শপথ নিলেন স্পেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

কবির আল মাহমুদ
সত্যবাণী

মাদ্রিদ,স্পেন থেকেঃ সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা  দলের নেতা পেদ্রো  সানচেজ স্পেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয় পদচ্যুত হওয়ার পর তিনি এ শপথ নেন।স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এল পাইস জানায়,শনিবার দেশটির রাজা ষষ্ঠ ফেলিপের কাছ থেকে শপথ নেন পেদ্রো সানচেজ।এসময় সংবিধান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন এই নেতা।বড় ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত ক্ষমতাসীন পিপলস পার্টির প্রধানমন্ত্রী রাখয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন স্প্যানিশ স্যোশালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি (পিএসওই) নেতা সানচেজ।বৃহস্পতিবারই সানচেজের এই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ছয়টি ছোট দলের সমর্থন আসে। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয় রাখয়কে।শপথ গ্রহণের পর শনিবার মাদ্রিদে রাজপ্রসাদে এক বিবৃতিতে পেদ্রো স্প্যানিশ সোসালিস্ট পার্টির নেতা পেদ্রো সানচেজ স্পেনের  বিশ্বাসের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে পেদ্রো  সানচেজ তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ করা হতে পারে।পার্লামেন্টে গত  শুক্রবারের ভোটাভুটির আগে পেদ্রো বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি।আধুনিক স্পেনের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে গেলেন মারিয়ানো রাখয়।দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল পিপলস পার্টির এই নেতা ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার পেদ্রো  সানচেজ বলেন,২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন।

তবে ৩৫০ সদস্যের স্পেনের পার্লামেন্টে পেদ্রোর দলের মাত্র ৮৪ সংসদ সদস্য থাকায় কীভাবে তিনি এই দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসন পরিচালনা করবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়।স্পেনের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি পেদ্রো  সানচেজ  ইউরোপপন্থী হিসেবে পরিচিত। এর ফলে দেশটিতে ইতালির মতো রাজনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা সামান্য বলে মনে করছেন  বিনিয়োগকারীরা।

আস্থা ভোটের নেপথ্যেঃ পেদ্রো সানচেজ  বলেছেন, কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া নিজের রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়েছেন রাখয় (৬৩)। রাখয়ের দল পিপলস পার্টির সাবেক এক কোষাধক্ষের দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেন।এই দণ্ডের জেরে গত সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনাম হয় পিপলস পার্টি।মাদ্রিদের হাইকোর্ট পিপলস পার্টির সাবেক কোষাধক্ষ লুইস বার্সেনাসকে ঘুষ, অর্থপাচার ও কর ফাঁকির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। ঐতিহ্যবাহী মধ্য-ডানপন্থী পিপলস পার্টির দুর্নীতি কেলেঙ্কারির এ খবরে দেশটির অনেক ভোটার ক্ষুব্ধ।

সানচেজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার-
৪৬ বছর বয়সী অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনকারী পেদ্রো সানচেজ ২০০০ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হোন।  সেই সময় তিনি স্যোশালিস্ট পার্টির ৩৫তম ফেডারেল কংগ্রেসের একজন প্রতিনিধি ছিলেন।সানচেজ ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাদ্রিদ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন। সেইসময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খোসে লইস রদ্রিগেজ জাপাতেরো প্রশাসনের আইন প্রণেতা হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেন।

২০১৩ সালে নিজ দল স্যোশালিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হোন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার দল দ্বিতীয় হয় এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পার্লামেন্টে কার্যত থাকে। ২০১৬ সালের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে সানচেজের দলের আসন আরো কমায় নিজ দলে সমালোচনার মুখোমুখি হোন তিনি।তবে পার্লামেন্টে সরকারী দলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন ও তার পক্ষে অন্যান্য দলগুলোর সমর্থন আদায় করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় যে রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দেখিয়েছেন,সমালোচকদের  জবাব দেয়ার জন্য তা যথেষ্ট।নিজের দল স্যোশালিস্ট পার্টির জন্যও এটা বিরাট এক সাফল্য।আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিজ্ঞতা রয়েছে সানচেজের। মাতৃভাষা স্প্যানিশ ভাষার সাথে ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষায় পারদর্ষী সানচেজ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এডভাইজার হিসেবে কাজ করেছে

এদিকে কাতালোনিয়ায়ও গত কাল শুক্রবার  আঞ্চলিক সরকার গঠিত হয়েছে। বার্সেলোনায় পালাউ দে জেনেরালিটাট এ ঘোষিত হয় কাতালেরনিয়ার এ আঞ্চলিক সরকার।সরকার প্রধান (প্রেসিডেন্ট) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন কিম তররে।এর মাধ্যমেই প্রায় ৭ মাস ধরে চলা কাতালোনিয়া প্রদেশের উপর কেন্দ্রীয় সরকার (মাদ্রিদ) এর সরাসরি শাসনের অবসান হলো।তবে ‘কাতালোনিয়া ক্রাইসিস’ কোন দিকে মোড় নেয়,তা দেখার পালা।কারণ নতুন প্রেসিডেন্ট কিম তররেও স্বাধীনতা পন্থী নেতা হিসেবেই পরিচিত। আজ শপথ গ্রহণের পর কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম তররে স্পেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এর সাথে কাতালোনিয়া প্রসঙ্গ নিয়ে সংলাপের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *