কায়েস’কে স্মরণের মাধ্যমে শেষ হলো বঙ্গবন্ধু বইমেলা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
সত্যবাণী

লন্ডন: বঙ্গবন্ধু প্রেমিক সদ্য প্রয়াত সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসকে স্মরণের মধ্য দিয়ে লন্ডনে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু বইমেলা। রবিবার মেলার শেষ দিনটি উৎসর্গ করা হয় শিল্প ও সাহিত্য ভুবনের প্রিয়জন, বঙ্গবন্ধু প্রেমিক মিজারুল কায়েসকে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বইমেলায় প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গল্প, প্রবন্ধ, কবিতাসহ বিভিন্ন রকমের বই স্থান পায় বইমেলায়। IMG_2146রবিবার শেষ দিনেও উপস্থিত ছিলেন মেলার অন্যতম সহযোগী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, প্রবীন সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক সুলতান শরীফ এবং বঙ্গবন্ধু সেন্টারের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।
শেষদিনের মেলায় দর্শকদের কাছে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু নিয়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মেলার উদ্যাক্তারা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন মেলা শেষের এই দিনটিতে পরিবেশন করে দেশাত্ববোধকসহ বিভিন্ন ধরনের গান, কবিরা তাদের কবিতায় স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকে।

IMG_2144
লন্ডনে বঙ্গবন্ধু বইমেলার শেষদিন ‘কায়েস স্মরণ’ অনুষ্ঠান

রবিবার মেলার শেষ দিনটি উৎসর্গ করা হয় প্রয়াত রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েসকে, ব্রিটেনে হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালনকালীন যিনি এই মেলার অন্যতম সহযোগী ও পৃষ্টপোষক ছিলেন। বিকেলে তাঁর প্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে মেলা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় কায়েস স্মরণে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান। মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা সাংবাদিক বুলবুল হাসানের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, প্রবীন কমিউনিটি নেতা মাহমুদ হাসান এমবিই, মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেইন, মেলার আরেক উদ্যোক্তা প্রশান্ত বড়ুয়া, প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের খাদিজা রহমান ও মরহুম কায়েসের অতি আদরের শিশু কিশোরদের পক্ষে নাহিয়ান পাশা। প্রয়াত রাষ্ট্রদূতের প্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনা ও নিজের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে শিল্পী ড. ইমতিয়াজ শুরু করেন ‘কায়েস স্মরণ’ অনুষ্ঠান। বক্তারা শিল্প-সাহিত্য প্রেমিক সদ্য প্রয়াত এই কুটনীতিকের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তাদের বক্তৃতায়।
এদিকে, মেলার শেষদিনও বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌছে দেয়ার উপর আবারো গুরুত্বারোপ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। তিনি বলেন, কোন একটি নির্দিষ্ট দিনেই এটি শেষ করা সম্ভব নয়, এটি হতে হবে চলমান একটি প্রক্রিয়া। প্রতি বছর বঙ্গবন্ধু মেলার মাধ্যমে এই চলমান প্রক্রিয়াটিকে শান দেয়া যাতে পারে, বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বঙ্গবন্ধু বইমেলায় একাডেমির সমর্থন অব্যাহত থাকবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বাঙ্গালী জাতির মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধুর সাথে অনাগত প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু বইমেলা এই দায়িত্ব পালনে বিরাট ভূমিকা রাখবে, এটি আমার বিশ্বাস।

20th March’2017, 10:39 GMT

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *