বিপ্লব দেবকে হত্যার ছক আইএসআইয়ের! ত্রিপুরায় ধৃত বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা সদস্য


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রক্তিম দাশ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, সত্যবাণী

কলকাতা থেকে: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে হত্যার ছক করেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তাঁকে হত্যার চক্রান্তকারী আগরতলায় লুকিয়ে থাকা ওই আইএসআইয়ের স্লিপার সেলের সদস্য বাংলাদেশের এক প্রাক্তণ সেনা জওয়ান আজম খানকে (৩০) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দরা।

গত ৫সেপ্টেম্বর আগরতলার গোলচক্কর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চট্টাগ্রামের বাসীন্দা আজম ২০০৩ সালে বামফ্রন্ট আমলে তেলিয়ামুড়ার জনৈক মহিলা নেত্রীর হাত ধরে আগরতলায় পালিয়ে আসে। চট্টগ্রামের জালালাবাদ সেনা নিবাসে চাকরী করত এই জওয়ান। ২০০২ সালে ৬মাস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং করার পর জঙ্গিদের সংর্স্পশে এসে চাকরি ছেড়ে দেয় আজম।

তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে,জঙ্গিদের সঙ্গে থাকাকালীন আজম জড়িয়ে পরে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে। তাকে স্লীপার সেলের সদস্য করে আগরতলায় পাঠান হয়। এখানে এসে আজম নাম পরিবর্তন করে রাজু চৌধুরী নামে শহরের গোলচক্কর এলাকায় বসবাস শুরু করে। এখানকার বাসীন্দা সিদ্দিক মিয়া ও হাসিব মিয়ার কাছ থেকে প্লামিংয়ের কাজ শেখে। এই কাজের সুবাধে ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায় আজম ওরফে রাজু। কিন্তু তার আসল কাজ ছিল প্লামিং মিস্ত্রির আড়ালে সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা। একই সাথে রাজ্যের মুসলিম যুবকদের মধ্যে জেহাদি ভাবধারা প্রচার করা। এছাড়াও বাংলাদেশে জঙ্গিদের সীমান্ত পারাপার করা, অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান ও জাল নোট চক্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিল বলে আজম জেরায় স্বীকার করেছে বলে সূত্রে খবর।

পুলিশ সূত্রের খবর,ত্রিপুরার দক্ষিণ রামনগর জেলার নাসিমা বেগমকে বিয়ে করে আজম। বিয়ের পরই স্ত্রীর উপরও অত্যাচার চালাতো এই যুবক। এই অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নাসিমা পূর্ব আগরতলার মহিলা থানায় একটি অভিযোগ করে আজমের নামে। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আসে এসব বিস্ফোরক তথ্য। জেরায় আজম আরও জানায়, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের আগরতলায় সরকারি বাসভবনেও সে প্লামিংয়ের কাজ করেছে। ওই সময় বিভিন্ন সরকারি তথ্যও আজম পাচার করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ম্যাপও সে নিয়ে নেয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। রাজ্যের গোয়েন্দা শাখার আধিকারিকরা তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গোয়েন্দা আধিকারিকদের একটি দলও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। আজম খানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধি ১২০,৪৬৮,৪৭১,৪২০ ও ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা করেছে পুলিশ।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *