গ্রেনেড হামলা রাষ্ট্রের আদর্শের বিরুদ্ধে আঘাত: তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের বিচারের আওতায় আনা উচিত


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Ruhul Quddus Babul রুহুল কুদ্দুস বাবুল

 
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আর অন্যসব অপরাধ যা নিত্যদিনের যেমন-খুন,ধর্ষন,লুট ইত্যাদির মধ্যে আকাশসম একটা পার্থক্য আছে। সেটা হলো রাজনৈতিক। এ হামলার রাজনৈতিক তাৎপর্য স্পষ্ট, যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞ বিচারক উল্লেখ করেছেন।
এ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে দুটি অপশক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ১। মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্টি, যারা দেশকে আফগানিস্তান বানাতে তৎপর, ২। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের খুনিচক্র যারা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের আদর্শ বদলে দিয়ে পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল এবং ৭১-এর মানবতা বিরুধী অপরাধী দলকে ক্ষমতার মসনদে নিয়ে এসেছিল। উভয় পক্ষই আমাদের মহান মু্ক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত রাস্ট্রীয় আদর্শ- গণতন্ত্র,সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুধি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরুধী অপশক্তিকে পুণর্বাসিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরুধি পাকিস্তানি আদর্শ পূণঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়ার হীন চেষ্টা করেছে। তার স্ত্রীর নেতৃত্বের বিএনপি ২০০১-এ ৭১-এর পরাজিত মৌলবাদী দল জামাতকে সঙ্গি করে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রি বানিয়েছে। গণতন্ত্র ও মানবতাবিরুধি জামাতের প্ররোচনায় আন্তর্জাতিক মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্টিকে রাস্ট্রীয় প্রশ্রয় ও পৃষ্টপোষকতা দিয়ে দেশে সন্ত্রাসবাদি তৎপরতা শুরু করেছিল। অতি সন্তর্পণে অপরাজনীতির উদরেই জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়ে একে বিকশিত হওয়ার সব সুযোগ করে দিয়েছিল ।
এ জঙ্গিগোষ্টি প্রথম টার্গেট করে আঘাত হানতে শুরু করে বিভিন্ন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জনপ্রিয় ব্যাক্তিদের। পর্য্যায়ক্রমে হামলা করে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে, উদিচীর অনুষ্ঠানে, কমিউনিষ্ট পার্টির সমাবেশে, কবি শামসুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, বদরউদ্দীন কামরান,বৃটিশ রাস্ট্রদূত, বিভিন্ন মাজারে, এমন কি আদালতে, বিচারকের উপর। সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মুলধারার বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের উপর। এ দলের মূল নেতা জাতীর জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রধান নেতাদের একমঞ্চে হত্যার চেষ্টা। এটা শতভাগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হামলা। যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জঙ্গিদের দ্বারা হামলা করানো হয়েছে। পাকিস্তান থেকে গ্রেনেড আনা হয়েছে। পাকিস্তানি জঙ্গিরা সরাসরি জড়িতও ছিল। হামলার পর তাদেরই বানানো অপরাধিদের নিরাপদ করার নগ্ন চেষ্টার সব ধরনের পন্থাই অবলম্বন করেছে। তৎকালিন ডিজএফআই প্রধান জেনারেল রুমির সাক্ষ্য থেকে প্রমানিত। বিএনপি-জামাত জোট সরকার সুস্থ মস্তিস্কে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছ, এখানে কোন রাখঢাক নেই।
ইতিহাসের জঘন্যতম নির্মম এ হামলায় ২৪ জন মানুষ প্রাণ হারায়, শতাধিক আহত অনেকেই ক্ষত নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে এখনও বেঁচে আছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর এর বিচার সম্পন্ন হয়েছে, বিচারের রায়ও হয়েছে। আমার মনে হয় ন্যুনতম বিবেকসম্পন্ন মানুষ এ রায়ে খুশিই হয়েছেন। কিন্তু অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম কিছু ডাকসাইটে রাজনীতিবিদ বিভিন্ন টকশো কিংবা সাংবাদিকদের কাছে রায়ে সন্তুষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে তোতলাচ্ছেন ! অথচ হামলার পর তাদের বলিষ্ঠ প্রতিবাদী ভুমিকা ছিল। যদি সেদিন হামলাকারীরা সফল হতো, আজ তারা তোতলাতেও পারতেন না। সবার আগে কচুকাটা করতো তাদেরকেই। পৃথিবির ইতিহাস তাই বলে।
যে যুদ্ধাপরাধী ও লুটেরা মাফিয়াচক্র সেদিন রাস্ট্রের ক্ষমতার মসনদে ছিল তারা জেনেবুঝেই দেশটা জঙ্গিদের দখলে দিয়েই দিয়েছিল। তৎকালীন শাসকদলকে রাস্ট্রবিরুধি কাজের জন্য বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ। এদের আর রাজনীতি করার অধিকার নেই।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, রাস্ট্রীয় সন্ত্রাস। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল নিঃসন্দেহে একটি সন্ত্রাসবাদী দল। যুদ্ধাপরাধী ও সন্ত্রাসবাদী দুই দলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবি।

লেখক: রাজনীতিক, সাবেক ছাত্রনেতা

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *