ভারতের আন্দামানে বাঙালি-অবাঙালি সংঘাতের মেঘ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

রক্তিম দাশ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর,সত্যবাণী

কলকাতা থেকে: আসামের এনআরসির প্রভাব সাগর পেরিয়ে পেঁছে গিয়েছে ভারতের আন্দামান দ্বীপে। ইনারলাইন পারমিটের দাবি ঘিরে স্থানীয় অবাঙালিদের সঙ্গে বাঙালিদের সংঘাতের মেঘ ঘনিয়েছে আন্দামানে। হঠাৎ মাথাচারা দেওয়া বাঙালি বিদ্বেষ্ণ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন একদা পূর্ববঙ্গ থেকে আগত দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা বনে যাওয়া মানুষগুলো।

জানা গেছে, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে চালনার লক্ষ্যে ২০০০ সালে গঠিত হয়েছিল শেখর সিং কমিশন। এই কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল আন্দামানে বসবাসরত অধিবাসীদের অধিকার সুরক্ষিত করা। এর পাশাপাশি দ্বীপমালার জৈব বৈচিত্র রক্ষা করার সুপারিশ করেছিল এই কমিশন। কমিশনের প্রস্তাব ছিল, ১৯৭৮ সালের পর আন্দামানে আসা বাসিন্দাদের বহিষ্কার করা হবে এবং এখানে বসবাস করতে গেলে ছ’মাসের ইনারলাইন পারমিট নিতে হবে।

অসমের এনআরসির জেরে ফের ইনারলাইন পারমিটের দাবি ডঠেছে, এমনটাই জানিয়েছেন দ্বীপে বসবাসরত বাঙালিরা। তাঁদের বক্তব্য, এই ইনারলাইন পারমিটের আড়ালে রয়েছে পাকাপাকি ভাবে বাঙালিদের দ্বীপ থেকে উৎখাত করার চক্রান্ত।

F29A41D7-57AC-4E07-A086-204E592D6C20
আন্দামানের পোর্টব্লেয়ারে বাঙালি সমাবেশ। ছবি: সত্যবাণী

ইনারলাইন পারমিটের দাবিতে গত ৬সেপ্টেম্বর স্থানীয়দের সংগঠন লোকাল বর্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে আন্দামান জুড়ে হরতাল ডাকা হয়। অভিযোগ, এই হরতাল পোর্টব্লেয়ার শহরে বাঙালিদের দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দিয়ে তাঁদের মারপিট করে স্থানীয়রা। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নানা ভাবে বাঙালিদের হেনস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন নবগঠিত বাংলা জয়েন্ট অ্যাকশন ফোরামের অন্যতম নেতা ডা. রামকান্ত হালদার। তিনি বলেন, ‘ওই হরতালের বিরোধিতা করে সাংসদ বিষ্ণ্পুদ রায় সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, আন্দামান মিনি ভারতবর্ষ। এখানে সব ভারতীয় নাগরিকের প্রবেশাধিকার ও অবাধে বসবাস করার অধিকার আছে। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে লোকাল বর্ন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা তাঁর কুশপুতুল পোড়ায় ও তিনি যখন বন্ধের দিন পোর্টব্লেয়ারের কাছে ভাটুবস্তু বাজারে সামনে দিয়ে যাচিছলেন, তখন তাঁর দিকে জলের বোতল ছুড়েও মারা হয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছি। বিভিন্ন ভাবে বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে হেনস্থা করছে একদল স্থানীয় দুষ্কৃতী।’

হরতালের পরেই আতঙ্কিত বাঙালিরা সংগঠিত হন এবং তাঁরা গড়ে তোলেন বাংলা জয়েন্ট অ্যাকশন ফোরাম। এই ফোরামের পক্ষ থেকে গত ৭ অক্টোবর সমাবেশের ডাক দেওয়া হয় পোর্টব্লেয়ারে। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় ৬ হাজার বাঙালি পোর্টব্লেয়ারে মিছিল করে তেরঙা পার্কে গণসমাবেশ করেন। তাঁরা দাবি করেন, শেখর সিং কমিশনের ইনারলাইন পারমিটের প্রস্তাব তাঁরা মানছেন না।

আমরা বাঙালির বিমল রাজবংশী বলেন, ‘এখানে বাঙালিদের বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করা হচেছ। জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বাঙালি হয়েও প্রশাসনে কাজ করছেন মাত্র ২ শতাংশ বাঙালি। এখানের বাঙালিরা পূর্ববাংলা থেকে শরণার্থী হয়ে ভারত সরকারের নির্দেশে এসেছেন বসবাস করতে। তাঁদের সরকারি ভাবে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে পোর্টব্লেয়ার-সহ বিভিন্ন দ্বীপগুলিতে। কিন্তু এখানকার বাঙালিদের বড় অংশটাই নমঃশূদ্র ও তফশিলি সম্প্রদায়ভুক্ত, যাঁদের কিন্তু কাস্ট সার্টিফিকেট এখানে দেওয়া হচেছ না। বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে দ্বীপকে বাঙালিশূন্য করার চেষ্টা করা হচেছ।’

এ বিষয়ে বলতে গিয়ে বাঙালি নেতা ও সমাজসেবী সুধীর বিশ্বাস বলেন, ‘স্থানীয়রা যে মিছিল করেছিল ইনারলাইন পারমিটের দাবিতে, তাতে স্লোগান ওঠে বাঙালি হঠাও, আন্দামান বাঁচাও। এটা বাঙালিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যদিও তাঁরা পরে সংবাদপত্রে সাফাই দিয়েছে, বাঙালি নয়, তাঁরা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর কথা বলেছেন। কিন্তু এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পুনর্বাসন পাওয়া বাঙালিরা ভীত, আতঙ্কিত হন। কারণ তাঁরা প্রত্যেকেই এখন ভারতের নাগরিক। তবে বাঙালিদের এই মিছিলের পরে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শ্না হয়েছে। তবে যদি ফের এ ধরনের কোনও দাবি তোলা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে বাঙালিরা।’

 

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *