গণতন্ত্রের যাত্রায় বাংলাদেশ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Ruhul Quddus Babul রুহুল কুদ্দুস বাবুল

 

লন্ডন: ভারতের স্বাধীনতার পর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সমাজতন্ত্রি নেতা জয়প্রকাশ নারায়নকে ডেকে বলেছিলেন -” নারায়নজী, হয় আপনি আমার মন্ত্রিসভায় যোগদিন নইলে পার্লামেন্টে এসে শক্তিশালি বিরোধীদল গঠন করুন। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে গঠনমূলক বিরোধীতার স্থানটি শূন্য থাকলে অগণতান্ত্রিক ও ধ্বংসাত্মক অপশক্তি এসে সে স্থান দখল করে। ”
স্বাধীন বাংলাদেশে ন্যাশনাল আওয়ামি পার্টি (ন্যাপ, মোজাফ্ফর) এ সত্যটি উপলব্ধি করতে পারেনি কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুণর্গঠনে দেশপ্রেমিকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। যার ফলাফল জহরলাল নেহরু তাঁর দেশের জন্য যে সতর্কবাণী দিয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা শতভাগ সত্য হয়ে যায়। রব-জলিলের নেতৃত্বে জাসদ নামক দলটি অপরাজনীতি অর্থাৎ ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু করে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যে কুচক্রিমহল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল তাদের ষড়যন্ত্র সুনিপুণভাবে সফল হয়।
ন্যাপ (মোজফ্ফর) যদি তখন আওয়ামীলীগ সরকারের দ্বিতীয় গ্রেডের সহযোগি না হতো, যদি সত্যিকারের বিরোধীদল হওয়ার চেষ্টা করতো তাহলে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ হতেন সংসদের ভিতরে এবং বাইরে গঠনমূলক বিরোধীদলের নেতা। আওয়ামিলীগ নেতা বঙ্গবন্ধুও যদি তেমনটি চাইতেন, তাহলে বাংলাদেশ আজকের পরস্থিতিতে হয়তো পতিত হতোনা।
গণতন্ত্রের যাত্রায় হোচট খায় স্বাধীন বাংলাদেশ – ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদীত নেতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে। মূলত ৭১-এর পরাজিত অগণতান্ত্রিক অপশক্তি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সমস্থ মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে দেশ চালাতে থাকলো পাকিস্তানি আদর্শে।
৯০ সালে দেশের গণতন্ত্রকামী জনতা জেঁকে বসা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে আবার গণতন্ত্রের পূণর্যাত্রা শুরু করে। কিন্তু অচীরেই জনগণের স্বপ্নভঙ্গ শুরু হয়। “উত্তম লস্করই, উত্তম তস্কর ” স্বৈরাচারের লস্করদের নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে জিতিয়ে আনা হয়। এ তস্কররাই আবার কলকাঠি নাড়তে থাকে। ষড়যন্ত্রই যেন বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গি। এ দেশের রাজনীতিবিদরাই ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে বারবার দেশকে ভয়ংকর অবস্থায় ফেলে দেয়।
বহুমুখি ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে দেশ এগিয়েছেও অনেকটা।
উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই করতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। সব গণতান্ত্রিক দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে নির্বাচন গণসম্পৃক্ত হবে। অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে। নির্বাচন গ্রহনযোগ্য ও অর্থবহ হবে। একটা অংশগ্রহনমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনই গণতন্ত্রের যাত্রাপথ সুগম করে জাতীয় অগ্রগতি টেকসই করতে পারে।
জাতীয় সংলাপ রাজনীতিতে যে শুভ সুচনা করেছে, যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ তৈরি করেছে সে পথেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটাই কাম্য।
গণতন্ত্রের জয় হোক। জনতার জয় হোক। বাঙালির জয় হোক। জয় বাংলা।

লেখক: রাজনীতিক, সাবেক ছাত্রনেতা

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *