খোদাকি ওয়াস্তে বারেক সাহেবকো এক ইমরান খান দিলাদো!


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Mamun al Mahtab 

অধ্যাপক  মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

প্রতি মিনিটে হেলিকপ্টার চড়ার খরচ নাকি মাত্র ৫৫ রুপি!। বাসা থেকে অফিস যাওয়া আসায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন নতুন পাকি প্রধানমন্ত্রী মহাশয়। খরচের এই হিসাবটি তার তথ্যমন্ত্রীর দেয়া। ‘বেটাতো গোয়েবলসকেও লজ্জায় ফেলবে’, ভাবেন বারেক সাহেব। মাঝে মাঝেই কেন্দ্রীয় নেতা-ফেতাদের নিয়ে এলাকায় যেতে হয় বারেক সাহেবকে। এজন্য নেতাদের পছন্দ হেলিকপ্টার। তারপরও কত কথা। ‘হেলিকপ্টারে এসি নাই কেন, এত ছোট হেলিকপ্টারে মানুষ চড়ে না ছাগল, এত শব্দেতো পাগল হতে হবে’- শুনতে হয় এমনি কত বয়ান! পকেট থেকে কচকচে নতুন হাজার টাকার নোটে হেলিকপ্টারের ভাড়া গুনেন আর মনে মনে গাল দেন বারেক সাহেব। মুখে অবশ্য ভুলেও বলা যাবে না এসব কথা। সেদিন তো এক চ্যাংরা নেতার কথায় মাথায় রক্ত চড়ে গিয়েছিল। ইদানিংকার টকশো জেনারেশনের নেতা, ভাবসাবই তাই আলাদা। হেলিকপ্টারে চড়ে ফট করে বলে বসলেন, ‘আচ্ছা বারেক ভাই আপনি একটা এভিয়েশন কোম্পানী দিয়ে দেন না কেন? আমাদের সময় মালতো কম কামাননি। এখনোতো ভালই লাইন শুনি সরকারের সাথে। আপনি হেলিকপ্টার কিনলে আমরাও তো বেশ এলাকায় আসা-যাওয়া করতে পারতাম’। অনেক কষ্টে মেজাজ সামলালেও, টেনশনে পরে যান বারেক সাহেব। কোন দিননা আবার বিদেশ থেকে নির্দেশ এসে হাজির হয়!

ক্ষমতায় এসেই নানা মুখরোচক ঘোষণা দিয়ে শিরোনাম হয়েছেন পাকি প্রধানমন্ত্রী। সরকারের পদস্থ কর্তাদের জন্য কেনা ৩২টি বিলাসবহুল গাড়ি নিলামের ঘোষণা দিয়েছেন। বাতিল করেছেন তাদের জন্য বরাদ্দ বিমানের প্রথম শ্রেনীর টিকেটও । মন্ত্রীসভার বৈঠকে দেয়া হচ্ছে র’টি আর নোনতা বিস্কিট, অথচ নিজে সকাল-বিকাল চড়ে বেরাচ্ছেন হেলিকপ্টার। হিপোক্রেসি আর কাকে বলে? পাকিস্তানে ফেসবুকে নাকি এনিয়ে সমালোচনার ঝড় চলছে। শুনেছেন বারেক সাহেব। সিএনজির ছাদে আর লেজে পাখা জুড়ে দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রীর কার্টুন পোষ্ট করছেন অনেকেই।

পাকি ক্রিকেটের এক সময়কার স্টার ইমরান খান। পেস বোলিংটা ভালই করতেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েও একশনটা ভালই দেখিয়েছেন। যতদিন ক্রিকেট খেলেছেন, ছিলেন অকৃতদার। অনেক মহিলার ঘুম কেড়েছেন এই ইমরান খান। আমাদের ক্রিকেটার ছোড়ারা যে আজ ভিনদেশী টেনিস তারকাকে উত্তক্ত করে ‘ক্রস বর্ডার ইভ টিজিংয়ের’ নজির গড়ছে, এসব শিক্ষা এরা বোধকরি এসব স্টারদের কাছ থেকেই পেয়েছে, ভাবেন বারেক সাহেব।

ক্রিকেট ছাড়ার পর বিয়ে-শাদি করে থিতু হয়েছিলেন ইমরান। সেখানেও একশনটা ছিল দারুন। ভিনদেশী ইহুদী ব্যবসায়ীর কন্যাকে বিয়ে করে এসেছিলেন আলোচনায়। বেশ একটা সেকুলার সেকুলার তকমা সেটেছিলেন তিনি। অথচ এটা যে কত বড় ভন্ডামি ছিল তার বড় প্রমাণ, ইমরানের তেহরিক ই ইনসাফ পার্টি ক্ষমতায় এসেই পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে শরিয়া আইনের প্রবর্তন করেছিল।

সেদিন ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টের অনলাইন ভার্সানে একজন পাকি-প্রেমি সরকারী কর্মকর্তার একটা লেখা পড়ে হতভম্ব হয়ে গেছেন বারেক সাহেব। লোকটা নাকি সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা। এডমিনিস্ট্রেশন ক্যাডারে আছেন। ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ন একটা দপ্তর সামলান তিনি। পত্রিকায় তিনি সরকারকে জ্ঞান দিয়েছেন পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের। যুক্তি দিয়েছেন পাকি সহযোগিতা আর এদেশে পাকি বিনিয়োগের মাধ্যমে আমাদের দেশটার কিভাবে শনৈ শনৈ উন্নতি হতে পারে। গনতন্ত্রে সবাই কথা বলবেন, লিখবেন এটাই স্বাভাবিক। ‘তাই বলে এতটা’? হাতে ক্ষমতা থাকলে বেটার পশ্চাতদেশে দশ ঘা দোররা দেয়ার বন্দোবস্ত অবশ্যই করতেন বারেক সাহেব।

কথায় আছে না ‘নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস…’। সেদিন ফেসবুকে ‘নদীর ওপারের’ আক্ষেপ দেখলেন বারেক সাহেব। ফেসবুকে ইদানিং ভাইরাল হচ্ছে পাকিস্তানের একটা টিভি চ্যানেলের একটা টকশো। ক্ষমতায় এসে ইমরান খান পাকিস্তানকে পাঁচ বছরের মধ্যে সুইডেন বানানোর ঘোষনা দিয়েছেন। এই নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সেদেশের একজন বুদ্ধিজীবি পাকিস্তানের আর বাংলাদেশের তুলনামূলক আলোচনা টেনে এনেছেন। ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জে মোট বিনিয়োগ তিনশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর করাচির ষ্টক এক্সচেঞ্জে মাত্র একশ বিলিয়ন। বাংলাদেশের রপ্তানী যেখানে চল্লিশ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তান সেখানে প্রতি বছর রপ্তানীতে আয় করে মাত্র বাইশ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭.২ শতাংশ আর পাকিস্তানের তা মাত্র ৫। ভদ্রলোক এসব তথ্য উপাত্ত দিয়ে ইমরানের কাছে আকুতি জানিয়েছেন, ‘সুইডেন না, পাঁচ বছরেও না – আগামী দশ বছরে পাকিস্তানকে ‘খোদাকি ওয়াস্তে’ বাংলাদেশ বানিয়ে দেয়ার জন্য’।

আসলে ওই সরকারী কর্মকর্তা মনে হয় ঠিকই লিখেছেন। হঠাৎই মনে হয় বারেক সাহেবের। নিজ দলে যে ঠেলাঠেলি, নেতায়-নেতায় যে গুতাগুতি, নেতৃত্বের যে অন্তঃসারশূন্যতা আর সবচেয়ে বড় কথা দলে যে নেতৃত্বশূণ্যতা, তাতে দলের এমপিরা যে আর কবে সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চে বসবে তা নিয়ে মেলা সংশয় বারেক সাহেবের। এখন শর্টকাটে ক্ষমতায় যেতে একটা ইমরানকেই দরকার তাদের, যে দরকারে বাপ-দাদার দেয়া নামও বদলে ফেলবে। ৭১’এ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হয়ে আত্মসমর্পনের দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন সেসময় পূর্ব পাকিস্তানি সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকারের গঠিত ‘বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশন’ সামরিক নেতৃত্বদানে ব্যর্থতা আর বাংলাদেশে গনহত্যা আর মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের আওতায় আনতে সুপারিশ করেছিল আরো অনেক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার সাথে সাথে এই জেনারেলকেও। জেনারেল নিয়াজির আপন ভাতিজা আজকের পাকি প্রধানমন্ত্রী ‘ইমরান খান নিয়াজির’ আসল নামটা জানেন তার কয়জন ভোটার কিংবা পাকিস্তানের কয়জন নাগরিক এ নিয়ে সন্দেহ আছে বারেক সাহেবের।

‘পাঁচ নেহিতো দাস বারাসমে খোদাকি ওয়াস্তে হামে এক ইমরান খান নিয়াজি দিলাদো’! ভাবেন বারেক সাহেব। জ্বলন্ত বেনসনটা আঙ্গুলে ধরে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিলেন খেয়াল নেই তার। হঠাৎ আঙ্গুলে আগুনের ছেকা খেয়ে ধরফরিয়ে ওঠেন তিনি। কেন যেন মনে হয় খোদা সদয় হবেন না। তার ওয়াস্তে আগামী দশ কেন একশ বছরের এদেশে আর কোন ইমরান খান নিয়াজি গদিতে বসবেনা।

লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *