কথা’ থেকে ‘আমি পাঞ্জাবির বউ’। অনুষ্ঠানকে স্তদ্ধতায়  ভাসিয়ে দেয় মুনিরা পারভীনের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘পাঞ্জাবির বউ’পাঠ।তৌহিদ শাকীল নিজের কবিতা পাঠ করার পর আবৃত্তি করেন ইংরেজী সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় বিপ্লবী কবি ডেভিড লী মর্গানের  একটি বিপ্লবী কবিতা. .। কবি ফারাহ নাজ ব্রিটিশ বাঙালি কবি।ইংরেজীতে স্বরচিত ধর্ষণবিরোধী দীর্ঘ একটি কবিতা পড়েন-যা ছিল ভিন্ন মাত্রিক।

কবিকণ্ঠ-এর পক্ষে কবি হামিদ মোহাম্মদ অনুষ্ঠনটি সঞ্চালনা করেন।শুরুতেই বলেন, বাঙালিরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে পাক হানাদার বাহিনির বন্দুকের জোরে সংঘটিত ‘ধর্ষণ’শব্দটির সাথে প্রথম পরিচিত হয়। এর আগে আমাদের দেশে ছিল প্রেম ও প্রণয় কাহিনি।যা‘মহুয়া,মলুয়া,বেহুলা লখিন্দর,রূপবান ও রহিম বাদশা।সাহিত্য সংস্কৃতিতে কোথাও খুঁজে পাইনি এই শব্দটির ব্যবহার। যেহেতুসমাজের জীবনবৈচিত্রে এ বিষাক্ত চর্চা বা ছোবল ছিল না, তাই সাহিত্যেও লেখকদের কলমে তা উঠে আসেনি।পাক হানাদার বাহিনিই এ বীজ প্রথম বপন করে।তাদের বপন করা বীজ এখন বাঙালি সমাজে বিষবৃক্ষ। একে উপড়ে ফেলতেই হবে।

কবি শামীম আজাদ কবিতাপাঠ পর্বে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।’ধর্ষণে নারীর সতীত্ব যায় না’-উচ্চকণ্ঠে বলা তাঁর এ উক্তির রেশ ধরে বলেন,নারীকে লড়াই করেই বাঁচতে হবে।তিনি বলেন, শুধু কবিদের এধরণের প্রতিবাদী আয়োজন আমার জানামতে বাংলাদেশেও হয়নি।কবি হামিদ মোহাম্মদের উদ্যোগে আজ কবিকণ্ঠ লন্ডন  থেকে এ আন্দোলন  প্রথম শুরু করলো। লন্ডন থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনকে বিলেতের বিভিন্ন শহর ও বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে হবে।

4DA641C7-9CE7-4F6D-B9B7-6FE7E68D9A55মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ প্রতিক্রিয়াপর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বাংলাদেশের  বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নারী ও শিশু ধর্ষণ নামক এ দুষ্ট বিষয়টিকে সমাজে বাড়িয়ে দিয়েছে।

কালচারাল একটিভিস্ট ও গণজাগরণমঞ্চনেত্রী অজন্তা দেব রায় প্রতিক্রিয়ায় বলেন,কোনো নারীর শরীর স্পর্শ করতে তার অনুমতি নিতে হবে।অনুমতি ছাড়া শরীর স্পর্শ করা অন্যায়,এ শিক্ষাটাই জরুরী।অজন্তা আরো বলেন,  আপনার আমার পাশে যদি  কোনো নারী অন্যের দ্বারা লাঞ্চিত হন আর আপনি বা আমি প্রতিবাদ না করি,তবে যে নাকি  লাঞ্চিত হলো বলে আমরা মনে করে থাকি, সে কিন্তু লাঞ্চিত হলো না,হলেন নীরবে যিনি দেখলেন, প্রতিবাদ করলেন না তিনি।তাই আজকে সময়ের দাবী আমাদের চিন্তার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা ছাড়া উপায় নেই।অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নীলুফা ইয়াসমীন হাসান।তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিক নিলুফা ইয়াসমীন কবিকন্ঠের সময়োপযোগী ধর্ষণের বিরুদ্ধে কবিতা পাঠের আয়োজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের শ্লোগান হওয়া উচিত ‘পুরুষ তোরা মানুষ হও‘। ধর্ষণ জঘণ্য অপরাধ এটা যখন পুরুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করবে তখনই ধর্ষণ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অপরাধী হলো পুরুষ, এর সমাধানে পুরুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। একজন পুরুষ আর একজন পুরুষকে বুঝাতে পারে, বন্ধু বন্ধুকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে।

বিশিষ্টজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান,কালচারাল একটিভিস্ট জামাল খান,বাতিরুল হক সর্দার,বিশ্ববাংলা ফাউন্ডেশনের শাহ রহমান বেলাল,গোলাম আকবর মুক্তাসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রতি সংঘটিত নারী নির্যাতনের ওপর নির্মিত ‘মানুষ’ নামে একটি তথ্য সমৃদ্ধ ভিডিও চিত্র প্রর্দশন করা হয়। ভিডিও চিত্রটি নির্মাণ করেছেন বায়ান্ন টিভির কবি আনোয়রুল ইসলাম অভি।অনুষ্ঠানের শুরুতেইপ্রদর্শিত এ ভিডিও চিত্রটি উপস্থিত সকলকে নিয়ে যায় প্রতিবাদী ভুবনে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *