পুলিশের ধারণা, লন্ডন হামলা ইসলামপন্থীদের কাজ: গ্রেফতার ৭


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট                                 সত্যবাণী 

লন্ডন: লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ এবং পার্লামেন্ট ভবনের বাইরের হামলা ইসলামপন্থীদের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই হামলার ঘটনাকে “সন্ত্রাসী হামলা” বলে দেখা হচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছিল পুলিশ।
IMG_2245লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাস-দমন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্ক রোলি জানিয়েছেন, হামলাকারী সম্পর্কে তাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল। যদিও এ নিয়ে বিশদ কিছু জানাননি তিনি।
লন্ডনে স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল পৌনে তিনটা নাগাদ দুটি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওয়েস্টমিনস্টারের সংসদ চত্বরে হামলাকারী এক পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে। পার্লামেন্ট হাউসের চত্বরেই পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীকে গুলি করে। হামলাকারী ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর উপর একটি গাড়ি নিয়ে উঠে বেশ কিছু পথচারীর উপর দিয়ে গাড়িটি চালিয়ে দেয়। এরপর গাড়িটি সেই সেতুর রেলিংএ ধাক্কা লাগে। গাড়িটি দুইজন পথচারীকে পিষে দেয় এবং তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। হামলাকারী গাড়িটি রেলিংয়ে ধাক্কা লাগার পরপরই ওয়েস্টমিনস্টার সংসদ ভবনের ফটক দিয়ে ঢুকে পড়ে এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
বুধবারের এই ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম পিসি কেইথ পালমার। ৪৮ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা বিবাহিত এবং সন্তানের জনক বলে জানিয়েছে বিবিসি। পালমার ১৫ বছর ধরে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন।
এছাড়া নিহত হামলাকারীর নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। সন্ত্রাসী হামলায় তিনজন বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। হামলার সময় একদল ফরাসি শিক্ষার্থী সেখানে ছিল এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়। তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের বাতি নিভিয়ে রাখা হয়।
এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, বিরোধী দল লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা জেরেমি করবিন। হামলার পরপরই নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র, জামার্নি ও ফ্রান্স।

এদিকে, ওয়েস্টমিনিস্টার হামলায় সন্দেহভাজন সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন। তবে এদের কারো পরিচয় প্রকাশ করেনি, কিন্তু এই ঘটনায় ইসলামপন্থীদের দায়ী করছে পুলিশ।
লন্ডন মেট্রোপলিটনের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান মার্ক রোলি বলেন, ‘বুধবার রাত থেকে কয়েকশ গোয়েন্দা কাজ শুরু করেছে। তারা ছয়টি সন্দেহভাজন জায়গার খোঁজ পেয়েছে।’
এই হামলায় নিহত হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এক নারী, ৫০ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা পিসি কেইথ পালমার এবং হামলাকারী। গুরুতর আহত সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া ২৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানান রোলি।
এক বিবৃতিতে রোলি বলেন, ‘বামিংহাম, লন্ডন ছাড়াও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে। আমরা ধারণা করছি, হামলাকারী একজনই ছিল এবং তিনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। তবে এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।’
এদিকে প্রাথমিক ভাবে এই হামলায় মোট তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহতের কথা বলা হলেও রোলি তার বিবৃতিতে মাত্র একজনের কথা উল্লেখ করেছেন।

23rd March’2017, 09:59 GMT

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *