১৫ই আগষ্ট, সেকাল


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

DC6D5CFD-FA1E-4B8D-91AD-1D5C02C37D48 সৈয়দ হক

 

(এক)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিলেন প্রায় ২১ বছর । ইতিহাসে,ভুগোলে, মানচিত্রে কোথাও তিনি ছিলেন না এই বঙ্গীয় বদ্বীপে ! বিচার তোঁ অনেক পরে । তারপরও মানুষ তাঁকে স্মরণ করতো ভালবেসে । অশ্রু দিয়ে লিখা সেই গান । সেই প্রদোষে প্রাক্বতজন !

(দুই)
পড়াশুনার জন্য ঢাকার জিগাতলায় যখন থাকতাম তখন ‘কালু মিয়া’ নামের এক মুজিব ভক্ত গরু জবাই করে কূলখানি করতেন । আওয়ামীলীগের কাউকেই দেখা যেত না । সব টোকাই আর শ্রম জীবী মানুষ সেই শিরনীতে শরীক হতেন । আমার মেসে যারা থাকত তাঁদেরকে নিয়ে এই কালু মিয়ার শিরনীতে গেছি শুধু মাত্র বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে । এই কালু মিয়া দের মতো মানুষের কারণেই বঙ্গবন্ধু বেঁচেছিলেন লোকান্তরে । জানি না কালু মিয়াদের কেউ বেঁচে আছেন কিনা ?

(তিন)
সিলেটে ইফতেখার হোসেন শামিম ভাইয়ের বাসা ছিলও “মুজিব মানে রক্ত, আমরা মুজিব ভক্ত ” দের ঠিকানা । সাদা কাপড়ের থান কাপড়ের মধ্যে কেউ একজন একটি ’স্ক্রেচ ’ একেছিলো বঙ্গবন্ধুর । তারপর এটা বাঁধাই করে রাখা হতো শামিম ভাই এঁর বাসার নিচে । ১৫ই আগস্টের দু’লাইনা ১০০ /১৫০ জনের মিছিলে সবার সামনে আমি , নাদেল, আজাদ বা রুহেল ভাই , মকসুদ ভাই বঙ্গবন্ধুর ছবিটা নিয়ে এগোতাম । স্কুল পালানো যুবক বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে । সেই ভালবাসায় আন্তরিকতা ছিল । ১০০ জনই থাকুক সেই মমত্ব দিয়েই আমরা ‘তীর হারা ঐ সাগর পাড়ি ‘ দিতাম । সেসময় সরকারী নির্দেশে শহরের কোন ‘হল ‘ পাওয়া যেত না । শামিম ভাইয়ের জিন্দাবাজারের বাসায় খোলা উঠোনে আমরা বক্তিতা শুনতাম । আব্দুল খালিক মায়ন, আলাওর ভাই, অধ্যাপক জাঁকির , ডাঃ রুকন ( মাইনুদ্দিন হাসানের ভাই ) , ভিপি খসরু , জিএস তৌহিদ প্রমুখ বক্তিতা ভালো দিতেন মঞ্জু মিয়ার মাইকে ! সেই বক্তিতায় প্রতিজ্ঞা ছিলো , প্রত্যয় ছিলো , ভালবাসা ছিলো । শফিক ভাই ( আ ন ম ) , নজরুল ভাই (আল আমিন ) , কাজী কয়েছ ভাই , রাব্বানি ভাই , তোফা ভাই , ইব্রাহীম ভাই , এটি এম ফয়েজ ভাই , সাজু ভাই!! জেবুল ভাই , আব্দুল হানিফ কুটু , সালেহ আহমেদ হীরা , শ্রমিক লীগের সৈয়দ মোস্তফা কামাল মস্তই , জাফর ভাই !!এঁরা কই গেলো ? এখন তো মিছিল হয় এই মানুষ গুলো গেলো কই ?
(চার)
এখনকার ১৫ই আগস্ট নিয়ে কিছু বলছি না । ‘বড় বড় লোকে দের ভিড়ে , জ্ঞানী আর গুণীদের ভিড়ে ‘। ’তাহাদের কথা ’ কেঁউ বলবে না ’ । আমার বাবার মতো মুজিব ভক্তকে কয়জন মনে রেখেছে । সুলতান ভাই এখনো আমাকে পেলে বলেন বাবা’র কথা । এভাবেই মুজিব বেঁচেছিলেন মানুষের মাঝে । এটা গল্পের মতো মনে হতে পারে । শেষ করি এই গল্প দিয়ে । নিজের দেখা । সার্কিট হাউসে সামাদ সাহেবের সাথে ঘনিস্ট হয়েছে এক সাধারণ মানুষ । কতক্ষণ পরে দেখি আওয়ামীলীগের এক হোমরা টাইপের লোক সামাদ সাহেব কে বলছে , ’লিডার এতো পাগল ” ! সামাদ সাহেব একটু রাগত স্বরে বললেন , পাগল না হলে কি আর সে আওয়ামীলীগ করে ? পয়সা নাই , খানি নাই , আশা নাই । তারপরও ২১ বছর রাস্তায় । কতটুকু পাগল হইলে এখনো টিকে আছে । এখন কার মতো ‘ খাঁই খাঁই ‘ ছিলো না তখন । এখনকার এই দিন গুলো “ উরস উরস “ মনে হয় !

লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *