আসামের এনআরসি র ফলে সমস্যায় পড়বে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ:মমতা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রক্তিম দাশ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, সত্যবাণী

কলকাতা থেকে: আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) তালিকা প্রকাশ হতেই ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোমবার ওই নাগরিক পঞ্জীর দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণের রাস্তায় নেমে পড়লেন তিনি৷

পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিলেন, এনআরসি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন৷ কারণ, দেশবাসীকে উদ্বাস্তু করে দিচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার৷  বাংলাদেশ না নিলে এই ৪০লক্ষ লোক কোথায় যাবে ? সেবিষয়েও প্রশ্ন তোলে মমতা বলেন, ‘আসামের একদিক পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের  সীমানা লাগোয়া এটা খুবই উদ্বেগের । এই ঘাটনার ফলে বাংলা –বাংলাদেশ দু দিকেই সমস্যার সূত্রপাত হবে। কেন্দ্রের উচিত ছিলো পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাথে কথা বলা।  এরা কেউ রোহিঙ্গা নয়। কেউ কেউ বাংলাদেশ গঠন হওয়ার পর থেকে রয়েছেন। ৭১এ যারা এসেছিলেন তাঁরা অফিসিয়ালি ভারতীয়। আজ দেশের মধ্যে থেকেই এরা রিফিউজি হয়ে গেলেন।  যারা রিফিউজি হয়ে গেলো তারা আমার ভাই বোন। আমি তাদের পাশে আছে।  অসমের ইস্যু সংসদে তুলবো। অসমে সংসদীয় প্রতিনিধি দল পাঠাবো, প্রয়োজনে নিজে যাবো। মানবতা ও আগুন নিয়ে খেলবেন না।’  তিনি বলেন, ‘অনেক পরিবারতো চারপাঁচ বছর ধরে অাসামে বাস করছে NRC- খসড়া প্রকাশ করে বাঙালি খেদাও চলছে। ভোটের দিকে তাকিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।  আমরা অসম বাসীর সাথে আছি।’ ওখানে ইচ্ছা করে ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।  

সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় তৃনমূল কংগ্রেসের সাংসদরা রীতিমতো হইচই শুরু করে দেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংসদে এসে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। 

এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজর এইচটি ইমাম তার ভারত সফরকালে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এনআরসি ভারতের নিজের অভ্যন্তরীন ইস্যু। এতে বাংলাদেশের কিছু করার নেই।

এনআরসি নিয়ে চলমান সমস্যার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে  আসাম জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ৫২জন কে আটক করা হয়। ৫২ বাংলাদেশিকে কনভিকটেড ফরেনার’-এর তালিকায় ফেলা হয়েছে৷ অর্থাৎ, ৫২ জনের কেউই ভারতীয় নাগরিক হওয়ার প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি৷  তখনই ৫২ জনের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে ভারতে থাকার মামলা দায়ের হয়৷ সেনা ক্যাম্পে আটক করে ৫২ জনকেই সোমবার দুপুরের মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশ সীমান্তে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *