ব্রিটিশ মিডিয়ায় ফলাও রিপোর্টঃ ব্রিটেনে দন্ডিত প্রতারক বাংলাদেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
সত্যবাণী

লন্ডন: প্রতারণা ও জালিয়াতী মামলায় ব্রিটেনের আদালতে দন্ডিত একজন বাংলাদেশীর দুর্নীতি বিরোধী স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হওয়া নিয়ে তালপাড় শুরু হয়েছে মূলধারার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমে। বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ সম্বলিত ঐ প্রতারকের একটি ছবিসহ বৃহস্পতিবার ‘ব্রিটেনে ১০ বছরের দন্ডপ্রাপ্ত প্রতারক পালিয়ে গিয়ে দুর্নীতি বিরোধী স্লোগানে বাংলাদেশে এমপি প্রার্থী হচ্ছে’ শিরোনামে প্রকাশিত  ‘ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড’ এর এক রিপোর্টে বলা হয়, ‘জামীন প্রাপ্ত ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতারণা মামলার আসামী পালিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করছে। 

6339429F-8D68-44F9-9EA6-E494645FA362রিপোর্টে বলা হয়, নিজ গ্রুপের বিরুদ্ধে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতারণা মামলা আদালতে শুনানীকালীন সময়ে পাসপোর্ট জমা দিয়ে জামীনপ্রাপ্ত হন আবুল কালাম মোহাম্মদ রেজাউল করিম নামের (একেএম রেজাউল করিম) ঐ আইনের ছাত্র ও তাঁর সহযোগীরা। কিন্তু পরবর্তীতে ভূয়া ডকুমেন্ট ব্যবহার করে এক সহযোগিসহ করিম পালিয়ে যান বাংলাদেশে। প্রতারক গ্রুপের মূল হোতা একেএম রেজাউল করিম এখন দূর্নীতি বিরোধী স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন,  ব্রিটিশ রাজস্ব বিভাগের (এইচএমআরসি) সিনিয়র তদন্ত কর্মকর্তা এলিসন চিপার্টন ইভিনিং ষ্ট্যান্ডার্ডের রিপোর্টে এমন মন্তব্য করেন। দীর্ঘ ৩৫ সপ্তাহের শুনানী শেষে গত ২৩শে নভেম্বর, শুক্রবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট একেএম রেজাউল করিমকে সাড়ে দশ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করে, এমন তথ্য জানিয়ে  ইভিনিং ষ্ট্যান্ডার্ডের রিপোর্টে বলা হয়, ‘এই দন্ডিত প্রতারক বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে দূর্নীতি বিরোধী স্লোগানে দক্ষিন-পশ্চিম বাংলাদেশের পিরোজপুর থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছে’। আগামী মাসের নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে করিম ফেইসবুকে ব্যাপক কেম্পেইন করছে, এমনটিও জানানো হয় রিপোর্টে।

উল্লেখ্য, জালিয়াতী ও প্রতারণার দায়ে গত ২৩শে নভেম্বর, শুক্রবার একেএম রেজাউল করিম ও অন্য তিন বাংলাদেশীসহ মোট পাঁচজনকে    সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট কারাদন্ড দিলে ব্রিটেনের মূলধারার সংবাদমাধ্যম গুলোতে তা ফলাও করে প্রচার হয়। জালিয়াতীর মাধ্যমে ব্রিটিশ ভিসা পাইয়ে দেয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার পাউন্ডের কর ফেরত সুবিধা নেয়ার অভিযোগে ৪২ বছর বয়স্ক একেএম রেজাউল করিমকে সাড়ে দশ বছর,  এনামুল করিমকে (৩৪) নয় বছর চার মাস,  কাজী বরকত উল্লাহকে (৩৯) পাঁচ বছর দশ মাস, তমিজ উদ্দিনকে (৪৭) আড়াই বছর এবং জলপা ত্রিভাদিকে (৪১) তিন বছরের কারাদন্ড দেয় আদালত। ত্রিভাদি ছাড়া অন্য তিন দন্ডিত ব্যাক্তি বাংলাদেশী। এই চক্রের মূল হোতা ছিলেন দুর্নীতি বিরোধী স্লোগানে বিএনপির এমপি হয়ে বাংলাদেশের সংসদে যেতে ইচ্ছুক একেএম রেজাউল করিম। অপর দন্ডপ্রাপ্ত আসামী এনামুল করিম তাঁর শ্যালক।

দীর্ঘ ৩৫ সপ্তাহের আদালত শুনানী সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে জালিয়াতী ও প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটায় রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন এই চক্র। তারা ‘টিআর-১’ এ ভিসা পাইয়ে দিতে আবেদনকারীদের কাছে ভূয়া ডকুমেন্ট বিক্রি করতো। ৭৯টি কোম্পানী খোলার মাধ্যমে ভূয়া ডকুমেন্ট সরবরাহ করে প্রায় ৯শ বাংলাদেশীর ভিসার আবেদন করে এই চক্র। শুধু তাই নয় প্রতারণার মাধ্যমে ১লাখ ৭২ হাজার পাউন্ডের ট্যাক্স ফেরত সুবিধা আদায় করে তারা।

এইচএমআরসি’র তথ্য মতে এই প্রতারক চক্র ছয় বছরে কর ফেরত সুবিধা বাবদ ১ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। আসামীদের দন্ড প্রদান করতে গিয়ে বিচারক মার্টিন গ্রিফিন বলেন, ‘এদের উদ্দেশ্য ছিলো হোম অফিসকে বোকা বানিয়ে ভিসা পাইয়ে দেয়া এবং সেটি কাজ করেছে’। সরকারী আইনজীবি জুলিয়ান ক্রিস্টোফারের দেয়া তথ্য মতে একেএম রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন প্রতারক গ্রুপের সরবরাহ করা ভূয়া ডকুমেন্টের বদৌলতে মোট ১৮জন ভিসা পেয়েছেন, যাদের তিনজন ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব এবং দুইজন পেয়েছেন ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি। 

ছবি: ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *