নাগরিক তালিকাকে ঘিরে শঙ্কায় আসামের বাংলাভাষী মুসলিমরা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ভারতঃ নাগরিকত্বের জাতীয় তালিকায় (এনআরসি/ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি অব সিটিজেনশিপ) নাম কি থাকবে? এই চিন্তায় ঘুম হারাম হওয়ার অবস্থা আসামের কয়েক কোটি বাংলাভাষী হিন্দু-মুসলমানের।কারণ,আগামীকাল প্রকাশিত হবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর চূড়ান্ত খসড়া।আর যতদূর জানা গেছে প্রায় দেড় কোটি মানুষ আসামের নাগরিকত্ব হারাতে পারে!আসাম কর্তৃপক্ষ দাবি করছে,প্রচুর বাংলাভাষী হিন্দু-মুসলমান বাংলাদেশ থেকে আসামে প্রবেশ করেছে।কিন্তু বাদ পড়ার শংকায় থাকা বাংলাভাষী হিন্দু-মুসলমানেরা বলছেন এটা ইচ্ছাকৃত।তাদের কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না নিজেদের পক্ষে প্রমাণাদি প্রদর্শনের।

বের করে দেওয়ার জন্য’ করা নতুন তালিকায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাদ পড়ে যাওয়ার আশংকায় রয়েছে। এ তালিকা তৈরির পেছনে উদ্দেশ্য ‘বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের’ আসাম থেকে বের করে দেওয়া। আর তার জন্য যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে তা হলো,এরা বাংলাদেশি’।৩১ ডিসেম্বর যে আংশিক খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল, তার মধ্যে বহু সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিকের নাম ছিল না। এদের অনেকেই পুরুষানুক্রমে আসামের বাসিন্দা এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি। তবুও তাদের নামও যখন বাদ পড়ে, তখন আশঙ্কা তো থাকবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে। ‘বাংলাদেশি’দের কারণে আসামে শান্তি-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো অনাকাংক্ষিত ঘটনা এড়াতে ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে।

নতুন তালিকা তৈরিতে এনআরসি যে ১০টি বিষয় গুরুত্ব দিচ্ছে তা হলো:

১. ১৯৫১ সালে এনআরসির প্রথম তালিকা তৈরি করে। সে তালিকায় যাদের নাম আছে কেবল তাদের বংশধরেরা আসামের নাগরিক হতে পারবে! এর পাশাপাশি বিবেচনা করা হবে ১৯৭১ সালের নির্বাচনকালে নির্বাচন তালিকায় অন্তর্ভূক্ত থাকা ব্যক্তিদের বংশধরেরা।

২. ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালের আগের সময়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ যারা দিতে পারবে তাদের বংশধরেরা। ১ জুলাই ১৯৬৬ থেকে ২৫ মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত যারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করেছেন তাদের বংশধরেরা।

৩. ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৯০ লাখকে নাগরিক হিসেবে অনুমোদনপত্র দেওয়া হয়েছে।

৪. এই মাসের শুরুতে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে প্রায় দেড় লাখ নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। তাদের চিহ্নিত নাগরিকদের ৫০ হাজার নারী গ্রামের বাসিন্দা।

৫. এই নারীরা ভেবেছিল তারা নিরাপদ। কারণ তারা গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছ থেকে ‘নাগরিকত্ব সনদ’ আবেদনপত্রের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের বলা হয়েছে ১ ও ২ নম্বরে উল্লেখ করা কাগজপত্রসহ বিবাহ সনদ, বিদ্যালয় সনদ ইত্যাদি দিতে। যা তাদের নেই।

৬. আসাম সংলগ্ন অন্য প্রদেশের সীমান্ত যেমন নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, অরুণাচল এবং মণিপুরে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে ২২ হাজার প্যারামিলিটারি পাঠানো হয়েছে এসব অঞ্চলে।

৭. ‘বিদেশি নাগরিক’ চিহ্নিত করতে এনআরসি আলাদাভাবে সকল নাগরিকের জন্য একটি সাধারণ তালিকাও তৈরি করছে।

৮. আসাম কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে ‘বাংলাদেশ,পাকিস্তান,আফগানিস্তান থেকে আসা নাগরিকেরা ছয় বছর থাকলে নাগরিকত্ব পাবেন’ মর্মে থাকা আইনটির ব্যাপারে তারা খুশি নয়।
৯. ২০১৬ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকারের করা ‘নাগরিকত্ব সংশোধন বিল’ ২০১৪ সালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। যা নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতার দিকে ঠেলে নিয়ে গিয়েছিল বলা হয়।

১০. বিষয়টি নিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিজেপির জোটে থাকা কিছু রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে তাদের সমর্থন তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।আসামে দেড় কোটি মানুষের নাগরিকত্ব হারানোর শংকায় থাকার পেছনে কারণ তাই যথেষ্ট! তাদের কার ভাগ্যে কি ঘটবে তা আগামিকালের তালিকা বলে দেবে!

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *