বেলজিয়ামের স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে ফ্রান্স


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

রাশিয়াঃ স্যামুয়েল উমতিতির হেড গড়ে দিলো প্রথম সেমিফাইনালের পার্থক্য।তাতে ফ্রান্স নিশ্চিত করলো তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। আর বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের রোমাঞ্চকর যাত্রার সমাপ্তি হলো শেষ চারে।মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ১-০ গোলে বেলজিয়ামকে হারাল ফ্রান্স।

১৯৯৮ ও ২০০৬ সালে ফাইনাল খেলেছিল ফ্রান্স। প্রথম ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে একমাত্র শিরোপা জিতেছিল তারা।তবে সবশেষ শিরোপার লড়াইয়ে ১২ বছর আগে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ফরাসিদের। দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তারা লড়বে ইংল্যান্ড কিংবা ক্রোয়েশিয়াকে।১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করতে বুধবার মুখোমুখি হবে ইংলিশ ও ক্রোয়েটরা।

প্রথম ৪৫ মিনিট দারুণ বীরত্ব দেখায় বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ও হুগো লরিস।তাদের নৈপুণ্যে প্রথমার্ধে জালে বল জড়াতে পারেনি কেউই।দুই দল বিরতিতে যায় গোলশূন্য থেকে।দ্বিতীয়ার্ধে উমতিতি এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে।তারপর রাফায়েল ভারানে,ব্লেইস মাতুইদি ও কিলিয়ান এমবাপের দারুণ পারফরম্যান্স ফরাসিদের উদযাপন ধরে রাখে।আর প্রশংসিত পারফরম্যান্স করেও লরিসকে পরাস্ত না করার ব্যর্থতায় ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়নি ৫ ম্যাচের সবগুলো জিতে সেমিফাইনালে ওঠা বেলজিয়ামের।ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা পায়ে বল রাখতে না পারায় ১৫ মিনিটে সুযোগ তৈরি করেন কেভিন ডি ব্রুইন। তিনি পাস দেন ইডেন হ্যাজার্ডকে।বেলজিয়ান অধিনায়কের নিচু শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়।১৮ মিনিটে ফ্রান্স প্রথমবার গোলমুখে শট নেয়। মাতুইদির শক্তিশালী শট কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেনি।পরের মিনিটে হ্যাজার্ড বাঁপ্রান্ত দিয়ে শক্তিশালী শট নেন গোলে,কিন্তু ভারানের গায়ে লেগে গোলবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে যায় বল।নাসের চ্যাডলির ২১ মিনিটের কর্নার থেকে অ্যাল্ডারওয়েইরেল্ড পরীক্ষা নেন লরিসের। টটেনহ্যাম সতীর্থের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেন ফরাসি গোলরক্ষক।

৩১ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে বল নিয়ে বেঞ্জামিন পাভার্দ বক্সের মধ্যে ক্রস দেন এবং অলিভিয়ের জিরুদের হেড হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। তিন মিনিট পর আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের নিখুঁত ফ্রি কিক বেলজিয়ান রক্ষণদেয়াল ভেদ করে বক্সে জায়গা করে নেয়।এমবাপে বল পায়ে নিয়ে পাস দেন জিরুদকে।চেলসি ফরোয়ার্ডের দুর্বল ফিনিশিংয়ে জালে জড়ায়নি বল।বিরতির ৬ মিনিট আগে দারুণ এক সুযোগ পায় ফ্রান্স। ৩৯ মিনিটে এমবাপের পাস থেকে পাভার্দ লক্ষ্যে শট নিয়েছিলেন,কিন্তু কোর্তোয়ার বাড়িয়ে দেওয়া পা ব্যর্থ করে দেয় তাকে।যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি ব্রুইনের দুর্দান্ত ক্রস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রোমেলু লুকাকু। গোলমুখের সামনে দাঁড়ানো এ স্ট্রাইকারের গায়ে বল লাগায় লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।

বিরতির পর অ্যাক্সেল উইটসেলের ক্রস থেকে ভারানের চ্যালেঞ্জে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি লুকাকু।গোলবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায় বল।৫০ মিনিটে জিরুদের শট ব্লক করে কর্নার বানান ভিনসেন্ত কোম্পানি।পরের মিনিটে গ্রিয়েজমানের ওই কর্নার থেকে কাছের পোস্টে ফেলাইনির চেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করে বল জালে জড়ান উমতিতি।এমবাপের ৫৬ মিনিটের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়েছিলেন জিরুদ।কিন্তু কোর্তোয়া তাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে দেননি ফরাসিদের।৬৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দ্রিয়েস মের্টেন্সের লম্বা ক্রস গোলমুখে হেড করেছিলেন ফেলাইনি।গোলপোস্টের কয়েক ইঞ্চি পাশ দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বেলজিয়াম মিডফিল্ডারের এ চেষ্টা। দুই মিনিট পর এমবাপের আবারও সুযোগ তৈরি করে দেন জিরুদকে।কিন্তু চেলসি ফরোয়ার্ড গোলবারের ওপর দিয়ে বল মেরে আবার সুযোগ নষ্ট করেন।

সমতা ফেরাতে মরিয়া বেলজিয়াম বক্সের মধ্যে জায়গা খুঁজছিল হন্যে হয়ে।৭৩ মিনিটে ডি ব্রুইনের ক্রস বক্সের মধ্যে বিপদ ডাকার আগেই পল পগবা হেড করে মুক্ত করেন।৮১ মিনিটে ট্যাকল করে হ্যাজার্ডের পা থেকে বল মুক্ত করেন ভারানে।কিন্তু বল চলে যায় উইটসেলের পায়ে। তার বুলেট গতির শট পাঞ্চ করে প্রতিহত করেন লরিস।দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় ও ষষ্ঠ মিনিটে গ্রিয়েজমান ও তোলিসোকে ঠেকিয়ে দিয়ে হারের ব্যবধানটা বড় হতে দেননি কোর্তোয়া।তাতে কী! ২০১৬ সালের ইউরো ফাইনালের পর এবার বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ঠিক জায়গা করে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *