ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র নতুন পরিকল্পনা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

যুক্তরাজ্যঃ হুমকির মুখে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র নতুন পরিকল্পনা।সংসদের উচ্চ কক্ষ হাউস অব লর্ডসে তার এই পরিকল্পনা পেশের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন তার মন্ত্রিসভার তিন সদস্য।তাদের মধ্যে রয়েছেন দুই সিনিয়র সদস্য ব্রেক্সিটমন্ত্রী দেহিদ ডেভিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।এছাড়া পদত্যাগ করেছেন দেহিদ ডেভিসের ডেপুটি স্টিভ বাকেরও।নতুন পরিকল্পনা সংসদে পেশের পর সাংসদদেরও প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নমনীয় পরিকল্পনা।৪৮জন হাউস অব লর্ডস সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব করলেই আস্থা ভোট মোকাবিলা করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে।২০১৬ সালের গণভোট অনুযায়ী যুক্তরাজ্য এখন ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা।তবে  দুইপক্ষ কিভাবে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী খানিকটা নমনীয় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন বলে অভিযোগ তার বিরোধীদের।বিবিসি লিখেছে, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেক রক্ষণশীল এমপি।ব্রেক্সিট চূড়ান্ত করতে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাণিজ্য নীতি। বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিতের জন্য যুক্তরাজ্য ইইউ অঞ্চলে মানুষের চলাচল ও ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেবে কি না তা নিয়ে থেরেসা মে’র নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেই বিরোধ রয়েছে।

এসব বিরোধ নিরসনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর খামারবাড়ি চেকারসে দিনভর বৈঠক করেন থেরেসা মে।ওই বৈঠকের পরই পদত্যাগ করেন তিন মন্ত্রী।থেরেসা মে বলেছেন, ২০১৬ সালের গণভোটের রায়কে সম্মান দেখানোর সর্বোচ্চ ভালো উপায় হিসেবে তার দুই সাবেক মন্ত্রী যে পথে অগ্রসর হয়েছেন তার সঙ্গে তিনি একমত নন।বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক লরা কুয়েনসবার্গ বলেছেন,বরিস জনসনের পদত্যাগ থেরেসা মে’র জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক সংকট ও বিব্রতকর।তিনি লেখেন, জনসন মন্ত্রিসভার কোনও সাধারণ সদস্য ছিলেন না। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের প্রচারণার কেন্দ্রীয় মুখ ছিলেন তিনি। এক সূত্রের বরাত দিয়ে লরা কুয়েনসবার্গ দাবি করেন, থেরেসা মে এই পরিকল্পনা বাতিল না করলে একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনসনের পদত্যাগের পর ব্রিটেনের বিরোধী দলের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমিলি থর্নবেরি বিবিসিকে বলেছেন,নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা থেকেই পদত্যাগ করেছেন জনসন।তিনি বলেন, ‘তারা শুধুমাত্র সিনিয়র দুই মন্ত্রী ছিলেন না,এটা ছিল ব্রেক্সিট।গত দুই বছর ধরে আমরা টরি পার্টির অভ্যন্তরে যে সোপ অপেরা মঞ্চস্থ হতে দেখেছি তার কারণেই এটা হয়েছে।আমরা দেখিনি দলটি কখনও দেশের কথা ভেবেছে, তারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থই চিন্তা করেছে।সংসদে থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ‘ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির’ ১০ সংসদ সদস্যের সমর্থনে। ব্রেক্সিট নিয়ে থেরেসা মে সবার সমর্থন না পেলে তার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ভেস্তে তো যাবেই সেই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে তার প্রধানমন্ত্রীত্ব।

সাংসদদের মধ্যেও ব্রেক্সিট নিয়ে ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। যদি ৪৮ জন সাংসদ হাউস অব লর্ডসে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব করে চিঠি দেন, তাহলে থেরেসা মে’কে আস্থা ভোটের মুখে পড়তে হবে।বিবিসির লরা কুয়েনসবার্গ তার টুইটারে লিখেছেন,অনাস্থা ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৮টি চিঠি লিখেছেন মে’র রক্ষণশীল দলের এমপিরা এমন কথা শোনা যাচ্ছে, তবে তা সত্যি কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ব্রেক্সিটমন্ত্রী দেহিদ ডেভিসের পর বরিস জনসন পদত্যাগ করলেও তাকে স্বাগত জানাতে পারেননি ডেভিস।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সত্যিই দুঃখ পেয়েছি।আমি পদত্যাগ করেছি, আমি ব্রেক্সিটের কেন্দ্রে ছিলাম।আমার কাজ ছিল কেন্দ্রীয়, আর আমরা যদি এই পরিকল্পনা নিয়ে এগোই আর সেখানে যদি থাকতাম তাহলে আমাকেই এটা হাউস অব লর্ডসে উপস্থাপন করতে হতো।আমাকে এটা ইউরোপে পেশ করতে হতো।এই পরিস্থিতিতে আমার চেয়ে অন্য কেউ একজন ভালো করতে পারবে। আমার বিবেচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ কেন্দ্রীয় নয়।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *